সোমবার, ২০ মে ২০১৯, ০৫:২৯ অপরাহ্ন

প্রতিটি ভাষায় এমন বহু শব্দ বা বাক্যাংশ আছে, যার মধ্যে অর্থগত বা ব্যবহারগত বৈশিষ্ট্য লক্ষ করা যায়। ভাষার এই জাতীয় বৈশিষ্ট্যকে বলে বাগধারা (Fiddling) বা বাগবিধি (Buggy)। বাংলা ভাষাতেও বহু বাগধারা আছে। নিচে কিছু বাগধারার উদাহরণ দেওয়া হলো :

অক্কা পাওয়া (মারা যাওয়া): প্রায় বছরখানেক ভুগে কাল রাতে রহিম সাহেব অক্কা পেয়েছেন।

অকাল কুষ্মান্ড (অকর্মণ্য): ছেলেটি বড়ই অকাল কুষ্মান্ড। ওকে দিয়ে কোন কাজ হবে না।

অতিদর্পে হত লঙ্কা (বেশি অহংকারে পতন): লোকটি ঘুষ, জুয়াচুরি করে টাকা বাজিয়ে কথা বলে, এখন কেমন ফল ফলল, অতি দর্পে হত লঙ্কা।

অন্ধের যষ্টি (একমাত্র অবলম্বন): বৃদ্ধা জননীর অন্ধের যষ্টির মত পুত্রটি অকালে প্রাণ হারাল।

অন্ধকারে ঢিল ছোঁড়া (না জেনে কিছু করা): অন্ধকারে ঢিল না ছুঁড়ে যথাস্থানে পাটকেল নিক্ষেপ করাই বাঞ্ছনীয়।

অরণ্যে রোদন (নিষ্ফল আবেদন): তার নিকট এ বিষয়ে তোষামোদ করা আর অরণ্যে রোদন করা একই কথা।

অগস্ত্য যাত্রা (শেষ প্রস্থান): শ্বশুরের সাথে ঝগড়া করে জামাতা একেবারে অগস্ত্য যাত্রা করল।

অহি-নকুল সম্বন্ধ (চিরশত্রুতা): চাচা-ভাইপোর মধ্যে একেবারে অহি-নকুল সম্বন্ধ; সামান্য ব্যাপার নিয়ে কতবার যে লড়াই হয়ে গেছে, তার ইয়ত্তা নেই।

অষ্টবজ্য সম্মিলন (প্রতিভাবান ব্যক্তিদের একত্র সমাবেশ): মওলানা আকরাম খাঁর লোকসভায় বাংলা সাহিত্যের অষ্টবজ্র সম্মিলন হয়েছিল।

অল্পবিদ্যা ভয়ঙ্করী (অল্প বিদ্যার গর্ব): অল্পবিদ্যা ভয়ঙ্করী বলেই অর্বাচনী জব্বার মিয়য়া বাংলাদেশের সেরা বৈজ্ঞানিক ড. কুদরত-ই-খুদার বৈজ্ঞানিক তত্ত্বের সমালোচনায় অগ্রসর হল।

অগাধ জলের মাছ (অত্যন্ত কৌশলী): কথাবার্তা সাদাসিধে হলেও লোকটি অগাধ জলের মাছ; ওর প্রকৃত পরিচয় পেতে একটু দেরী হবে।

অমাবস্যার চাঁদ (অদর্শনীয়): কি ভাই সাবের। তুমি যে একেবারে অমাবস্যার চাঁদ হয়ে উঠলে; কতদিন তোমাকে দেখি না।

অর্ধচন্দ্র গান (গলাধাক্কা দেওয়া): চোরটার মায়াকান্নায় কর্ণপাত করো না; বেশ করে অর্ধচন্দ্র দান করে বিদায় কর।

অগ্নিশর্মা হওয়া (অত্যন্ত রাগান্বিত হওয়া): সাহেব বড় বদমেজাজী, তাঁর কথার উপর কথা বলতেই তিনি অগ্নিশর্মা হয়ে উঠলেন।

অন্তর টিপুনি (মর্মপীড়াদায়ক): তোমার কথা শুনলে গা-জ্বালা করে, প্রত্যেক কথাতেই অন্তর টিপুনি দিতে ওস্তাদ।

অগ্নি পরীক্ষা (চরম পরীক্ষা): বাঙালি জাতি চরম অগ্নি পরীক্ষা দিয়ে জয়লাভ করেছে।

অকূলে কূল পাওয়া (নিরুপায় অবস্থা হতে উদ্ধার পাওয়া): এই ঘোরতর দুর্দিনে তোমার সাহায্য পেয়ে যেন অকূলে কূল পেলাম।

অকূল পাথার (মহাবিপদ): অকূল পাথারে খোদা তুমিই আমার ভরসা।

অনুরোধে ঢেঁকি গেলা (অসম্ভব কার্য সম্পাদন করা): কাটা খুবই কঠিন, কিন্তু এখন অধ্যক্ষের অনুরোধে ঢেঁকি গিলতে হচ্ছে।

অন্ধকার দেখা (বিপদে পড়ে ভয় ও ভাবনায় আকুল হওয়া): পিতৃমাতৃহীন আকবর দেনার দায়ে দুই চোখে অন্ধকার দেখতে লাগল।

অন্ধকারে থাকা (কোন বিষয়ে অনভিক্ষ থাকা): আমি তো সব সময়ই অন্ধকারে থাকলাম, অথচ কি দোষে আমাকে দোষী করছ।

আকাশ-কুসুম (অসম্ভব কল্পনা): বসে বসে আকাশ-কুসুম ভেব না, কাজ কর।

আক্কেল সেলামী (বোকামির শাস্তি): বিনা টিকেটে রেল ভ্রমণ করতে গিয়ে ধরা পড়ে তার দশ টাকা আক্কেল সেলামী দিতে হল।

আকাশ-পাতাল (ব্যবধানে বিশালতা): কিসে আর কিসে তুলনা করেছ ভাই। উভয়ের মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাৎ।

আক্কেল গুড়–ম (বুদ্ধি লোপ): কালকের ছেলে মতি, সে তোমার টাকা কেড়ে নিল, শুনে তো আমার আক্কেল গুড়–ম।

আঙ্গুল ফুলে কলা চাছ (হঠাৎ ধনী হওয়া): হঠাৎ আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হলেই ধরাকে সরা জ্ঞান করতে নেই।

আদায় কাঁচকলায় (ঘোর শত্রুতা): খালিদ ও রফিকের মধ্যে মুখ দেখাদেখি পর্যন্ত নেই; উভয়ের সম্পর্কটা একেবারে আদায় কাঁচকলায়।

আঁধার ঘরের মানিক (প্রিয়বস্তু): একমাত্র পুত্রটি ছিল বিধবা মাতার আঁধার ঘরের মালিক, সে-ও এমনি মাকে ফাঁকি দিল।

আদিখ্যেতা (ন্যাকামি): আদিখ্যেতা করিসনে বাপু, আমাকে এখনই ট্রেন ধরতে হবে, তোর আদিখ্যেতা দেখলে গা জ্বলে।

আদার বেপারী (সামান্য বিষয়ে ব্যস্ত ব্যক্তি): কিহে, তুমি আদার বেপারী হয়ে জাহাজের খবর নিতে চাও? লাভ কিছুই হবে না।

আধা খেঁচড়া (বিশৃঙ্খলা): যা করবে বাপু ভাল করে করো, আধা খেঁচড়া করো না।

আমড়া কাঠের ঢেঁকি (অপদার্থ): রহিম ভাই অযোগ্য, তার মত আমড়া কাঠের ঢেঁকি দিয়ে কাজ হবে না।

আসমান-জমিন ফারাক (অনেক প্রভেদ): বিদেশের তৈরি জিনিসের সঙ্গে আমাদের তৈরি জিনিসের আসমান-জমিন ফারাক।

আষাঢ়ে গল্প (গাঁজাখুরে): আজ বৃষ্টির দিনে ভাই আষাঢ়ে গল্প না হলে ভাল কাটে না।

আহলাদে আটখানা (অত্যন্ত খুশি): প্রাইজবন্ডে হাজার টাকা পেয়ে আহলাদে আটখানা হয়েছ দেখছি।

আসর গরম করা (সভাজনদের মধ্যে উদ্দীপনা সৃষ্টি): যাকে বলে আসর গরম করা বক্তৃতা, তাই দিয়ে সভাপতি সাহেব সকলকে মাতিয়ে তুললেন।

আসলে মুষল নেই, ঢেঁকি ঘরে চাঁদোয়া (ঠিকমত ব্যবস্থা গ্রহণের অভাব): নিজের সংসারে নজর নেই, উনি গেছেন বন্ধুর সংসার আগলাতে আসলে মুষল নেই, ঢেঁকি ঘরে চাঁদোয়া।

আকাশে তোলা (অতিরিক্ত প্রশংসা করা): এসব বলে বাবাজীকে আকাশে তুল না, তাহলে লেখাপড়া ভেস্তে যাবে।

আসরে নামা (আবির্ভূত হওয়া): এতক্ষণ একটি কথাও বলেনি, এখন আসরে নেমে গেল।

আদা-জল খেয়ে লাগা (কোমর বেঁধে লাগা): আনোয়ার গতবার পরীক্ষা ভাল করেনি তাই এবার আদা-জল খেয়ে পড়তে লেগেছে।

আঁতে ঘা (মনে ব্যথা দেওয়া): দিপু তোমার আঁতে ঘা দিয়ে কথা বলেছে, তুমি কাপুরুষ বলে এখনো চুপ করে রয়েছ?

আগুন লাগা সংসার (নষ্ট হচ্ছে এমন সংসার): তোমার এই আগুন লাগা সংসারে উন্নতি হবে কি করে বলত?

আপন পায়ে কুড়োল মারা (নিজের অনিষ্ট করা): কুসংসর্গে মিশে তুমি নিজেই নিজের পায়ে কুড়োল মারছ।

আলালের ঘরের দুলাল (ধনীর সযতেœ লালিত সন্তান): তুমি হচ্ছ আলালের ঘরের দুলাল, এত কষ্ট করে হোটেলে থাকতে পারবে না।

আকাশ থেকে পড়া (না জানার ভান করে বিস্ময় প্রকাশ করা): ওহে ছেলের ফেলের কথা শুনে তুমি আকাশ থেকে পড়লে যে।

আড়িপাতা (লুকিয়ে শুনা): বউ আড়ি পেতে শ্বশুর-শাশুড়ির সব কথা স্বামীর কানে লাগাল।

আঠার মাসে বছর (দীর্ঘসূত্রিতা): তুমি একটি কুড়ের বাদশাহ তোমার আঠার মাসে বছর, তোমার দ্বারা এ কাজ হবে না।

আমড়াগাছি করা (তোষামোদের বাড়াবাড়ি করা): চতুর ব্যক্তিরা নির্বোধ ধনী লোককে আমড়াগাছি করে নিজেদের কাজ হাসিল করে।

আসরে নামা (কাজে অবতীর্ণ হওয়া): ওহে, আসরে যখন নামইেত হবে তখন ঘোমটা দিলে কি চলে।

ইঁদুর কপালে (মন্দ ভাগ্য): ওরে হাফিজ, তুই ইঁদুর কপালে। একের পর এক তোর সবাই মরে গেল।

ইতর বিশেষ (প্রভেদ বা পার্থক্য): কাজী সাহেব নিজের ছেলে, আর ভাইয়ের ছেলের মধ্যে কোনরূপ ইতর বিশেষ না করে একরকম পোশাক দিতেন।

ইঁচড়ে পাকা (অকাল পক্ব): শহরে অনেক ছেলে খারাপ সঙ্গ লাভে ইঁচড়ে পেকে যায়, তাদের সঙ্গে চলতে নেই।

ঈদের চাঁদ (আকাক্সিক্ষত বস্তু): বিদেশ থেকে ছেলে ফিরে এলে বাবা-মা যেন ঈদের চাঁদ ফিরে পেলেন।

উত্তম-মধ্যম (প্রহার): চোরটাকে ভাল রকম উত্তম-মধ্যম দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

উড়নচন্ডী (অমিতব্যয়ী): উড়নচন্ডী হয়ে আর কতদিন বাপের হোটেলে কাটাবে, নিজের পায়ে দাঁড়াবার চেষ্টা কর।

উভয় সংকট (দুই দিকের বিপদ): অফিসার সাহেবের কথা রক্ষা করলেই সত্যের খেলাপ হয় আর না করলে চাকরি রাখা কঠিন: আমার হয়েছে উভয় সঙ্কট।

উড়ো চিঠি (ভিত্তিহীন পত্র বা সংবাদ): আরে বাপু এত ভীত হয়েছ কেন, এত উড়ো চিঠি, নাম নেই, ঠিকানা নেই।

উড়ে এসে জুড়ে বসা (অযাচিতভাবে এসে সর্বেসর্বা হওয়া): জীবনে যাকে দেখিনি সেই মেজ জা উড়ে এসে জুড়ে বসেছেন সংসারে।

উলুবনে মুক্তা ছড়ানো (অযোগ্য স্থানে মূল্যবান দ্রব্য রাখা): তোমার মত নির্বোধকে উপদেশ দেওয়া আর উলুবনে মুক্তা ছড়ানো এক কথা।

উপরোধে ঢেঁকি গেলা (অনুরোধে অনিচ্ছা সত্ত্বেও কিছু করা): লোকে উপরোধে ঢেঁকি গেলে, আর তুমি আমার সামান্য অনুরোধটি রাখবে না?

