September 27, 2021, 1:15 am

আ দিয়ে বাগধারা ও বাক্য প্রয়োগ তৈরি

আক্কেল গুড়–ম (বুদ্ধি লোপ) : কালকের ছেলে মতি, সে তোমার টাকা কেড়ে নিল, শুনে তো আমার আক্কেল গুড়–ম।
আক্কেল গুড়ুম (হতবুদ্ধি হওয়া) : প্রাইমারি ছাত্রদের কড়া কথা শুনে আমরা আক্কেল গুড়ুম হয়ে গেলাম।
আক্কেল সেলামি (বোকামির শাস্তি) : নান্নু টিকিট না কেটে ট্রেনে উঠে ১০ টাকা আক্কেল সেলামি দিয়েছে।
আক্কেল সেলামী (বোকামির শাস্তি): বিনা টিকেটে রেল ভ্রমণ করতে গিয়ে ধরা পড়ে তার দশ টাকা আক্কেল সেলামী দিতে হল।
আকাশ কুসুম (অসম্ভব কল্পনা) : হাতে নেই এক পয়সা অথচ দশতলা দালান বানাবে, এ আকাশ কুসুম কল্পনা।
আকাশ থেকে পড়া (অবাক হওয়া) : মরিয়ম পরীক্ষায় প্রথম হয়েছে শুনে আমিতো একেবারে আকাশ থেকে পড়লাম।
আকাশ থেকে পড়া (না জানার ভান করে বিস্ময় প্রকাশ করা): ওহে ছেলের ফেলের কথা শুনে তুমি আকাশ থেকে পড়লে যে।
আকাশ পাতাল (ব্যবধানের বিশালতা) : দু’ভাইয়ের মধ্যে একেবারে আকাশ পাতাল তফাত।
আকাশ ভেঙে পড়া (সহসা গুরুতর বিপদ আসা) : পিতার মৃত্যু সংবাদে শামিমের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ল।
আকাশ-কুসুম (অসম্ভব কল্পনা): বসে বসে আকাশ-কুসুম ভেব না, কাজ কর।
আকাশে তোলা (অযথা গৌরব দান) : রহিমা যে মানের ছাত্রী অহেতুক প্রশংসা করে তাকে আকাশে তোলা ঠিক নয়।
আকাশে তোলা (অতি প্রশংসা করা) : কাউকে আকাশে তোলা ঠিক নয়, তাতে সে নষ্ট হয়।
আকাশে তোলা (অতিরিক্ত প্রশংসা করা): এসব বলে বাবাজীকে আকাশে তুল না, তাহলে লেখাপড়া ভেস্তে যাবে।
আকাশ-পাতাল (ব্যবধানে বিশালতা): কিসে আর কিসে তুলনা করেছ ভাই। উভয়ের মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাৎ।
আকশের চাঁদ (বহু আকাক্সিক্ষত বস্তু) : দশ বছর পরে হারানো ছেলেকে খুঁজে পেয়ে মা যেন আকাশের চাঁদ হাতে পেয়েছে।
আগুন নিয়ে খোলা (ভয়ংকর বিপদ) : আতাহারের সাথে বিরোধ করা আর আগুন নিয়ে খেলা করা একই কথা।
আগুন লাগা সংসার (ক্ষয়িষ্ণু সংসার) : আগুন লাগা সংসারে কোন সুখ নেই।
আগুন লাগা সংসার (নষ্ট হচ্ছে এমন সংসার): তোমার এই আগুন লাগা সংসারে উন্নতি হবে কি করে বলত?
আগুনে ঘি ঢালা (রাগ বাড়ানো) : তুমি অন্তর টিপুনি বা মর্মপীড়াদায়ক কথা বলে আর আগুনে ঘি ঢেলো না।
আঙ্গুল ফুলে কলা চাছ (হঠাৎ ধনী হওয়া): হঠাৎ আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হলেই ধরাকে সরা জ্ঞান করতে নেই।
আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ (হঠাৎ ধনবান) : মুক্তিযুদ্ধের পর পরই অনেকের অবস্থাই আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে।
আট কপালে (হতভাগ্য) : হাসানের মতো আটকপালে আর কেউ নেই, এখনও পরীক্ষায় পাস করতে পারেনি।
আট ঘাট বাঁধা (সব দিক থেকে আত্মরক্ষা) : ইংরেজরা আটঘাট বেঁধেই পলাশীর যুদ্ধ করেছিল।
আঠার মাসে বছর (দীর্ঘসূত্রিতা): তুমি একটি কুড়ের বাদশাহ তোমার আঠার মাসে বছর, তোমার দ্বারা এ কাজ হবে না।
আঠারো মাসে বছর (অলস স্বভাব) : আঠারো মাসে বছর যার, কোনো কাজই শেষ হয় না তার।
আঁতে ঘা (মনে ব্যথা দেওয়া): দিপু তোমার আঁতে ঘা দিয়ে কথা বলেছে, তুমি কাপুরুষ বলে এখনো চুপ করে রয়েছ?
আঁতে ঘা লাগা (মনে কষ্ট পাওয়া) : সত্য কথা বলাতে দুলুর আঁতে ঘা লেগেছে।
আদাজল খেয়ে লাগা (উঠে পড়ে চেষ্টা করা) : প্রথমবার ফেল করার পর করিম এবার আদাজল খেয়ে লেগেছে।
আদা-জল খেয়ে লাগা (কোমর বেঁধে লাগা): আনোয়ার গতবার পরীক্ষা ভাল করেনি তাই এবার আদা-জল খেয়ে পড়তে লেগেছে।
