শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২০, ০১:১৯ অপরাহ্ন

আহসান হাবীব

প্র : আহসান হাবীবের জন্ম সন কত?
উ : ২.১.১৯১৭।
প্র : তাঁর জন্মস্থান কোথায়?
উ : শঙ্করপাসা গ্রাম, পিরোজপুর।
প্র : তিনি মূলত কী ছিলেন?
উ : কবি ও সাংবাদিক।
প্র : তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা কতটুকু?
উ : বরিশাল ব্রজমোহন কলেজে আই, এ পর্যন্ত অধ্যায়ন।
প্র : তাঁর শো কী ছিল?
উ : সাংবাদিকতা।
প্র : তিনি কোন গুরুত্বপূর্ণ সমাবেশে স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন?
উ : এরশাদের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনুষ্ঠিত এক বুদ্ধিজীবী সমাবেশে; ৭ই ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৩।
প্র : তাঁর কবিতায় কোন দিকটি শিল্প সম্মতভাবে পরিস্ফুট হয়েছে?
উ : গ্রামীণ ঐতিহ্যমন্ডিত সামাজিক বাস্তবতা, মধ্যবিত্ত মানুষের সংগ্রামী চেতনা ও সমকালীন যুগ-যন্ত্রণা।
প্র : তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের নাম কী?
উ : রাত্রিশেষ (১৯৪৭)।
প্র : তাঁর প্রকাশিত অন্য গ্রন্থগুলির নাম কী?
উ : কাব্যগ্রন্থ: ছায়া হরিণ (১৯৬২), সারা দুপুর (১৯৬৪), আশায় বসতি (১৩৮১), মেঘ বলে চৈত্রে যাবো (১৯৭৬), দুই হাতে দুই আদিম পাথর (১৯৮০), প্রেমের কবিতা (১৯৮১), বিদীর্ণ দর্পণে মুখ (১৯৮৫); উপন্যাস: অরণ্যে নীলিমা (১৯৬২), রানী খালের সাঁকো (১৯৬৫); শিশুতোষ গ্রন্থ: ছোটদের পাকিস্তান (১৯৫৪), বৃষ্টিপড়ে টাপুর টুপুর (১৯৭৭), ছুটির দিন দুপুরে (১৯৭৮)।
প্র : ‘রাত্রিশেষ’ কাব্যগ্রন্থের পরিচয় দাও।
উ : আহসান হাবীবের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। প্রকাশ: এপ্রিল, ১৯৪৭; কলকাতার কমরেড পাবলিশার্স থেকে। এই কাব্যগ্রন্থে প্রহর, প্রান্তিক, প্রতিভাস, পদক্ষেপ এই চার ভাগে কবিতাগুলো বিন্যস্ত। মোট কবিতার সংখ্যা ২৮। কাব্যগ্রন্থে কবি আত্ম-অনুসন্ধানে ব্রতী। তিনি কবিতার পথ সন্ধান করেছেন এখানে। গ্রাম ও নগর উভয় কেন্দ্রিক কবিতা এখানে আছে।
প্র : ‘ছায়াহরিণ’ কাব্যগ্রন্থের পরিচয় দাও।
উ : গ্রন্থটি ১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা থেকে প্রকাশিত। মোট কবিতার সংখ্যা ২৪। এ কাব্যে তাঁর সমাজ-সচেতনতা প্রকাশিত। ঐতিহ্যাশ্রয়ী কবি এখানে বণিক সভ্যতার রুদ্র রূপ দেখেছেন। তিনি গ্রামীণ অনুষঙ্গে স্থিত হতে চেয়েছেন।
প্র : ‘সারা দুপুর’ কাব্যগ্রন্থের পরিচয় দাও।
উ : ১৯৬৪ সালে ঢাকা থেকে ‘সারা দুপুর’ প্রকাশিত। অনেকের মতে আহসান হাবীবের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ। মোট কবিতার সংখ্যা ২৬। কাব্যভাষা, ঐতিহ্যান্বষণ ও বক্তব্য প্রকাশে কবি এখানে পরিপক্ব।
প্র : ‘আমি কোন আগন্তুক নই’ কবিতার বিষয়বস্তু কী?
উ : ‘দুহাতে দুই আদিম পাথর’ (১৯৮০) কাব্যগ্রন্থের শেষ কবিতা এটি। কবিতাতে শহুরে মানুষের গ্রামে ফেরার কথা আছে। গ্রামীণ অনুষঙ্গসমূহ এই শহুরে মানুষকে সন্দেহ না করলেও সেই মানুষ সাক্ষী মানছে গ্রামীণ নানা কিছু। ‘আমি কোন অভ্যাগত নই’ একথা বোঝাতে শহুরে মানুষ তাই বলছে: ‘আসমানের তারা সাক্ষী, সাক্ষী এই জমিনের ফুল…’ ইত্যাদি।
প্র : ‘অরণ্য নীলিমা’ উপন্যাসের পরিচয় দাও।
উ : উদীয়মান মুসলমান মধ্যবিত্ত বাঙালি সমাজের প্রতিনিধি এক তরুণ চিত্রশিল্পী ও তাঁর স্ত্রীর মনোজাগতিক সংকটকে উপজীব্য করে রচিত আহসান হাবীবের ‘অরণ্য নীলিমা’ উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৬২ সালে। এটি আহসান হাবীব রচিত একমাত্র উপন্যাস।
প্র : তিনি কোন পত্রিকার সাহিত্য সম্পাদক ছিলেন?
উ : অধুনালুপ্ত দৈনিক বাংলা পত্রিকার।
প্র : তিনি কী পুরস্কার লাভ করেন?
উ : বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬১) ও একুশে পদক (১৯৭৮)।
প্র : তাঁর মৃত্যু তারিখ কত?
উ : ১০.৭.১৯৮৫।


পোস্টটি শেয়ার করুন...

© BengaliGrammar.Com
Maintenance by BengaliGrammar.Com