ঊনপঞ্চাশ বায়ু (পাগলামি): পরীক্ষা পরীক্ষা করতে করতে তার ঊনপঞ্চাশ বায়ু প্রবল হয়েছে; পরীক্ষা শেষ হলেই বাঁচি।

ঊনপাঁজুরে (মন্দভাগ্য): ঊনপাঁজুরে মেয়ের কোন আশা নেই।

এলাহি কান্ড (রাজকীয় বা খুব বড় রকমের): আরে মজিদ তোমাদের বাড়িতে এত হৈ চৈ কিসের? সব দেখছি এলাহি কান্ড।

একাদশে বৃহস্পতি (সুসময়): যেমন পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে ‘ল’ পাস, তেমনি সঙ্গে সঙ্গে মুন্সেফী চাকরি-তোমার এখন একাদশে বৃহস্পতি ভাই।

এলোপাথাড়ি (বিশৃঙ্খলা): গৃহস্বামীর এলোপাথাড়ি গুলিবর্ষণে ডাকাতদল পলায়ন করল।

এক হাত লওয়া (প্রতিশোধ): বড় সাহেবের পিছনে আর লাগবে? কেমন সে এক হাত নিয়েছে।

একচোখা (পক্ষপাত): সেলিম চৌধুরীর মত এমন একচোখা মানুষ আমি আর দেখিনি। নিজের ছেলেদের কোন দোষ তাঁর চোখে পড়ে না, যত দোষ সব ভাইয়ের ছেলেদের।

এক ঢিলে দুই পাখি মারা (এক প্রচেষ্টায় উভয় উদ্দেশ্য সাধন করা): চল, মেলাও দেখব, সওদাও করব-এক ঢিলে দুই পাখি মারা যাবে।

এক ক্ষুরে মাথা মুড়ান (একই অবস্থা বা স্বভাববিশিষ্ট): যেমন বড় ভাই তেমনি ছোট ভাই, উভয়েই এক ক্ষুরে মাথা মুড়ান; টাকার জন্য এরা করতে পারে না এমন কাজ জগতে নেই।

এসপার উসপার (মীমাংসা): আর চিন্তা করো না, হয় কাজে যোগদান কর না হয় ছাড়, একটা এসপার উসপার করে ফেল।

একা ঘরের গিন্নি (কর্তৃত্ব): তোমার ত এখন কেউ নেই রহিমা, শুধু তোমার বুড়া বাপ তুমি ত এখন একা ঘরের গিন্নি।

এক মাঝে শীত যায় না (পুনরায় বিপদ ঘটার সম্ভাবনা): আমার টাকা কয়টা নিয়ে দেখা নেই; আচ্ছা দেখা যাবে এক মাঘে শীত যায় না।

ওজন বুঝে চলা (আত্মমর্যাদা রক্ষা): আজকাল দিনকাল খারাপ, ওজন বুঝে চল, নইলে অপমানিত হবে।

ওষুধ করা (তুক করা): নিশ্চয় কোন ছোটলোক তাকে ওষুধ করেছে; নইলে তার মুখে রা নেই কেন?

ওষুধ ধরা (আকাক্সিক্ষত ফল লাভ): বড় বাবুর তিরস্কারে আবুল পড়াশুনায় মন দিয়েছে। ওষুধ ধরেছে নিশ্চয়।

ওষুধ পড়া (প্রভাবে পড়া): এবার ওষুধ পড়েছে, পড়াশুনা করছে।

কচু বনে কালাচাঁদ (অপদার্থ): পড়াশুনার নাম নেই, পোশাকের কি ঘটা। এমন কচু বনের কালাচাঁদ আর দেখিনি।

কথায় চিড়ে ভিজে না (ফাঁকা আওয়াজে কাজ হয় না): লোকের উপকার করতে গেলে শুধু কথায় চিড়ে ভিজে না কাজ দেখানো চাই।

কলুর বলদ (নির্বিকারে পরিশ্রম করা): সে না বুঝে-সুজে কেবল কলুর বলদের মত খেটে মরে।

কল্কে পাওয়া (পাত্তা পাওয়া): কেমন ভাই নতুন জামাই, বিয়ে করতে যাবার সময় আমাদের নিয়ে যাবে, এখন দেখছি, তোমার কল্কে পাওয়াই ভার হল।

ক অক্ষর গোমাংস (বর্ণ পরিচয়হীন মূর্খ): আরে বলছ কী, ব্যারিস্টার সাহেবের ছেলে হয়ে কি না ক অক্ষর গো-মাংস।

কপাল কাটা (অদৃষ্ট মন্দ হওয়া): বিধবার একমাত্র পুত্রের মৃত্যুতে তার কপাল কেটেছে।

কাজির বিচার (গোঁজামিল দিয়ে বিচার): আরে ভায়া বিবাদ তো মিটেই গেল, এ যে কাজির বিচার।

কুড়ের বাদশা (ভয়ানক কুড়ে): তুমি দেখছি একটা কুড়ের বাদশা, খেয়ে-দেয়ে গল্প ফাঁদলে সংসার চলবে কি করে?

কলির সন্ধ্যা (দুঃখের আরম্ভ): দৈনন্দিন জীবনের উপযোগী জিনিসপত্রের দাম ক্রমেই বাড়ছে কিন্তু বেতন তেমন বাড়ছে না, এত কলির সন্ধ্যা।

কংস মামা (নির্মম আত্মীয়): কংস মামার হাত থেকে উদ্ধার না পেলে আর বাঁচা নেই, জীবন যায় যায়।

কড়ায় গন্ডায় (পুরাপুরি): আপনার পাওনা আমি কড়ায় গন্ডায় মিটিয়ে দেব; চিন্তা করবেন না।

কাষ্ঠহাসি (কপট হাসি): কাষ্ঠহাসি দ্বারা পরাজিত গুপ্তশত্রু বন্ধুত্বের ভান করল।

কানাকড়ি (কপর্দক): লোকটির পকেটে হাত দিয়ে দেখিস যে, তার কানাকড়িও নেই।

কানপাতলা (যে সব কথাই বিশ্বাস করে): তুমি এত কানপাতলা লোক যে অপরের কথা শুনেই বিনা কারণে উত্তেজিত হয়ে উঠ।

কাকভূখন্ডী (দীর্ঘজীবী ব্যক্তি): কবি কায়কোবাদ প্রায় একশ বছর বেঁচে কাকভূখন্ডী হতে চেয়েছিলেন।

কই মাছের প্রাণ (যা সহজে মরে না): কই মাছের প্রাণ বই তো নয়, নইলে এক মাস উপবাস করে বেঁচে থাকে?

কাটা গায়ে নুনের ছিটা দেওয়া (ব্যথার উপরে ব্যথা দেওয়া): যথাসর্বস্ব খুইয়ে সে শোকাতুর; তার উপর র্ভৎসনা করে তার কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা দিও না।

কাঠের পুতুল (জড়বৎ নিষ্ক্রিয়): নূরজাহান স্বামীর দিকে অনুরোধের সুরে বলল, “তুমি একটু গা করো, অমন কাঠের পুতুল হয়ে বসে থেকো না।”

কাঁচা বাঁশে ঘুণ ধরা (অল্প বয়সে বিগড়ানো): শিশুকাল থেকে ছেলেদের দিকে নজর না রাখলে কাঁচা বাঁশের ঘুণ ধরবে।

কাঁচা হাত (অপক্ব): লোকটির লেখা ভাল নয়; দেকেই মনে হয় কাঁচা হাতের লেখা।

কেঁচো দিয়ে কাতলা ধরা (তুচ্ছ বস্তুর সাহায্যে অসম্ভব বিষয়কে করায়ত্ত করা): আরে! মুন্সির ছেলেটা বিয়ে করেছে জজের মেয়ে, এ দেখছি কেঁচো দিয়ে কাতলা ধরলে।

কাঁচা পয়সা (নগদ প্রচুর উপার্জন): ভাল ডাক্তার হতে পারলে কাঁচা পয়সার অভাব নেই।

কেতাদুরস্ত (পরিপাট): ওহে বাবু শুধু কেতাদুরস্ত হলেই চলবে না, কিছু বিদ্যাও থাকতে হবে।

কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলা (শত্রু দ্বারা শত্রু নাশ): আসাদ আমার বিরুদ্ধে গিয়ে কি বলবে, তার অন্তরঙ্গ বন্ধুকে আমি তার বিরুদ্ধে লাগিয়েছি, কাঁটা দিয়ে কাঁটা তুলতে জানি।

কেঁচো খুঁড়তে সাপ (তুচ্ছ বিষয় হতে গুরুতর বিষয়ের উদ্ভব): মকবুলের চুরির সামান্য ব্যাপারটার সন্ধান করতে গিয়ে পুলিশ বিমল তালুকদারের সক্রিয়তা বুঝতে পারল-এ যে কেঁচো খুঁড়তে সাপ বের হল।

কপাল ফেরা (অবস্থার উন্নতি): কন্ট্রাক্টরদের যুগ রে ভাই। তারা অল্প দিনের মধ্যেই কপাল ফেরাতে জানে।

কানে খাটো (যে কম শুনতে পায়): তুমি জানো না ও যে কানে খাটো, চেঁচিয়ে না বললে শুনবে না।

কূপমন্ডুক (সীমাবদ্ধ জ্ঞান): মহিলা কয়টি অতি শান্তশিষ্ট ও মিতভাষিণী, যদিও কূপমন্ডুক।

কেউ কেটা (তুচ্ছ যেমন তেমন-এখানে ‘সর্বেসর্বা’ অর্থে ব্যবহৃত): স্থানীয় এম. পি. সাহেব একজন কেউকেটো লোক তাকে ধরলে স্কুলের কাজটা হতে পারে।

কত ধানে কত চার (অভিজ্ঞতা অর্জন): বাপের টাকায় হোটেলে থেকে নবাবি করছ যখন নিজে রোজগার করে সংসার চালাতে হবে তখন বুঝবে কত ধানে কত চাল।

কান ভারী করা (কুপরামর্শ দান): মাতৃহীন কন্যার বিরুদ্ধে বিমাতা স্বামীর কান ভারী করল।

কান খাড়া করা (সতর্ক হওয়া): ঝোপের ধারে বাঘের গর্জন শুনে শিকারী কান খাড়া করল।

কথার কথা (প্রসঙ্গত যা বলা যায়): আমি যা বললাম তা কেবল কথার কথা, আসলে কি ঘটে, বলা যায় না।

কাঁঠালের আমস্বত্ব (অসম্ভব বস্তু): তোমার সেদিনকার আষাঢ়ে গল্পটা কাঁঠালের আমস্বত্বের মতই আমাদের উপভোগ্য হয়েছিল।

কেঁচো গন্ডুষ (পুনরায় শুরু): কবিতার সরলার্থটি কেঁচো গন্ডুষ করে লেখ।

কেবলা হাকিম (অনভিজ্ঞ): ওর মত কেবলা হাকিম দিয়ে কোন কাজ হবে না অন্য চেষ্টা করুন।

কুল কাঠের আগুন (তীব্র জ্বালা): পুত্রশোকাতুর পিতা একমাত্র পুত্রের মৃত্যুতে অন্তরে কুল কাঠের আগুন অনুভব করছে।

কোণঠাসা করা (জব্দ করা): ব্যাপারটা সম্পূর্ণ মীমাংসার পূর্বে তাকে কোণঠাসা করে কোন লাভ হবে না।

কুনো ব্যাঙ (সীমিত জ্ঞান): কুসংস্কারের বশীভূত হলে মানুষ মাত্রেই কুনো ব্যাঙ হয়ে পড়ে, স্বাধীন চিন্তাশক্তি লোপ পায়।

কালে ভদ্রে (কদাচিৎ): কালে-ভদ্রে দেখা সাক্ষাৎ হলে আন্তরিকতা জন্মাতে পারে ন্ত না।

কুপোকাত (পরাজিত): মোহাম্মদ আলীর কাছে লিস্টন মুষ্টিযুদ্ধে একেবারে কুপোকাত হয়ে গেল।

খইয়ের বন্ধনে পড়া (মুস্কিলে পড়া): মৃত বন্ধুর দুষ্ট প্রকৃতির ছেলেকে আশ্রয় দিয়ে খইয়ের বন্ধনে পড়েছি।

খন্ডকপালে (দুর্ভাগ্য): আমরা খন্ডকপালে মানুষ রে ভাই; এত সুখ কি আমাদের সয়?