আদার বেপারী (সামান্য বিষয়ে ব্যস্ত ব্যক্তি): কিহে, তুমি আদার বেপারী হয়ে জাহাজের খবর নিতে চাও? লাভ কিছুই হবে না।
আদার ব্যাপারি (তুচ্ছ ব্যক্তি) : তুমি সামান্য একজন আদার ব্যাপারি হয়ে জাহাজের খবর রাখ কি করে?
আদায় কাঁচকলায় (ঘোর শত্রুতা): খালিদ ও রফিকের মধ্যে মুখ দেখাদেখি পর্যন্ত নেই; উভয়ের সম্পর্কটা একেবারে আদায় কাঁচকলায়।
আদায় কাঁচকলায় (ভীষণ শত্রুতা) : দু’ভায়ের মধ্যে আদায় কাঁচকলার সম্পর্ক, কেউ কারোর নাম পর্যন্ত শুনতে পারে না।
আদিখ্যেতা (ন্যাকামি): আদিখ্যেতা করিসনে বাপু, আমাকে এখনই ট্রেন ধরতে হবে, তোর আদিখ্যেতা দেখলে গা জ্বলে।
আধা খেঁচড়া (বিশৃঙ্খলা): যা করবে বাপু ভাল করে করো, আধা খেঁচড়া করো না।
আঁধার ঘরের মানিক (প্রিয়বস্তু) : কামাল একমাত্র পুত্র হিসেবে মা-বাবার আঁধার ঘরের মানিক।
আঁধার ঘরের মানিক (প্রিয়বস্তু): একমাত্র পুত্রটি ছিল বিধবা মাতার আঁধার ঘরের মালিক, সে-ও এমনি মাকে ফাঁকি দিল।
আপন কোলে ঝোল টানা (স্বার্থ) : নজির স্বার্থপর লোক, সব সময় সে আপন কোলে ঝোল টানে।
আপন পায়ে কুড়োল মারা (নিজের অনিষ্ট করা): কুসংসর্গে মিশে তুমি নিজেই নিজের পায়ে কুড়োল মারছ।
আমতা আমতা করা (পরিষ্কার উত্তর দিতে না পারা) : সঠিক জ্ঞান না থাকায় কোন বিষয়ে প্রশ্ন করলেই মানুষ আমতা আমতাভাবে তার জবাব দেয়।
আমড়া কাঠের ঢেঁকি (অপদার্থ) : তপনকে দিয়ে এ কাজ হবে না, কারণ সে একটা আমড়া কাঠের ঢেঁকি।
আমড়া কাঠের ঢেঁকি (অপদার্থ): রহিম ভাই অযোগ্য, তার মত আমড়া কাঠের ঢেঁকি দিয়ে কাজ হবে না।
আমড়াগাছি করা (তোষামোদ করা) : তোহা আজকাল আমড়াগাছি করে সব কাজ হাসিল করে।
আমড়াগাছি করা (তোষামোদের বাড়াবাড়ি করা): চতুর ব্যক্তিরা নির্বোধ ধনী লোককে আমড়াগাছি করে নিজেদের কাজ হাসিল করে।
আলালের ঘরের দুলাল (খুব আদুরে ছেলে) : শাওন তার বংশের আলালের ঘরের দুলাল, তাকে দিয়ে কোন কাজই হয় না।
আলালের ঘরের দুলাল (ধনীর সযত্নে লালিত সন্তান): তুমি হচ্ছ আলালের ঘরের দুলাল, এত কষ্ট করে হোটেলে থাকতে পারবে না।
আষাঢ়ে গল্প (গাঁজাখুরী গল্প) : রহিম তুমি তোমার আষাঢ়ে গল্প রেখে এখন আসল কথা বল।
আষাঢ়ে গল্প (গাঁজাখুরে): আজ বৃষ্টির দিনে ভাই আষাঢ়ে গল্প না হলে ভাল কাটে না।
আসমান-জমিন ফারাক (অনেক প্রভেদ): বিদেশের তৈরি জিনিসের সঙ্গে আমাদের তৈরি জিনিসের আসমান-জমিন ফারাক।
আসর গরম করা (সভাজনদের মধ্যে উদ্দীপনা সৃষ্টি): যাকে বলে আসর গরম করা বক্তৃতা, তাই দিয়ে সভাপতি সাহেব সকলকে মাতিয়ে তুললেন।
আসরে নামা (আবির্ভূত হওয়া): এতক্ষণ একটি কথাও বলেনি, এখন আসরে নেমে গেল।
আসরে নামা (কাজে অবতীর্ণ হওয়া): ওহে, আসরে যখন নামইেত হবে তখন ঘোমটা দিলে কি চলে।
আসলে মুষল নেই, ঢেঁকি ঘরে চাঁদোয়া (ঠিকমত ব্যবস্থা গ্রহণের অভাব): নিজের সংসারে নজর নেই, উনি গেছেন বন্ধুর সংসার আগলাতে আসলে মুষল নেই, ঢেঁকি ঘরে চাঁদোয়া।
আহলাদে আটখানা (অত্যন্ত খুশি): প্রাইজবন্ডে হাজার টাকা পেয়ে আহলাদে আটখানা হয়েছ দেখছি।
আড়ি পাতা (গোপনে শোনা) : ফোনে আড়ি পেতে কথা শোনা ঠিক নয়।
আড়িপাতা (লুকিয়ে শুনা): বউ আড়ি পেতে শ্বশুর-শাশুড়ির সব কথা স্বামীর কানে লাগাল।

তথ্যসূত্র: পুরাতন বইয়ের দোকান/লাইব্রেরি হতে বিভিন্ন লেখকের বাংলা ব্যাকরণ বই সংগ্রহ করে তা এখানে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।


পোস্টটি শেয়ার করুন...
© BengaliGrammar.Com
Maintenance by BengaliGrammar.Com