খন্ডপ্রলয় (তুমুল কান্ড): গতকল্য রহিম ও করিমের মধ্যে একটা খন্ডপ্রলয় বেঁধে গেছে।

খয়ের খাঁ (ধামাধরা): মীরজাফর ইংরেজদের খয়ের খাঁ হওয়ায় দেশবাসীর কাছে ঘৃণার পাত্র হয়েছেন।

খাল কেটে কুমীর আনা (স্বীয় দোষে বিপদে পড়া): ওর মত বদমায়েশ লোককে স্থান দিয়ে আমি যেন খাল কেটে কুমীর এনেছি, ওর জন্যই আমাকে বিপদে পড়তে হল।

খুঁড়িয়ে বড় হওয়া (আসলে বড় নয়, গায়ের জোরে বড় হওয়া): বড় লোকের ছেলের বাবুগিরির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে, গরীবের ছেলের বাবুগিরি করা খুঁড়িয়ে বড় হওয়ার মত।

গাছে না উঠতেই এক কাঁদি (কাজ না করে ফল চাওয়া): কাজ না করেই টাকা চাও এ যে দেখছি গাছে না উঠতেই এক কাঁদি।

গায়ে ফুঁ দিয়ে বেড়ানো (অন্তহীন লোক): পরীক্ষায় ফেল করে গায়ে ফুঁদিয়ে বেড়াচ্ছ, ভায়া তোমার কি ভাবনার অন্ত নেই?

গোবর গণেশ (অকর্মণ্য): বড়লোকের ছেলেদের রোজগার করে খেতে হয় না বলে তারা প্রায়ই গোবর গণেশ হয়ে থাকে।

গায়ের ঝাল ঝাড়া (শোধ লওয়া): আর কিছু পারি বা না পারি, কুকথায় পঞ্চমুখ হয়ে গায়ের ঝাল ঝাড়তে পারব।

গড্ডালিকা প্রবাহ (অন্ধ অনুকরণ): গড্ডালিকা প্রবাহে ভেসে চললে জীবনে উন্নতির কোন আশা নেই।

গায়ে পড়া (অযাচিত): তোমার গায়ে পড়া কথায় কি আসে যায়, আমরা মোটেই তাতে কোন গুরুত্ব দেই না।

গুড়ে বালি (আশায় নিরাশ হওয়া): তুমি কি মনে করেছ যে, আমার কাছে টাকা ধার পাবে, সে গুড়ে বালি।

গাছে তুলে মই সরানো (কাজে নামিয়ে সরে পড়া): বন্ধুরা স্কুল করার কাজে নামিয়ে পালিয়েছে, এ যে দেখছি গাছে তুলে মই সরানো।

গা ঢাকা দেওয়া (আত্মগোপন করা): খুনী ঘটনার পর গা ঢাকা দিয়েছে, পুলিশ তাকে খুঁজে পাচ্ছে না।

গো-মূর্খ (নিরেট মূর্খ বা বর্ণজ্ঞানহীন): হারিম সাহেবের গো-মূর্খ ছেলেটার এমন রূপসী গুণবতী বৌ জুটলো, একেই বলে ভাগ্য।

গোঁফখেজুরে (অলস): গোঁফখেজুরে যারা তাদের চিরদিনই অনুতাপানলে দগ্ধীভূত হতে হয়।

গোঁয়ারগোবিন্দ (কান্ডজ্ঞানহীন মানুষ): গোঁয়ারগোবিন্দের মত কাজ করলে ঠকতে হয়।

গন্ধমাদন বয়ে আনা (অবাস্তব বিষয়ের অবতারণা): প্রশ্নে চেয়েছে কি আর তুমি গল্পটা আগাগোড়া লিখে একেবারে গন্ধমাদন বয়ে এনেছ।

গোবরে পদ্মফুল (নীচকুলে মহৎ ব্যক্তি): কৃষকের ঘরে এমন দয়ালু ও শিক্ষিত ছেলে এ যে দেখছি গোবরে পদ্মফুল।

গৌরীসেনের টাকা (অফুরন্ত অর্থ): ভায়া, একি গৌরীসেনের টাকা পেয়েছ যে, এক ধারছে খরচ করছ, রেখে ঢেকে খরচ কর।

গায়ে মানে না আপনি মোড়ল (গ্রামবাসী না মানলেও নিজেই নিজেকে কর্তা বলে জাহির করা): তুমি বাপু ফপর দালালী করছে কেন-গাঁয়ে মানে না আপনি মোড়ল হয়ে বসেছ দেখছি।

গোড়া কেটে আগায় পানি ঢালা (জ্ঞাতসারে ক্ষতি করে পর সংশোধনের প্রয়াস): ছাত্র হয়ে পরীক্ষার হলে ওস্তাদের গায়ে হাত দিয়ে পরে ক্ষমা প্রার্থনা কর। এ যে দেখছি গোড়া কেটে আগায় পানি ঢালা।

গোল্ল ায় যাওয়া (নষ্ট হওয়া): ক্যাপ্টেন সাহেবের অমন তুখোড় ছেলে গোল্লায় গিয়েছে, সে চুপে চুপে মদ খায়।

গভীর পানির মাছ (ধূর্ত): রহমত আলীতো গভীর পানির মাছ, তার মর্ম বোঝা মুষ্কিল।

গদাই লস্করী চাল (আলসেমী): ওহে, তাড়াতাড়ি হাত চালাও, অমন গদাই লস্করী চালে কাজ করলে সব পন্ড হবে।

গায়ে গায়ে শোধ (দেনা না দেয়া-ও প্রাপ্য না লওয়া অথচ দেনা পাওনার শোধবোধ): তুমি আমার নিকট একশত টাকা পাবে, তা তোমার খোরাকি বাবদ খরচ করে গায়ে গায়ে শোধ দিতে চাই।

গায়ে কাঁটা দেওয়া (রোমাঞ্চিত হওয়া): নির্জনে গোরস্থানে দুপুর রাতে যাবার কথা শুনে দুর্দান্ত জলিলের গায়ে কাটা দিয়ে উঠল।

গোকুলের ষাঁড় (বেকার, ভবঘুরে): চৌধুরী সাহেবের মেঝো ছেলেটি লেখাপড়াও শিখেনি, অপর কোন কাজকর্মও করে না, গোকুলের ষাঁড় হয়ে সারাদিন ঘুরে বেড়ায়।

গো-বৈদ্য (হাতুড়ে): ইসলাম সাহেবের মেয়ে এবারে এক গো-বৈদ্যের হাতে পড়ে মরতে বসেছিল।

গৌরচন্দ্রিকা (ভূমিকা): গৌরচন্দ্রিকা না করে আসল কথা বল বাপু।

গাছে কাঁঠাল গোঁফে তেল (প্রাপ্তির পূর্বেই ভোগের আয়োজন): তোমার চাকরি হল তবে তুমি খাওয়াবে, আমাদের সেই আশায় বসে থাকতে হবে। এ যে গাছে কাঁঠাল গোঁফে তেলের ব্যাপার।

গণেশ উল্টান (তুলে নেওয়া): কয়েক বছর যেতে না যেতেই দোকানটি গণেশ উল্টিয়েছে।

গা তোলা (উঠা): এখন গা তুলুন, ট্রেনের সময় হয়েছে।

গাছেরও খায় তলারও কুড়ায় (সব আত্মসাৎ করা): সরকারি চাকরিতে পদস্থ কোন কোন ব্যক্তি গাছেরও খান, তলারও কুড়ান।

গা-করা (মনোযোগ দেওয়া): পরের কাজ হলেও গা-করা দরকার নচেৎ সব পন্ডশ্রম হবে।

গলগ্রহ (পরের বোঝা হয়ে থাকা): অনেক দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যক্তি পুত্র ও পুত্রবধূর গলগ্রহ হয়ে রয়েছে।

গোড়ায় গলদ (শুরুতেই ভুল): ওহে তোমার দিনতো খারাপ, তা নইলে কি গোড়ায় গলদ হয়?

ঘরভেদী বিভীষণ (যে গৃহবিবাহ বাধায়): আজিজ, ওর জন্য তুমি ত ওকালতি করছ, কিন্তু জানো, তরু একজন ঘরভেদী বিভীষণ।

ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়া (বিপদ কেটে যাওয়া): ছাত্রটির জেল হওয়ার কথা, কিন্তু মহানুভব জজ সাহেব তাকে মুক্তি দেওয়ায় শিক্ষকদের ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়ালো।

ঘোড়ার ডিম (অলীক পদার্থ): লোকটা কেমন হাড় কিপটে, তার কাছে যাচ্ছ টাকা ধার চাইতে, ঘোড়ার ডিম পাবে।

ঘোড়ার ঘাস কাটা (বাজে কর্ম করা): মনে রেখ স্কুলে তোমরা পড়াশুনা করতে এসেছ, ঘোড়ার ঘাস কাটতে আসনি।

ঘটিরাম (অপদার্থ): রিলিফের বদৌলতে কত ঘটিরাম অজস্র টাকা উপার্জন করেছে সে কথা সবারই জানা।

ঘরের ঢেঁকি কুমীর (অপদার্থ খন্ড মার্কা): ওতো একটা ঘরের ঢেঁকি কুমীর, কোন কর্ম নেই, খায় দায় আর ঘুমায়।

ঘোড়ারোগ (বাতিক, অবস্থার অতিরিক্ত বিষয়ে সাধ): চাকরি বাকরি তো কিছুই কর না, তবু প্রতিদিন টিকিট কেটে ফুটবল খেলা দেখা চাই, তোমার এ ঘোড়ারোগ কেন, বাপু!

ঘা খাওয়া (দুঃখ পাওয়া): বৃদ্ধা জীবনে অনেক ঘা খেয়ে শেষে মারা গেল।

ঘাটের মরা (অতি বৃদ্ধ): সব দোষ ওর বাপের, সে কুলাঙ্গার টাকার লোভে এমন সুন্দরী কন্যাকে ঘাটের মড়ার সাথে বিয়ে দিল।

ঘোড়া ডিঙ্গাইয়া ঘাস খাওয়া (উপরওয়ালাকে ডিঙ্গাইয়া স্বার্থ হাসিল করা): দরখাস্ত, অফিসের বড় সাহেবের হাতে দিয়ে পাঠাও ঘোড়া ডিঙ্গাইয়া ঘাস খাওয়ার চেষ্টা করো না।

ঘোড়া দেখে খোঁড়া হওয়া (শ্রমসাধ্যকার্যে সাহায্যকারী পেলে অলস হওয়া): ওহে শরীফ, দপ্তরে নতুন লোকের নিয়াগ হয়েছে বলে তোমার ঘোড়া দেখে খোঁড়া হওয়া চলবে না।

চাটিবাটি গুটান (বাস্তুত্যাগ করা): চাটিবাটি গুটিয়ে চলে যাচ্ছ যাও; বলে রাখলাম, সেখানে না খেয়ে মরতে হবে বাপু।

চক্ষু চড়ক গাছ (বিস্ময়ে হতবুদ্ধি): চোখের সামনে এমন একটা ভৌতিক কান্ড দেখে আমার চক্ষু চড়ক গাছ হল।

চাঁদের হাট (আত্মীয়সহ সুখের মিলন): ছেলেমেয়ে, নাতি-নাতনী নিয়ে প্রিন্সিপ্যাল সাহেবের সংসার চাঁদের হাট।

চশমখোর (লজ্জাহীন): তোমার মত চশমখোর লোক ভূ-ভারতে বিরল।

চূড়ার উপর ময়ূর পাখা (ভালোর উপর ভাল): করিম সাহেবের জামাতা যেমন রূপবান তেমনি বিদ্বান, যেন চূড়ার উপর ময়ূর পাখা।

চিনির বলদ (যে খাটে অথচ ফল ভোগ করতে পারে না): খাহাঞ্চী সাহেব যে চিনির বলদ, হাজার হাজার টাকার হিসাব রাখেন, কিন্তু একটি পয়সাও নেওয়ার অধিকার নেই।

চোখ টাটান (হিংসা করা): আমার ভাল দেখলেই তোমার চোখ টাটায় কেন?

চাচা আপন প্রাণ বাঁচা (আগে নিজের জীবন রক্ষা করা): বিগত স্বাধীনতা সংগ্রামে আত্মীয়-কুটুম ছেড়ে অনেক চাচা আপন প্রাণ বাঁচা বলে চলে যায়।

চুল পাকানো (অভিজ্ঞতা অর্জন): মাস্টারী করে চুল পাকালাম, তুমি এসেছ ভুল ধরতে।

চক্ষুদান করা (চুরি): পকেটমার আমার কলমটা চক্ষুদান করে নিয়ে গেল।

চোখের পর্দা বা চামড়া (লজ্জা): চোখের পর্দা থাকলে সে আমার সাথে প্রবঞ্চনা করত না।

চোখের বালি (চক্ষুশূল): সতীনের মেয়েটি নতুন বৌয়ের যেন চোখের বালি, একেবারে দেখতে পারে না ওকে।

চোখে ধূলি দেওয়া (প্রতারণা করা): আমার চোখে ধূলি দিতে চাও, এতখানি বুদ্ধি এখনও হয়নি।

চোখের মণি (অত্যন্ত প্রিয় বস্তু): বিধবা মায়ের একমাত্র ছেলেটি তার চোখের মণি।

চোরের মায়ের কান্না (যে বেদনা কাউকে জানানো যায় না): ছেলেকে চিরদিন সদুপদেশ দাওনি, পরিণামে তোমাকে চোরের মায়ের কান্না কাঁদতেই হবে।

চোরাবালি (প্রচ্ছন্ন আকর্ষণ): প্রলোভনের চোরাবালিতে সে নষ্ট হল।

চোখে অন্ধকার দেখা (নিরাশ হওয়া): ব্যাংক ফেল হওয়ায় রহমান চোখে অন্ধকার দেখতে লাগল।

চোখ পাকান (ক্রোধ দেখানো): তোমার চোখ পাকান দেখে আমি ভয় করি, তা মনে করো না।

চোখের মাথা খাওয়া (কানা বা অন্ধ): তুমি কি চোখের মাথা খেয়েছ যে, ভূগোল আনতে গিয়ে ইতিহাস এনেছ।

চিনির পুতুল (যে অল্প পরিশ্রমেই ভেঙে পড়ে): ভালভাবে পরিশ্রম কর। এইরূপ চিনির পুতুল হয়ে থাকলে শেষে মুশকিলে পড়তে হবে।

চোখে ধোঁয়া দেখা (হতভম্ব হওয়া): মামলা মকদ্দমায় হেরে তালুকদার সাহেব চোখে ধোঁয়া দেখতে লাগলেন।

চোখের নেশা (মোহ): কি চোখের নেশায় তাকে পেয়ে বসেছে।

চোখে সরষে ফুল দেখা (হতবুদ্ধি): প্রশ্নপত্র কিছুই কমন আসেনি দেখে ছাত্রটি চোখে সরষে ফুল দেখছে।

ছ’কড়া ন’কড়া (সস্তা): যুদ্ধের বাজার ছিল আগুন, কিন্তু এখন মাছ-মাংস ছ’কড়া ন’কড়া দরে বিক্রি হচ্ছে।

ছক্কা-পাঞ্জা করা (বড় বড় কথা বলা): পেটে তো বিদ্যা নেই তা আবার ছক্কা-পাঞ্জা করছ?

ছিনিমিনি খেলা (অপব্যয় করা): বড়লোকের ছেলে তো, টাকা নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে বাধে না।

ছিচ কাঁদুনে (অল্পতেই কাঁদে এমন): পারভীনের মত ছিচ কাঁদুনে মেয়ে এ সংসারে বিরল।

ছুঁচ হয়ে ঢোকে, ফাল হয়ে বেরোয় (সামান্য রূপে প্রবেশ, পরে বড় অনিষ্ট সাধন করে প্রস্থান): অল্প টাকার মায়নার চাকরিতে ঢুকে কালক্রমে অফিসের বড় সাহেবরূপে কয়েক লক্ষ টাকা চক্ষুদান দিয়ে অফিসটি যখন লালবাতি জ্বালাল তখনি বুঝা গেল যে ছুঁচ হয়ে ঢোকে, ফাল হয়ে বেরোয়।

ছেঁড়া চুলে খোপা বাঁধা (বৃথা চেষ্টা): সামান্যই আয় সংসারে, তাই ছেঁড়া চুলে খোপা বাঁধা চলে না, ওকে চাকরিতে দিয়েছি।

ছেলের হাতের মোয়া (অতি সহজ ব্যাপার): পরীক্ষায় পাস করতে হলে রীতিমত পরিশ্রম করতে হয়, এ ছেলের হাতের মোয়া নয়।

ছাই চাপা আগুন (প্রচ্ছন্ন তেজ): আহমদের ছেলেটা যেন ছাই-চাপা আগুন, একদিন সে খ্যাতি লাভ করবেই করবে।

ছা-পোষা (পোষ্যভারাক্রান্ত): ছা-পোষা কেরানী আমি, আমার কি এত শখ করলে সাজে?

ছাই ফেলতে ভাঙা কুলো (সামান্য কাজের জন্য নিযুক্ত অপদার্থ পাত্র): বড় সাহেবের ছেলেকে স্কুলে রাখার জন্য বৃদ্ধ আলম খাঁ নিযুক্ত হওয়ায় ছাই ফেলতে ভাঙা কুলোরই ব্যবস্থা হল।

চুঁচো মেরে হাত গন্ধ করা (গৃণিতকে দন্ড দিতে গেলে নিজেরই হাত গন্ধ হয়, এতে গৌরব নেই): এই দাগী চোরকে পুলিশের হাতে না দিয়ে স্বহস্তে শিক্ষা দিলে, ছুঁচো মেরে হাত গন্ধ করাই হবে।

জগদ্দল পাথর (গুরুভার): সে আমার উপর দায়িত্বের জগদ্দল পাথর চাপিয়ে নিশ্চিত হয়ে আছে।

জলে কুমীর ডাঙ্গায় বাঘ (উভয়সঙ্কট): আবুল হোসেন বড় বেকায়দায় পড়েছিল, একদিকে মাতৃআজ্ঞা লঙ্ঘনের ফলে উদ্ভূত পাপ অন্যদিকে মাতৃআজ্ঞা অমান্য করার জন্য পিতৃাদেশ, কোন দিকে যাবে ও জলে কুমীর ডাঙ্গায় বাঘ।

জগা-খিচুঁড়ি (বিশৃঙ্খলা): বাক্সের মধ্যে বই-পত্তর কাগজ সব জগা-খিঁচুড়ি করে রেখেছে।

জিলাপীর প্যাঁচ (কূটবুদ্ধি): যার পেটে এমন জিলাপীর প্যাঁচ, তাকে সব কথা আমার বলা উচিত হয়নি।

জিব কাটা (লজ্জায় দাঁত দিয়ে জিহ্বা চেপে ধরা): বিবাহ মহফিলে বরের পিতা সবার সামনে পণের টাকার উল্লেখে বর জিব কাটলো।

জাহান্নামে যাওয়া (গোল্ল ায় যাওয়া): টাকা চুরি করে এমন ভালমানুষী দেখানো হচ্ছে, জাহান্নামে যাও তুমি।

জলাঞ্জলি দেওয়া (অপব্যয় করা): শেয়ার মার্টেটে তুমি এত টাকা জলাঞ্জলি দিলে বাপু।

ঝাঁকের কই (এক দলের লোক): মওলানা ইয়াছিন বৃথাই হতভাগ্যদের জন্য অর্থ ব্যয় করেছেন, দু’দিন বাদইে দেখা যাবে যে; ঝাঁকের কই ঝাঁকেই ফিরছে।

ঝিকে মেরে বৌকে শিখান (আভাসে শিক্ষা): ভদ্রলোক ঝিকে মেরে তাঁর আধুনিকতা বৌকে শেখাতে চেষ্টা করলেন।

ঝোপ বুঝে কোপ মারা (অবস্থা বুঝে সুযোগ গ্রহণ): এ শহরে কোন ভাল হোটেল না থাকায় আজিজ সাহেব ঝোপ বুঝে কোপ মেরে বহু টাকা উপার্জন করলেন।

টাকার গরম (ধনের অহংকার): টাকার গরমে চৌধুরী সাহেবের কাছে কথা বলা যায় না।

টনক নড়া (সচেতন হওয়া): কারখানার শ্রমিকের দল সমবেতভাবে দাবি তোলায় এতদিনে মালিকের টনক নড়েছে।

টাকার কুমীর (অনেক টাকার মালিক): টাকার কুমীর নওয়াব সাহেব সে দিন মারা গেলেন।

টাল সামলানো (বিপদ সামলানো): অনেক কষ্টে টাল সামলিয়েছি, আর কি আমি বখরায় ব্যবসায় করি।

টক্কর দেওয়া (পাল্লা দেওয়া): সামান্য কেরানী হয়ে বড় সাহেবের সঙ্গে টক্কর দিতে যেও না।

টইটুম্বুর (ভরপুর): বর্ষাকালে নদী, খাল, বিল পানিতে ভরে গেছে, ক্ষেতগুলো পর্যন্ত পানিতে টইটুম্বুর।

টীকা ভাষ্য (দীর্ঘ আলোচনা): প্রত্যেকটি আলোচনার টীকা-ভাষ্যের প্রয়োজন কি, এতেই চলবে।

ঠেলার নাম বাবাজী (চাপে পড়ে কাবু হওয়া): আবুল, তবে না বলেছিলে, দেনা শোধ করবে না-কেমন, দিতে হল তো; ঠেলার নাম বাবাজী।

ঠাট বজায় রাখা (চাল বজায় রাখা): আজকালকার দিনে ঠাট বজায় রাখতে প্রাণ যায়।

ঠোঁট-কাটা (স্পষ্ট বক্তা): আচ্ছা ঠোঁটকাটা লোক তো তুমি, তার মুখের উপর অতগুলো কথা বললে।

ডুবে ডুবে পানি খাওয়া (গোপনে কুকাজ করা): বাহিরে সে বেশ ভাল, কিন্তু ডুবে ডুবে পানি খায়।

ডাকাবুকো (দুরন্ত): কিহে বাপু, ডাকাবুকো খান সাহেবের ছেলে তুমি, এমন বোকা।

ডুমুরের ফুল (দুর্লভ দর্শন): কি ভাই ফরিদ! আজকাল তো দেখাই পাই না; ডুমুরের ফুল হয়ে গেছ মনে হয়।

ডান হাতের ব্যাপার (আহার ভোজন): একটু অপেক্ষা কর ভাই, আমি চট করে ডান হাতের ব্যাপারটা সেরে নিই।

ডামাডোল (গোলযোগ): লড়াইয়ের ডামাডোলে কন্ট্রাক্টাররা প্রচুর মুনাফা করেছে।

ঢিমে তেতালা (মৃদুগতি): জলদি করো, ঢিমে তেতালায় কাজ করলে সব পন্ড হবে।

ঢাক ঢাক গুড়গুড় (কপটতা): কোর্টে সাক্ষ্য দেব তো ঢাক ঢাক গুড়গুড় করতে পারব না, সত্য কথা বলব।

ঢাকের বায়া (অকেজো): আমিনুল একাই কাজটি করেছে, তার বন্ধু আমিন ঢাকের বায়া।

ঢাকের কাঠি (তোষামোদ): কেরানী সাহেব বড় সাহেবের ঢাকের কাঠি।

ঢলাঢলি (কেলেঙ্কারি): স্কুল-কলেজের সহশিক্ষা যদি ঢলাঢলির সৃষ্টি করে তাহলে অবশ্য পরিত্যাজ্য।

তাসের ঘর (ক্ষণস্থায়ী): এ সংসার তাসের ঘর। কী নিয়ে আমরা এখানে বড়াই করি।

তীর্থের কাক (লোলুপ বা লোভী ব্যক্তি): সে তীর্থের কাকের মত হা করে বসেছিল।

তাক লাগা (আশ্চর্য হওয়া): আট বছরের ছেলে জহির ওস্তাদী গান গেয়ে সভাস্থ সকল লোককে তাক লাগিয়ে দিল।

তিলকে তাল করা (অতিরিক্ত করা): ওর স্বভাই হল তিলকে তাল করা, ওর কথায় কোন গুরুত্ব দেবেন না।

তালকানা (তাল-মান বোধহীন): তোর মত এত বড় তালকানা লোক খুব কমই দেখেছি।

তেলে বেগুনে জ্বলে উঠা (ক্রুদ্ধ হওয়া): ছাত্রের ঔদ্ধত্যপূর্ণ উত্তর শুনে শিক্ষক তেলে বেগুনে জ্বলে উঠলেন।

তালপাতার সেপাই (কৃশকায়): ছো! এই নাকি স্বাস্থ্য, এত তালপাতার সেপাই।

তামার বিষ (অর্থের কুপ্রভাব): মানুষকে মানুষ বলে গ্রাহ্য কর না; তোমাকে তামার বিষে পেয়েছে বুঝি?

তাল সামলানো (শেষ রক্ষা): বুঝে সুঝে কাজ কর, শেষে তাল সামলানো দায় হবে, বুঝলে?

তুষের আগুন (দগ্ধকারী দুঃখ): পুত্রশোকে পিতার বুকে তুষের আগুন ধিকি ধিকি জ্বলছে।

তুলসী বনের বাঘ (ভন্ড): লোকটা মুখে বক্তৃতাও দেয়, মসজিদে নামাযও পড়ে, কিন্তু আসলে তুলসী বনের বাঘ।

তেলা মাথায় তেল দেওয়া (যার আছে তাকে আরো দেওয়া): দুনিয়ার সবাই তেলা মাথায় তেল দেয়, গবীবের কেউ নেই।

তেল বাড়া (অহংকার): তোর খুব তেল বেড়েছে দেখছি।

ত্রাহি ত্রাহি (পরিত্রাণ কর বলে চিৎকার): নদীতে প্রবল ঝড়ের মধ্যে পড়ে নৌকারোহিগণ এাহি এাহি ডাক ছাড়ল।

থ’হয়ে যাওয়া; থতমত খাওয়া (কিংবর্তব্য বিমূঢ় হওয়া): কি কথার ঢং, এতটুকু ছেলে না তার কথা শুনে থ’হয়ে গেলাম।

থৈ পাওয়া (সীমা পাওয়া): এত করলাম অথচ তোমাকে খুশী করা গেল না, তোমার মনে থৈ পাওয়া কি আমার সাধ্যি?

থাবাথুবি দিয়ে রাখা (ভুলিয়ে রাখা): ক্রন্দনরত বালকটাকে জননী থাবাথুবি দিয়ে রাখলেন।

থোঁতা মুখ ভোঁতা হওয়া (বড় মুখ ছোট হওয়া): আঃ এত দেমাক কিসের জন্য, ছেলে যা কেরেঙ্কারি করেছে তাতে তোমার থোঁতা মুখ ভোঁতা হয়েছে টের পাওনা?

দন্তস্ফুট করা (কঠিন বিষয়ে প্রবেশ): অঙ্কটি এমনই দুরূহ যে সহজে দস্তস্ফুট করা গেল না।
দুধ-কলা দিয়ে সাপ পোষা (যতœ করে শত্রট্ট পোষা): টের পাইনি; দুধ কলা দিয়ে সাপ পুষেছিলাম, সুযোগ পেয়ে পালিয়ে গেল।

দশের লাঠি একের বোঝা (সকলে মিলে কাজ করলে সহজ, কিন্তু একজনের পক্ষে বোঝাস্বরূপ): তোমরা দেশের মানুষ, কাজ করে যাও, কোন সমস্যাই কঠিন নয়, জানো তো, দশের লাঠি একের বোঝা।

দুধে-ভাতে থাকা (ভালভাবে থাকা): দোয়া করুন হুজুর, আমার ছেলেমেয়ে যেন দুধে-ভাতে থাকে।

দুধের মাছি (সুসময়ের বন্ধু): অর্থই সব, অর্থ থাকলে কি আর দুধের মাছির অভাব হয়?

দহরম মহরম (মাখামাখি বন্ধুত্ব): দু’জনের মধ্যে খুব দহরম মহরম দেখছি, বন্ধুত্ব টিকলে হয়।

দা-কুমড়া সম্বন্ধ (শত্রট্টভাব): বাপ-বেটায় দা-কুমড়া সম্বন্ধ! বল কি হে?

দুমুখো সাপ (যার মুখে দুই রকমের কথা বের হয়): মান্নান একজন দুমুখো সাপ, এর কথা ওকে বলে, ওর কথা একে বলে।

দু’কান কাটা (বেহায়া): জেল খেটে খেটে এই পাকা চোরটি দু’কান কাটা হয়ে পড়ছে।

দাঁতে কুটা কাটা (বিনীত হওয়া): শিষ্য ওস্তাদের কাছে দাঁতে কুটা কেটে উপস্থিত হল।

দক্ষযজ্ঞ ব্যাপার (বিরাট সমারোহ): চৌধুরী বাড়িতে বিবাহের হৈ চৈ পড়েছে, যেন দক্ষযজ্ঞ ব্যাপার।

দাঁও মারা (মোটা লাভ করা): সুযোগ বুঝে ব্যবসায়ী এক দাঁও মারার চেষ্টা করছে।

দুধের সাধ ঘোলে মেটানো (উৎকৃষ্ট বস্তুর অভাব নিকৃষ্ট বস্তুর দ্বারা মেটানো): মাতৃ¯েœহ কি অন্য আত্মীয়ের যতেœ মেটে, দুধের সাধ ঘোলে মেটাতে পারে না।

ধর্মপুত্র যুধিষ্ঠির (ধার্মিক): ধর্মপুত্র যুধিষ্ঠির আর কি; সারাজীবন মিথ্যার বেসাতি করল, আজ কি না সে সত্য কথা বলেছে।

ধরি মাছ না ছুঁই পানি (কৌশলে কার্যসিদ্ধি): ধরি মান না ছুঁই পানি গোছের কাজ হেডমাস্টার সাহেবের অপছন্দ-কেননা খাঁটি মানুষ তিনি।

ধামা ধরা (তোষামোদ করা): অপরের ধামা ধরে যাদের দু’মুঠো অন্নের সংস্থান করতে হয়, তাদের জীবনের আর কি মূল্য?

ধরাকে সরা জ্ঞান করা (কাউকেও গ্রাহ্য না করা): এখন কাঁচা বয়স মোটা টাকা রোজগার করছ, ধরাকে সরা জ্ঞান করবে বৈ কি!

ধর্মের ঢাক আপনি বাজে (পাপ গোপন না থাকা): দারোগা সাহেবের ঘুষ খাওয়ার কথা প্রকাশ পেলে সবাই বলাবলি করতে লাগল যে ধর্মের ঢাক আপনি বেজেছে।

ধর্মের ষাঁড় (ব্যঙ্গার্থে, স্বেচ্ছাচারী ব্যক্তি): বাপ মরেছে তবু সংসারের কোন চিন্তা নেই ওর, ও যেন এক ধর্মের ষাঁড়।

নিমরাজি (প্রায় রাজি): আহা প্রসঙ্গটা হল বিবাহের, এখানে নিমরাজি হওয়ার অবকাশ আছে কি?

নিজের চরকায় তেল দেওয়া (অন্যের কাজে মাথা না ঘামিয়ে নিজের কাজে মন দেওয়া): ও তো বড়লোকের ছেলে ওর দিকে নজর না দিয়ে তুমি নিজের চরকায় তেল দাও গে।

নিস্পিস্ করা (উস্খুস করা): ছাত্রটিকে মারার জন্য ওস্তাদের হাত নিস্পিস্ করছে।

নিজের নাক কেটে পরের যাত্রা ভঙ্গ (নিজের ক্ষতি করে পরের ক্ষতি সাধন): নিজের নাম কেটে পরের যাত্রা ভঙ্গ করতেই তিনি আনন্দ পান।

নিজের কোলে ঝোল টানা (চরম স্বার্থপরতা): কেমন করে তুমি পরের দুঃখ বুঝবে, তুমি তো নিজের কোলে ঝোল টানতেই ব্যস্ত থাক হামেশা।

নামকাটা সিপাই (কর্মচ্যুতি ব্যক্তি): রহমান সাহেবকে মানি লোক বলছ; সে তো এখন নামকাটা সিপাই, আড্ডা ও তাস পেটাই তার কাজ।

নেই মামার চেয়ে কানা মামা ভাল (একেবারে কিছু না থাকার চেয়ে অল্প কিছু থাকা ভাল): একেবারে সংসার ফাঁকা; কারুর ছেলে নিয়ে মানুষ করো না, তবু তো নেই মামার চেয়ে কানা মামা ভাল।

নাম ডুবানো (সম্মান বিসর্জন): বাপের নাম ডুবিয়ো না হে, পাস করতে হবে।

নাই দেওয়া (আদর দেওয়া): কুকুরকে নাই দিলে ঘাড়ে চড়ে।

ননীর পুতুল (শ্রমবিমুখ, কোমল দেহ): আহা, রোদের আঁচ সয় না, যেন ননীর পুতুল।

নরক গুলজার (ব্যঙ্গার্থে, পাপীদের সমাবেশে আসর সরগরম): ইসলাইলী সৈন্যরা প্যালেস্টাইনের উদ্বাস্তু নরনারীর উপর মেসিন গানের গুলী চালিয়ে নরক গুলজার করে তুলেছিল।

নাকে তেল দিয়ে ঘুমানো (নিশ্চিন্ত থাকা): নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছ, পরীক্ষা এসে গেল যে।
নয়ছয় (ছড়াছড়ি): খাটের উপর জামাগুলো নয়ছয় হয়ে পড়ে রয়েছে।

নেই আঁকড়া (নাছোড় বান্দা): তুমি দেখছি জোঁকের মত আমার গায়ে লেগে রয়েছ; এত বলছি ছাড়ো, কিন্তু ছাড়বে না, তুমি একটি নেই আঁকড়া লোক।

নেক নজরে পড়া (সুদৃষ্টিতে পড়া): প্রিন্সিপালের নেক নজরে পড়তে পারলেই হল, রফিক সাহেবকে আর পায় কে?

নদীকূলে বাস (ভয়ের জায়গায় অবস্থান): নদীকূলে বাস, ভাবনা বারমাস।

পটল তোলা (ফেল পড়া): এভাবে মূলধন অপচয় করলে শীঘ্রই ব্যবসায়ে পটল তুলতে হবে।

পুঁটি মাছের প্রাণ (ক্ষীণ প্রাণ): প্রজা জমিদারকে বলল, “আমাদের পুঁটি মাছের প্রাণ, আমাদের মারবেন না।”

পথের কাঁটা (গমনে বাধা): আমার বিদেশ গমনে আমার পিতাই পথের কাঁটা।

পগার পার (পলায়ন): খুনী এতক্ষণে পগার পার হয়ে গেছে, ধরা মুষ্কিল।

পেটের কথা (মনের কথা): বড্ড কঠিন লোক, ওর পেটের কথা বের করা কি সহজ।

পেটের শত্রট্ট (যে সন্তান মায়ের দুঃখের কারণ): এত কষ্ট করে মানুষ করলাম যাকে, বিয়ে করে সে পর হয়ে গেল, এমন পেটের শত্রট্ট কারো হয়?

পেটে খেলে পিঠে সয় (লাভের জন্য কষ্ট সহ্য করা): খেতে পরতেও দেবে না আবার ধরে মারবে; পেটে খেলে তো পিঠে সইবে।

পেটে এক মুখে আর (কুটিল আচরণ): বাবা মায়ের সঙ্গে অন্তত পেটে এক মুখে আর করতে নেই?

পেটে পেটে বুদ্ধি (দুষ্টবুদ্ধি): শয়তানের পেটে পেটে বুদ্ধি।

পেটে ভাতা, পেটে ভাতে (শুধু আহার): পেটে ভাতে কাজ করো তো আমার বাড়িতেই থাক।

পায়াভারি (অহংকার): পদোন্নতি হওয়াতে কেরানীর পায়াভারি হয়েছে।

পালের গোদা (সর্দার): চুনোপুঁটিরাই ধরা পড়ে, আর যারা গোদা তাদের টিকিটি দেখার যো নেই।

পাথরে পাঁচ কিল (উন্নত অবস্থা): ব্যবসায়-বাণিজ্য করে যে প্রচুর অর্থ উপার্জন করেছে, এখন তার পাথরে পাঁচ কিল।

পাকা ধানে মই দেওয়া (সুসম্পন্ন কার্য পন্ড করা): আমি কি তোমার পাকা ধানে মই দিয়েছি যে এমন করে আমাকে অপদস্থ করবে।

পুকুর চুরি (বেপরোয়া চুরি): শাসন দন্ড শিথিল হলেই কর্মচারীরা পুকুর চুরি করতে সাহস পায়।

পোয়াবারো (সৌভাগ্য): সাহেব বাড়িতে না থাকলেই ছেলেপিলেদের পোয়াবারো হয়ে থাকে।

পরের ধনে পোদ্দারী (অন্যের টাকায় বাহাদুরী): পরের ধনে পোদ্দারী করতে সবাই পারে। নিজের ট্যাঁকের দিকে হাত দাও।

পরের মাথায় কাঁঠাল ভাঙা (অন্যকে দিয়ে কাজ হাসিল করা): নিজে উপার্জন না করে পরের মাথায় কাঁঠাল ভেঙে খাওয়া যার অভ্যাস তার আর লজ্জা কি?

পেটে বোমা মারলেও কিছু বাহির না হওয়া (কোন বিদ্যা না থাকা): ছেলেটি অকাট মূর্খ, পেটে বোমা মারলেও কিছু বের হবে না।

পাত্তাড়ি গুটান (দ্রব্যসামগ্রী গুছিয়ে বাঁধা ও তোলা): তুমি কেমন দোকানদার যে এক বছরের মধ্যে লোকসান দিয়ে পাত্তাড়ি গুটালে?

পেঁজ পয়জার দুই-ই হল (পেট ভরল না, পিঠেও সহিতে হল): মকদ্দমায় টাকার শ্রাদ্ধ ও জমিজমা বেদখল হওয়ায় আমায় পেঁজ পয়জার দুই-ই গেল।

ফোঁড়ন দেওয়া (উত্তেজনাকর টিপ্পনী কাটা): ঝগড়া-ঝাটি ওদের ভাইয়ে ভাইয়ে, তার মধ্যে ফোঁড়ন দেওয়া অনুচিত।

ফপর দালালী (গায়ে পড়ে মধ্যস্থগিরি): আমাদের উকিলে উকিলে কথাবার্তার মধ্যে তোমাকে আর ফপর দালালী করতে হবে না।

ফাঁপা ঢেঁকির শব্দ বড় (ভিতরে যার কিছু নেই, তার বাহিরের শব্দ কিছু বেশি রকম): স্কুলের দেউড়ি পার না হলে কি হবে, তার মুখের ইংরেজি বুলি বেশ বড়, কারণ ফাঁপা ঢেঁকির শব্দ বড়।

ফতো নবাব (নবাবী চালের দরিদ্র ব্যক্তি): ওয়ারেশকে দেখে চিনতে পারলে না সে তো একজন ফতো নবাব, আসলে ফাঁকা।

ফুলের ঘায়ে মূর্ছা যাওয়া (অল্পতেই ক্লান্ত হওয়া): গাফফারকে দিয়ে এ কাজ কি করে হবে সেতো ফুলের ঘায়ে মূর্ছা যায়।

ফাঁদে পা দেওয়া (ষড়যন্ত্রে পড়া): না বুঝে ফাঁদে পা দিয়েছ ভাই, এখন সামলাও।

ফাঁপিয়া ওঠা (বড়লোক হওয়া): পয়সা এখন কন্ট্রাক্টরদের হাতে, দেখছ না লোকটা অল্পদিনের মধ্যেই কেমন ফেঁপে উঠেছে।

ফেন দিয়ে ভাত খায় গল্পে মারে দই (মান রাখার জন্য আসল কথা গোপন করে মিথ্যা প্রচার): সব দেশেই এক শ্রেণীর লোক আছে যারা নিঃস্ব, ফেন দিয়ে ভাত খায় গল্পে মারে দই।

বসন্তের কোকিল (সুসময়ের বন্ধু): সুসময়ে বসন্তের কোকিলরা চারদিকে এসে কুজন করতে থাকে।

বজ্র আটুনি/ফস্কা গিরো (বেশি কড়াকড়ি): ছেলেটিকে শাসনে রেখেছিল ভায়া, এখন ছাড়া পেয়ে দুরন্ত হয়ে উঠেছে: এ যেন বজ্র আঁটুনি ফস্কা গিরো।

বিড়ালতপস্বী (কপট সাধু): সারা জীবন ভন্ডামি, বুড়াকালে সাধুগিরি বিড়ালতপস্বী নয় তো কি!

বড় মুখ (গর্ব): পিতা বড় মুখ করে ছেলের কথা বলতে আসে; কিন্তু এ কথা যেন শুনে মুখ চুন করল।

বালির বাঁধ (অল্পেই যা নষ্ট হয়): আমরা এতসব চেষ্টা করলাম, কিন্তু সবই যেন বালির বাঁধের ন্যায় নষ্ট হল।

বকধার্মিক (ভন্ড ধার্মিক): এ জগতে বকধার্মিকের সংখ্যা নেহায়েত কম নয়।

ব্যাঙের সর্দি (অসম্ভব কিছু): যে সাতবার জেল খেটে এসেছে, তাকে দেখাও জেলের ভয়, ব্যাঙের আবার সর্দি।

বিসমিল্লায় গলদ (গোড়ায় গলদ): অঙ্ক তোমার মিলবে কেমন করে, বিসমিল্ল ায় যে গলদ করে বসে আছ।

বেগার ঠেলা (অযতেœ কাজ করা): কিছু দক্ষিণা লাভের আশায় যারা ‘নোট’ লেখেন, তাঁরা বেগার ঠেলে থাকেন।

বিষিয়ে উঠা (বিরূপ হওয়া): শত্রট্টর মুখে নিন্দা শুনে সালাম সাহেবের দ্বারা মন তার বিরুদ্ধে বিষিয়ে উঠল।

বোঝার উপর শাকের আঁটি (অনেকের সঙ্গে সামান্য): বিয়ে বাড়িতে মওলানা সাহেব চল্লিশটি রসগোল্লা খাবার পর পাঁচটি পানতোয়া খেয়ে বোঝার উপর শাকের আঁটিই যেন রক্ষা করলেন।

বিষের পুটুলি (বিদ্বেষী): বড় বউ এক বিষের পুটুলি। ছোট জা’র রূপ দেখে জ্বলে পুড়ে মরছে।

বাঘের দুধ (দুষ্প্রাপ্য বস্তু): টাকায় কি না হয়, বাঘের দুধও টাকাতে লাভ করা যায়।

বিনা মেঘে পানি (অকারণে কাজের সৃষ্টি): নতুন নতুন অফিসে যোগ দিয়ে সাহেবের সুনজরে পড়েছ, যেন বিনা মেঘে পানি।

বিনা মেঘে বজ্রাঘাত (হঠাৎ বিপৎপাত): পিতার মৃত্যুর সংবাদ শুনে ছেলেটির বিনা মেঘে বজ্রাঘাত হল।

বাঘের আড়ি (নাছোড়বান্দা, দুষমনি): সর্বস্ব খোয়ালে কি হবে, মল্লি ক সাহেব তার এককালের বন্ধুর বিরুদ্ধে বাঘের আড়ি পেতেছেন।

বানরের গলায় মুক্তাহার (অপাত্রে উৎকৃষ্ট সামগ্রী দান): আয়শার মত ডানাকাটা পরীর নাকি বিয়ে হল ছাপোষা আবুলের সঙ্গে-এ যেন বানরের গলায় মুক্তাহার।

বর্ণচোরা (স্বাভাবিক বর্ণ গোপন রাখে এমন): আপনি বাপু একটা বর্ণ চোরা আম, বুঝবার যো নেই যে; আপনি তার একটা অনুরক্ত।

বাম হাতের ব্যাপার (ঘুষ): বাঁম হাতের ব্যাপার করেই তিনি বাড়ি করেছেন।

বিড়ালের আড়াই পা (বেহায়াপনা): হাজার বকলেও লাভ নেই, তার হচ্ছে বিড়ালের আড়াই পা।

ব্যাঙের আধুলি (সামান্য ধন): বাপু, সাহায্য করলেই যদি হাজার খানেক টাকা দাও, দুশো টাকা তো ব্যাঙের আধুলি।

বুদ্ধির ঢেঁকি (নির্বোধ): ছোকরা বুদ্ধির ঢেঁকি, কোন কাজর নয়।

ব্যাজোর ব্যাজোর করা (আপত্তি): যা দিলাম নাও, আর ব্যাজোর ব্যাজোর করো না।

বুক দিয়ে পড়া (প্রাণপণে সহায়তা করা): পরের বিপদে এমনভাবে বুক দিয়ে পড়তে হাজী মুহম্মদ মুহসীনের মত কাউকে দেখিনি।

বেল পাকিলে কাকের কি (উপভোগ করতে অক্ষম ব্যক্তির পক্ষে উৎকৃষ্ট সামগ্রীর প্রতি লোভ করা নিষ্ফল): আমি তো গরীবের ছেলে, রাজার মেয়ে বিয়ে করতে চাইলেই তো হবে না, বেল পাকলে কাকের কি?

বুক দশ হাত হওয়া (আনন্দে ও উৎসাহে মন পূর্ণ হওয়া): বি.এ. পরীক্ষায় জজ সাহেবের ছেলে ফার্স্ট ক্লাস পাওয়ায় তাঁর বুক দশ হাত হল।

বাগে পাওয়া (কায়দায় পাওয়া): একবার বাগে পাইতো গায়ের ঝাল মেটাব।

বারো ভূত (অনাত্মীয় লোকজন): আত্মীয়-স্বজন নেই খান বাহাদুরের, সম্পত্তি বারো ভূতে খাবে।

বউ কাঁটকী (বউকে যে জ্বালাতন করে): বউ কাঁটকী শাশুড়ীর কাছে মেয়ে কি সুখে থাকবে?

বিশ বাঁও জলে (সাফল্য লাভের অসম্ভাব্যতা): অপরাধ যখন আদালতে প্রমাণিত হল, তখন উদ্ধার পাওয়ার আশা বিশ বাঁও জলে।

বিদুরের খুদ (শ্রদ্ধায় সামান্য উপহার): গরীব প্রশাসকের বাড়িতে এসেছেন, এখন আশা করি এ বিদুরের খুদে আনন্দিত হবেন।

ভরাডুবি (সর্বনাশ): মামলার পর মামলায় হেরে অবশেষে তার ভরাডুবি হল।

ভালুক জ্বর (ক্ষণস্থায়ী জ্বর): ম্যালেরিয়া রোগী গফুর তার ভালুক জ্বর ছেড়ে যাওয়া মাত্র ভাত খেল।

ভেরেন্ডা ভাজা (অকাজের কাজ): আবদুল, আর ক’দিন ভেরেন্ডা ভাজবে, কাজ নেই, কাম নেই শুধু ঘুমানো।

ভাইয়ের ভাত ভাজের হাত (ভ্রাতৃগৃহে বসবাসকারী যে স্ত্রীলোক ভাইয়ের অন্ন খায় ভ্রাতৃবধূর কর্তৃত্বও সয়): বেগম নিতান্ত অসহায়, তাই ভাইয়ের ভাত ভাজের হাত দুই-ই জুটেছে।

ভুঁইফোঁড় (অর্বাচীন, হঠাৎ অভ্যুদিত): করিম দেখছি, আচ্ছা ভুঁইফোড় লোক গানের সা-রে-গা-মা তো জানে না, ওস্তাদ বনে গিয়েছে।

ভিজা বিড়াল (কপটাচারী): সে একজন ভিজা বিড়াল, বাইরে শান্ত ভিতরে কূট।

ভূতের বেগার (বৃথা পরিশ্রম): সারা জীবন ভূতের বেগার খাটলাম।

ভূতের বাপের শ্রাদ্ধ (অত্যধিক ব্যয়): অন্যের টাকায় ভূতের বাপের শ্রাদ্ধ অনেকেই করে।

ভষ্মে ঘি ঢালা (যথাসময়ে কাজ না করে কাজ নষ্ট হয়ে গেলে পরিশ্রম করা বা অর্থ ব্যয় করা): মতিন সারা বছর পড়াশুনা না করে পরীক্ষার পূর্বরাত্রি জেগে পড়ে ভস্মে ঘি ঢালছে।

ভীমরুলের চাকে খোঁচা দেওয়া (ক্রোধ উদ্রেক করা বা উত্তেজিত করা): প্রচলিত জনমতের বিরুদ্ধাচরণ করা আর ভীমরুলের চাকে খোঁচা দেওয়া এক কথা।

ভেড়ার গোয়ালে আগুন লাগা (বিপদের প্রতিকার চেষ্টা নেই অথচ কোলাহল সৃষ্টি): সাপ না মেরে গোলমাল, ইহা ভেড়ার গোয়ালে আগুন লাগার কথা স্মরণ করাবে।

ভরাডুবির মুক্তিলাভ (হৃতবিশিষ্ট): সবই তো গেছে, এখন অস্থাবর সম্পত্তিটা আমার ভরাডুবির মুক্তিলাভ।

ভূখন্ডীর কাক (অলস ব্যক্তি): দুনিয়া বৃথা একথা প্রমাণের চেষ্টার মত নিষ্কর্ম ভূখন্ডীর কাকের কথা মনে করিয়ে দেয়।

ভিটায় ঘুঘু চরান (সর্বনাশ করা): সামান্য প্রজা হয়ে তুমি আমার বিরুদ্ধে যাচ্ছ, ঠিক আছে, তোমার ভিটায় ঘুঘু চরাবো দেখো।

ভাড়ের কলসী (স্বার্থসিদ্ধির উপায়): মাহমুদ মোড়ল রহমানকে ভাড়ের কলসীর মতন ব্যবহার করে।

ভাজে ঝিঙে ত বলে পটোল (সত্য গোপন করে মনে রাখবার জন্য মিথ্যা প্রচার করা): লোকটির ডেঁপোমি দেখলে, সংসার চলে না, ভাজে ঝিঙে ত বলে পটোল।

মগের মুল্লুুক (দস্যু-বাটপারের দেশ): আমার বাগানের সব ফল জোর করে পেড়ে নিয়ে খাবে, আস্পর্ধা তো কম নয়। এটা কি মগের মুল্লুুক পেয়েছ?

মন না মতি (মানবচিত্তের অস্থিরতা): মানব মন, তার তো পরিবর্তন ঘটতে পারে, কথায় বলে মন না মতি।

মুখে চুনকালি দেওয়া (কলঙ্ক দেওয়া): কুলাঙ্গার মেয়ে বংশের মুখে চুনকালি পরালো।

মুখে ফুল চন্দন পড়া (শুভ সংবাদের জন্য ধন্যবাদ): আমাকে এই সুসংবাদ দেওয়ার জন্য তোমার মুখে ফুল চন্দন পড়ুক।

মামার বাড়ির আব্দার (সহজে মেটে এমন আকাক্সক্ষা): কি ব্যাপার, একি মামার বাড়ির আব্দার পেয়েছ যে চাইলে টাকা দেব।

মান্ধাতার আমল (প্রাচীনকাল): শিক্ষার অভাবে আমাদের দেশের মানুষ আজও মান্ধাতার আমলের রীতিনীতি অনুসরণ করছে।

মেনিমুখো (সলজ্জ): কলেজে পড়া ছেলে, কিন্তু এখনো সেই মেনিমুখো হয়ে থাকলে ভবিষ্যৎ যে অন্ধকার।

মাৎস্যন্যায় (অরাজকতা, মৎস্যের ন্যায় হানাহানী): দেশ যে দুর্নীতিতে মাৎস্যন্যায় হয়ে উঠল, শেষরক্ষা হবে কীভাবে?

মাছের মার পুত্র শোক (মাছ তার বাচ্চা খেয়ে ফেলে, সেক্ষেত্রে তার পুত্রশোক অস্বাভাবিক): কালোবাজারের কল্যাণে হাজার হাজার টাকা লুটছ, গেলই বা কয়েক’শ টাকা, তাতে কি আসবে যাবে। মাছের মা’র আবার পুত্রশোক?

মশা মারতে কামান দাগা (সামান্য কাজেই বিরাট আয়োজন): সামান্য একখানা বই চুরির ব্যাপার-এরই জন্য কোর্ট কাছারী, এ যে দেখছি মশা মারতে কামান দাগা।

মাঠে মারা যাওয়া (ব্যর্থতায় পর্যবসিত হওয়া): চোর ধরার এত ষড়যন্ত্র, শেষ পর্যন্ত মাঠে মারা যাবে ভাবতে পারিনি।

মাথা খাওয়া (সর্বনাশ করা): পিতা পুত্রকে আদর দিয়ে তার মাথা খাওয়ার উপক্রম করেছেন।

মাছি মেরে হাত কাল করা (ছোট কাজ করে অখ্যাতি অর্জন): খান সাহেবের ছেলে হাশিম খান বাড়ির কাজের মেয়েটির গায়ে হাত তুলল, এ যে দেখছি সে মাছি মেরে হাত কাল করল।

মানিকজোড় (অন্তরঙ্গ বন্ধুদ্বয়): আলতাফ ও শরীফের গলায় গলায় ভাব, দুইটিতে যেন মানিকজোড় কেউ কাকেও একদন্ড ছেড়ে থাকতে পারে না।

মাকাল ফল (অন্তঃসারশূন্য লোক): এ্যাঁ, বলো কি? লেখাপড়া জানে না, দেখতে তো সুন্দর? এ যে মাকাল ফল।

মাথার মণি (শ্রদ্ধেয়): শেরেবাংলা ফজলুল হক বাঙালির মাথার মণি।

মানে মানে (সসম্মানে): ভায়া, এখনো বলছি মানে মানে বিদায় হও, নইলে তুমি নাকালের একশেষ হবে।

মাথায় রাখা (ভক্তি সম্মান বা আদর-যতœ করা): মায়ের দেওয়া ধুতি চাদর মাথায় রাখি, ওরে ভাই।

মিছরির ছুরি (মুখে মধু অন্তরে বিষ): লোকটির কথা যেন মিছরির ছুরি শুনতে তো মিষ্টিই লাগে, কিন্তু অন্তরের মোক্ষম জায়গায় গিয়ে আঘাত করে।

মুস্কিল আসান (বিপদের শান্তি): ঝড়ের তোড়ে পড়েছিলাম বাপু, মুস্কিল আসানের জন্য পাঁচ পীরের নাম স্মরণ করতে হল।

মণিকাঞ্চন যোগ (যোগ্যের সঙ্গে যোগ্যের মিল): দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে ইংল্যান্ডের সঙ্গে আমেরিকার মিতালী যেন মনিকাঞ্চন যোগ।

মনে লাগা, মনে ধরা (পছন্দ হওয়া): মেয়েটি নিখুঁত সুন্দরী, আর শিক্ষিতা, তাই আমাদের মনে লেগেছে।

মাছের মা (নির্মম): রুনি বেগমের নিজের পেটের ছেলের উপর দয়ামায়া নেই, যেন মাছের মা।

মাটির মানুষ (নিরীহ ব্যক্তি): করিম সাহেব মাটির মানুষ, এমন মহাপ্রাণ ব্যক্তি সচরাচর বিরল।

মেও ধর (ঝুঁকি লওয়া): শরীরের উপর যে এত অত্যাচার করছ, অসুখ হলে মেও ধরবে কে?

মুখ রাখা (মান রাখা): সৈয়দ হক এম. এ. পরীক্ষায় স্বর্ণপদক পেয়ে বাপের মুখ রেখেছে।
মাথায় ওঠা (প্রশ্রয় পেয়ে ধৃষ্ট হওয়া): পরের ছেলে, তাকে আদর দিতেই মাথায় উঠতে চায় দেখছি।

যক্ষের ধন (অতিশয় কৃপণের ধন): তুমি তো টাকা কড়ি যক্ষের ধনের মত আগলে বসে আছ, তাতে কি লাভ।

যমের অরুচি (সহজে যে মারা যায় না এই অর্থে): আশি বছরের বৃদ্ধের প্রতি যমেরও অরুচি।

যত গর্জে তত বর্ষে না (আড়ম্বরের তুলনায় কাজ কম): বড় সাহেব কেরানীদের খুব শাসান, কিন্তু কারও কোন ক্ষতি করেন না, দেখে মনে হয় যত গর্জে তত বর্ষে না।

যম যন্ত্রণা (মৃত্যু): একমাত্র সন্তানের নিখোঁজ সংবাদে মাতাপিতা, যম-যন্ত্রণা ভোগ করলেন।

রক্তের টান (স্ববংশ প্রীতি): হাজার হলেও ভাই ভাই রক্তের টান, শত্রট্টতা কি বেশি দিন থাকে?

রাই কুড়িয়ে বেল (অল্প অল্প সঞ্চয়ে প্রচুর অর্থ জমানো): সঞ্চয়ের অভ্যাস থাকলেই রাই কুড়ায়ে বেল করা সম্ভবপর।

রাবণের চিতা (অশান্তি): বিধবার একমাত্র উপার্জনক্ষম পুত্রের মৃত্যুতে তার অন্তরে রাবণের চিতা জ্বলছে।

রাহুর দশা (দুঃসময়): চারদিকে তোমার অশান্তি, বোধ হয় রাহুর দশায় পড়েছ ভাই।

রা করা (কোন কথা বলা): তুই কেমন ছেলে বাবা বলতো, এ যে সাত চড়েও রা করিস না।

রাশভারি (গুরুগম্ভীর): আমাদের অফিসের ম্যানেজার সাহেব রাশভারি লোক তাঁর সামনে গিয়ে কথা বলতে ভয় হয়।

রগচটা (যে একটুতেই রাগে): মহসীন খুব রগচটা, ওকে দায়িত্বপূর্ণ পদে গ্রহণ করা উচিত নয়।

রাঘব বোয়াল (অর্থগৃন্ধু): সরকারি চাকুরেদের রাঘব বোয়ালরাই শহরে হাল ফ্যাশনের বাড়িঘর ফাঁকিয়েছেন।

রুই-কাতলা (নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি): আরে ভাই সে দিনকাল কি আর আছে? বর্তমান সরকারের সুশাসনে আজ দুর্নীতিপরায়ণ অনেক রুই কাতলা ধরা পড়ছে।

রাজযোটক (সুন্দর মিল): যেমন ঠক চাচা, তেমন ঠক চাচী, রাজযোটক হয়েছে ভাই।

রাজা উজির মারা (বড় বড় কথা বলা): বক্তৃতার সময় অনেকেই রাজা উজির মারতে পারে, কাজের বেলায় ফক্কা।

রাত কানা (রাতের বেলায় যে দেখতে পায় না): রাত কানা মানুষের পক্ষে রাতে চলাফেরা কঠিন।

লগন চাঁদ (ভাগ্যবান): হক সাহেব লগন চাঁদ বলেই চাকরিতে উন্নতি হল।

লালবাতি জ্বালানো (ধ্বংস হওয়া): ব্যাংকটা লালবাতি জ্বালানোতে অনেক লোক ক্ষতিগ্রস্ত হল।

লেফাফা দুরস্ত (বাইরের ঠাট): লোকটি যতই লেফাফা দুরস্ত হোক, আসলে সে কিন্তু গরীব।

লম্বা দেওয়া (চম্পট): সাঁঝ রাতে চোর চুরি করে লম্বা দিয়েছে।

লেজে পা পড়া (স্বার্থে আঘাত লাগা): এবার তোমাদের লেজে পা পড়েছে তাই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছ।

লেজে খেলা (চাতুরী করা): ভায়া, আমাকে নিয়ে কেবলি লেজে খেলিয়ে বেড়াচ্ছ।

লক্ষ্মীর বরযাত্রী, সুখের পায়রা, দুধের মাছি (সুসময়ের বন্ধু, অসময়ের কেউ নয়): লাখপতি বন্ধুর হাতে যদ্দিন টাকা আছে তদ্দিনই তোমার মত তোষামোদকারী লক্ষ্মীর বরযাত্রীরা (বা সুখের পায়রার, দুধের মাছির মত) ঘুরে বেড়াবে সে কি আমরা বুঝ না ভায়া।

শাক দিয়ে মাছ ঢাকা( বড় কলঙ্ক ঢাকার চেষ্টা): এইতো তোমার গাড়ি-বাড়ি, ঘুষের টাকার ফল কিন্তু বলে বেড়াচ্ছ শ্বশুরের দান, শাক দিয়ে মাছ ঢেকে ফল কি?

শরতের শিশির (সুসময়ের বন্ধু): টাকা-পয়সা থাকলে শরতের শিশিরও জমতে শুরু করে।

শাঁখের করাত (উভয় সংকট): কি যে করব ভেবে পাই না। বড় সাহেবের কাছে হ্যাঁ বললেও বিপদ, না বললেও বিপদ, যেন শাঁখের করাতের অবস্থায় পড়েছি।

শত্রট্টর মুখে ছাই (লোকের কুদৃষ্টি এড়ানো): শত্রট্টর মুখে ছাই দিয়ে আমার পাঁচটি ছেলেই দেশবরেণ্য।

শ্বেতহস্তী পোষা (কর্মচারীদের জন্য অর্থব্যয় করা): ওয়াপদার টাকা শ্বেতহস্তী পুষতেই শেষ হয়ে গেল, অন্য কাজ হবে কি করে?

শূন্যে সৌধ নির্মাণ (অলীক কল্পনা): যৌবনের সোনালী স্বপ্ন পরিণত বয়সে শূন্যে সৌধ নির্মাণের সামিল।

শাপে বর (অকল্যাণের মধ্যে কল্যাণ): ঐ ছেলের সঙ্গে তোমার মেয়ের বিয়ে না হওয়ায় শাপে বর হয়েছে, ছেলেটি এই সেদিন মারা গেল।

শেষ রক্ষা (কোনমতে সম্মান বাঁচানো): খান সাহেবের দু’ছেলের পরীক্ষায় ফেলের সংবাদের পর মেয়েটি ফার্স্ট ক্লাস পেয়ে এম. এ. পাষ করায় শেষ রক্ষা হল।

শুকনোয় ডিঙি চলা (জোরে কাজ চালানো): দশজনে মিলেমিশে কাজ করলে শুকনোয় ডিঙ্গি চালানো যায়।

শিরে সংক্রান্তি (আসন্ন বিপদ): আমার শিরে সংক্রান্তি, ঐ বারোয়ারী ব্যাপার নিয়ে মাথা ঘামাবার সময় আমার নেই।

শকুনী মামা (কুচক্রী): তুমি এই শকুনি মামার সঙ্গ ছাড়া নচেৎ সর্বশান্ত হবে ভায়া।

শনির দৃষ্টি (কুদৃষ্টি): নববর্ষের শনির দৃষ্টি লেগেছে, একটার পর একটা দুর্ঘটনা লেগেই আছে।

শিয়ালের যুক্তি (অকেজো যুক্তি): তোমার শিয়ালের যুক্তি খাটবে না, উকিলের কাছে যুক্তি নাও গে।

ষন্ডামার্কা (একগুঁয়ে ও বলিষ্ঠ): ষন্ডামার্কা ছেলেদের নিয়ে সাহিত্য সমিতি গড়লে তার ভবিষ্যৎ কি হবে কে জানে।

ষাঁড়ের গোবর (অপদার্থ): তোমার মত ষাঁড়ের গোবর লোক বলে কিনা যে, মন্ত্রী হবে, দিনে দিনে আর কতই শুনব।

ষোল আনা (পুরোপুরি): স্বার্থের ব্যাপারে ষোল আনা, পরকে দেবার নাম নেই।

ষোলকলা (সম্পূর্ণ): শামসুল হক পিতা এনামুল হকের সাহিত্য শিল্প বোধের প্রকৃতি ষোলকলায় পেয়েছে।

ষোল কড়াই কানা (সব অসার): আবুল হোসেনকে মনে হয়েছিল তুখোড়, এখন দেখছি তার স্বভাবের ষোল কড়াই কানা।

সাক্ষীগোপাল (কর্তৃত্বহীন দর্শকমাত্র): আমার পুত্রই এখন সংসার পরিচালনা করে, আমি শুধু সাক্ষীগোপাল।

সাতসতেরো (সাত পাঁচ রকম আজেবাজে কথা): হাতে একটি টাকাও নেই, বসে বসে সাতসতেরো ভাবছি বাজার করব কি দিয়ে।

সোনায় সোহাগা (ভালর সাথে ভালর মিল): পাত্রীটিও ভাল, পাত্রও বেশ-একেবারে সোনায় সোহাগা।

সাপের ছুঁচো গেলা (অনিচ্ছায় বাধ্য হয়ে কাজ করা): বাজারে একশত টাকার জিনিস কিনতে গিয়ে আজহার সাহেব স্ত্রীর অনুরোধে পাঁচশত টাকার জিনিস কিনতে বাধ্য হয়ে ছুঁচো গেলার মত কাজ করলেন।

সাপে নেউলে (শত্রট্টভাব): দুই ভাইয়ের এখন সাপে নেউলে সম্বন্ধ।

সুখের পায়রা (বিলাসী): আমি একাই খেটে মরি, আর সব তো সুখের পায়রা।

সাত খুন মাফ (গুরুতর অপরাধেও অব্যাহতি লাভ): হেড মাস্টারের ছেলে বলেই তোমার সাত খুন মাপ হবে, এমন মনেও করো না।

সাত পাঁচ ভাবা (নানারকম অন্ত): তাঁকে কথা শোনাতেই গিয়েছিলাম, কিন্তু সাত পাঁচ ভেবে না বলেই চলে এলাম।

সাবধানের মার নেই (সতর্কতা অবলম্বন করলে বিপদ নেই): অর্থমন্ত্রী মহোদয় বাজেট উত্থাপনের আগে বারবার দেখলেন, কেননা সাবধানের মার নেই।

সরফরাজি চাল (বাইরে মিত্রতা): সেদিন আদালতে আমার বিরুদ্ধে সাক্ষী দিলে, আর আজ বেশ সরফরাজি চাল চালছ।

স-সে-মি-রা অবস্থা (কান্ডজ্ঞানহীন অবস্থা): তোমাদের অনাসৃষ্টি কান্ডজ্ঞান দেখে আমার তো স-সে-মি-রা অবস্থা।

সোনার চাঁদ (আদরের পাত্র): সোনার চাঁদ নাতিটিকে চৌধুরী সাহেব রক্ষা কবচের মত আগলে রেখেছেন।

সোনা বাহির আঁচলে গেরো (মূল্যবান বস্তুর বদলে মূল্যহীন বস্তুর আদর): মান-সম্মান ত্যাগ করে তুচ্ছ প্রাণের প্রতি এই মমতা সোনা বাহির আঁচলে গেরোর সামিল।

সকার বকার করা (গালি দেওয়া): সকলের সামনে সকার বকার করো না বলছি।

সোনার পাথর বাটি (অসম্ভব বস্তু): গল্পটি তোমার একদম বানানো, বাস্তবতার লেশমাত্র নেই, সোনার পাথর বাটির মতই আজগুবি।

সেয়ানে সেয়ানে (যোগ্যে যোগ্যে): সেয়ানে সেয়ানে কোলাকুলি হয়, নব প্যাক্টের আশা নেই।

সরিষার ফুল দেখা (চোখে আঁধার দেখা): সময় থাকতে ভালভাবে তৈরি হওয়া ভাল, নচেৎ পরীক্ষার হলে বসে সরিষার ফুল দেখাই সার হবে।

সবে ধন নীলমনি (একমাত্র অবলম্বন): সবে ধন নীলমনি পুত্রকে হারিয়ে ওয়াজেদ সাহেব শোকাতুর হয়েছেন।

সাফাই গাওয়া (দোষ স্থালনের চেষ্টা): বাপু হে, তোমার অপকর্মের ফিরিস্তি সবই পেয়েছি, সাফাই গাইলে কি হবে।

সাতেও নয়, পাঁচেও নয় (নির্লিপ্ত): বাড়ির কর্তা নিরীহ মানুষ, কারো সাতেও নয়, পাঁচেও নয়।

সাত জন্মে (কখনও): কবি ছেলে তুমি তোমার মুখে এমন কথা? এ ধরনের উক্তি আমি সাত জন্মেও শুনিনি?

সাপের পাঁচ পা দেখা (গর্বান্ধ হওয়া): চাকরিতে প্রমোশন পেয়ে রহিম খান সাপের পাঁচ পা দেখতেছেন।

স্বখাত সলিল (নিজের বিপদ ডাকা): তিনি রাতারাতি ধনী হতে গিয়ে স্বখাত সলিলে ডুবে গেলেন।

হস্তিমূর্খ (বোকা): তোমার মত হস্তিমূর্খ লোক এমন সাহসের কাজ করতেই পারে না।

হরিষে বিষাদ (আনন্দে দঃখ): ঘরে লেলিহান অগ্নিশিকার ভিতর হতে শিশু দুটিকে উদ্ধার করা গেলেও উদ্ধারকর্তার মৃত্যুতে হরিষে বিষাদ উপস্থিত হল।

হাত পাকানো (দক্ষতা): নকল বিদ্যায় বেশত হাত পাকিয়েছে বটে।

হাতের পাঁচ (শেষ সম্বল): হাতের পাঁচ ঐ পনরটি টাকা ছিল তাও চোরা বাজারে কাপড় আনতে শেষ হল।

হাতির পাঁচ পা দেখা (দুঃসাহসী হওয়া): আমার ছেলে তুমি, তুমি আমাকে মান না, হাতির পাঁচ পা দেখেছ।

হাড় জুড়ানো (শান্তি পাওয়া): শেষমেষ মরে গিয়ে বৃদ্ধ গাঁ শুদ্ধ মানুষের হাড় জুড়িয়েছে।

হাতে-কলমে (যথার্থ কাজ করে): হাতে কলমে শিক্ষাই তো প্রকৃত শিক্ষা।

হিতে বিপরীত (উল্টা ফল): ছেলেটাকে উপদেশ দেওয়ায় আরো উচ্ছৃঙ্খল হয়ে উঠল, এ যে হিতে বিপরীত হল।

হাড়-হাভাতে (হতভাগ্য): যোগ্য পিতার পুত্র যদি এমন হাড়-হাভাতে হয়, তবে ইহা বড়ই দুঃখের বিষয়।

হাড়ির হাল (মলিন): রোদে পানিতে ভিজে চেহারাটি করেছ হাড়ির হাল।

হালে পানি পায় না (অকৃতকার্য হওয়া): বড় বড় মহারথী হালে পানি পায় না আর উনি দেবেন সমস্যা সমাধান করে, হাসালে ভায়া হাসালে।

হ্রস্ব-দীর্ঘ-জ্ঞান (সাধারণ জ্ঞান): অকাট মূর্খ বলেই তো তোমার মত হ্রস্ব-দীর্ঘ-জ্ঞানের ছেলের সঙ্গে মেয়ে বিয়ে দিয়েছি, সবই আমার নসিব।

হাতটান (চুরির অভ্যাস): ছোকরা চাকরটির একটু হাতটান আছে ঘরের জিনিসপত্র সাবধানে রেখো।

হাতির খোরাপ (বেশি খোরাক): এত বড় সংসারের হাতির খোরাক যোগানো আমার পক্ষে অসম্ভব।

হীরের টুকরো (বুদ্ধিমান ও সৎ): আবদুল কাইয়ুম সাহেবের ছেলেটি হীরের টুকরো, সে বংশের মুখোজ্জ্বল করেছে।

হ-য-ব-র-ল (বিশৃঙ্খল): যা বলতে চাও তা পরিষ্কার করে বলো; নইলে তোমার ঐ হ-য-ব-র-ল উক্তি কোন কাজেই লাগবে না বাপু।

হাড়হদ্দ (নাড়ী নক্ষত্র): কালকের ছোকরা আলতাফ আমারই উপর চোখ রাঙ্গায় আমি ওর হাড়হদ্দ জানি।

হাত ধরা (বশীভূত): হাত ধরা লোক হলেই বা কী, এমন কাজ আমাকে দিয়ে হবে না।

হাতে পাঁজি মঙ্গলবার (জানার সুযোগ থাকলেও বৃথা তর্ক): বৃথা তর্কাতর্কি না করে হাতে পাঁজি মঙ্গলবার পুস্তকখানি খুললেই তো সব পরিষ্কার হয়ে যাবে।

হাতে জল না গলা (অতিশয় কৃপণ): মোড়লের কাছে গিয়ে লাভ নেই ভাই, তার হাতে জল গলবে না।

হাত দিয়ে হাতী ঠেলা (অসম্ভবকে সম্ভবপর করতে চেষ্টা করা): হাত দিয়ে হাতী ঠেলবার মত দুরাশা আমি করি না।

হাড়ে হাড়ে চেনা (মর্মান্তিকভাবে পরিচয় জানা): অফিসের বড়কর্তাকে সকলে হাড়ে হাড়ে চিনে, কেননা তাঁর দাপটে তারা অস্থির থাকে।

হালছাড়া (হতাশ হওয়া): পরীক্ষায় পাসের আশা নেই দেখে আবুল হোসেন হাল ছেড়ে দিয়েছে।

হাড়ে বাতাস লাগা (শান্তি পাওয়া): ডাকাত দলটি ধরা পড়েছে, সবার হাড়ে বাতাস লেগেছে।

হাত ঝাড়া দিলে পর্বত (ধনাধিক্য): কিছু সাহায্য দাও বাবা, তোমার তো হাত ঝাড়া দিলেই পর্বত।

হাতের লক্ষ্মী পায়ে ঠেলা (সুযোগ হেলায় হারানো): দুধে-ভাতে চাকরিটি নিলে না, হাতে লক্ষ্মী পায়ে ঠেললে, এখন পস্তাও।

হাড়ে দূর্বা গজানো (আলসেমির লক্ষণ): কিহে আসিফ, কাজকর্ম কিছু করো না নাকি, বসে থাকতে থাকতে যে হাড়ে দূর্বা গজাবে।

হাটে হাঁড়ি ভাঙা (গোপন কথা ফাঁস করা): খবরদার, আমার পিছে লেগো না; যদি লাগ তাহলে হাটে হাঁড়ি ভেঙে দেব কিন্তু বলে দিচ্ছি।


দয়া করে পোস্টটি শেয়ার করুন...

© BengaliGrammar.Com
Maintenance by BengaliGrammar.Com