রবিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২০, ১১:২১ পূর্বাহ্ন

মাইকেল মধুসূদন দত্ত

প্র : মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্ম তারিখ কত?
উ : ২৫শে জানুয়ারি, ১৮২৪।
প্র : তিনি কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
উ : সাগরদাঁড়ি, যশোর।
প্র : তিনি মূলত কী ছিলেন?
উ : কবি ও নাট্যকার।
প্র : তিনি কোন কোন ভাষায় দক্ষ ছিলেন?
উ : বাংলা, ইংরেজি, গ্রিক, ল্যাটিন, সংস্কৃত, হিব্রু, পারসি, জার্মান, ইটালিয়ান, তামিল ও তেলেগু।
প্র : তাঁর রচিত ও প্রকাশিত প্রথম গ্রন্থের নাম কী?
উ : Captive Ladie (১৮৪৯); ইংরেজিতে লেখা)। (Captive অর্থ বন্দি)।
প্র : মধুসূদন রচিত ও প্রকাশিত প্রথশ বাংলা গ্রন্থের নাম কী?
উ : শর্মিষ্ঠা (১৮৫৯) নাটক।
প্র : তাঁর রচিত প্রহসনগুলোর নাম কী?
উ : একেই কি বলে সভ্যতা (১৮৬০) ও বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ (১৮৬০)।
প্র : তিনি আর কী কী বাংলা নাটক রচনা করেন?
উ : পদ্মাবতী (১৮৬০), কৃষ্ণকুমারী (১৮৬১)।
প্র : ‘বীরাঙ্গনা কাব্য’ গ্রন্থের পরিচয় দাও।
উ : ‘বীরাঙ্গনা কাব্য’ (১৮৬২) পত্রকাব্য। পত্রাকারে এ ধরনের কাব্র বাংলা সাহিত্যে এটাই প্রথম। রোমান কবি পাবলিসাস ওভিডিয়াস ন্যাসো সংক্ষেপে ওভিদের ‘হেরোইদাইদ্স’ কাব্যের অনুসরণে এই গ্রন্থ রচিত। এখানে মোট এগারটি পত্র আছে। দুষ্মন্তের প্রতি শকুন্তলা, দশরথের প্রতি কৈকেয়ী, সোমের প্রতি তারা, নীলধ্বজের প্রতি জনা প্রভৃতি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। পৌরাণিক নারীরা মধুসুদনের হাতে যেন আধুকি মানুষ হিসেবে পুনর্জাগরিত হয়ে নিজেদের প্রণয়-কামনা ইত্যাদি প্রকাশ করতেও কুণ্ঠিত নয়। এ্ গ্রিন্থ রচনার জন্য সমকালে মধুসূদন নিন্দিত হয়েছিলেন।
প্র : ‘কৃষ্ণকুমারী’ নাটক সম্পর্কে লেখ।
উ : ‘কৃষ্ণকুমারী’ (১৮৬১) নাটকের কাহিনি উইলিয়াম টডের ‘রাজস্থান’ নামক গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত। এই নাটকে মধুসূদন দত্ত বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক ট্রাজেডি রচনা করেন। এজন্য নাটকটি বিশেষভাবে উল্লেকযোগ্য। এই নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো : কৃষ্নকুমারী, মদনিকা, ভীম-সিংহ, জগৎসিংহ, ধনদাস প্রমুখ। ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হলেও নাটকটি রচিত হয়েছিল ১৮৬০ সালে। রচনার প্রায় সাত বছর পর এ নাটক ‘শোভাবাজার থিয়েটারে’ ১৮৬৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রথম অভিনীত হয়।
প্র : ‘কৃষ্ণকুমারী’ কোন জাতীয় নাটক?
উ : বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক ট্রাজেডি নাটক।
প্র : মহাভারতের সুন্দ ও উপসুন্দ কাহিনিকে অবলম্বন করে তাঁর রচিত কাহিনির নাম কী?
উ : তিরোত্তমাসম্ভব কাব্য (১৮৬০)।
প্র : তাঁর রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক গীতিকাব্রের নাম কী?
উ : ব্রজাঙ্গনা (১৮৬১)।
প্র : তাঁর রচিত অমর মহাকাব্যের নাম কী?
উ : মেঘনাদবধ কাব্য (১৮৬১)।
প্র : মেঘনাদবদ কাব্যের কাহিনি কোন মহাকাব্য থেকে গৃহীত হয়েছে?
উ : সংস্কৃত মহাকাব্য রামায়ণ।
প্র : ‘মেঘনাদবধ কাব্যে’র পরিচয় দাও।
উ : সংস্কৃত মহাকাব্য ‘রামায়ণে’র ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ কাহিনি অবলম্বন করে মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দের জুন মাসের মধ্যে ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ রচনা করেন। গ্রন্থটি ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দেই প্রকাশ পায়। এটা মধুসূদনের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ। ‘তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য’ (১৮৬০) তাঁর প্রথম এবং বাংলা সাহিত্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। ‘মেঘনাদবধ কাব্যে’র বিরাট পটভূমির মধ্যে নানা ধরনের চরিত্র এবং নানা রসের সমাবেশ ঘটেছে। কবি কাব্যের প্রথম দিকে বীররসের কথা বললেও এই কাব্যে করণরসই প্রধান। ১৮৫৭ খ্রিষ্টাব্দে সংঘটিত সিপাহি বিপ্লবের স্বাধীনতামন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে রাবণকে নায়ক ও রামকে খলনায়ক করে মধুসূদন রচনা করে এই স্বাধীনতাভিলাষী কাব্য। নয় সর্গে সম্পূর্ণ ‘মেঘনাদবধ কাব্যে’ বীরবাহুর মৃত্যুসংবাদ থেকে মেঘনাদ হত্যা, প্রমীলার চিতারোহণ পর্যন্ত মোট তিন দিন দুই রাতের ঘটনা বর্ণিত। এ কাব্যের ট্রাজেডি সৃজন হয়েছে নায়ক রাবণ চরিত্রকে অবলম্বন করে। কবি মিল্টনের ‘প্যারাডাইস লস্ট’ মহাকাব্যে শয়তান যেমন দুর্জয় বাসনা ও ঋজুতা প্রদর্শন করে, মধুসূদনও রাবণকে দিয়ে সে কাজ করিয়েছেন। ভাব-ভাষা ও শব্দ ব্যবহারে কবি বিদেশি ক্লাসিক রীতি আয়ত্ত করে তা বাংলায় ব্যবহার করেছেন। কাব্যের বিভিন্ন সর্গে বীরত্ব, অভিমান, আক্ষেপ ইত্যাদি প্রকাশিত। কয়েকটি প্রধান চরিত্র : রাবণ, মেঘনাদ, লক্ষ্মণ, রাম, প্রমীলা, বিভীষণ, সীতা, সরমা ইত্যাদি।
প্র : ‘মেঘনাদবধ কাব্যে’র সর্গগুলোর নাম লেখ।
উ : প্রথম সর্গ > অভিষেক
দ্বিতীয় সর্গ > অস্ত্রলাভ
তৃতীয় সর্গ > সমাগম
চতুর্থ সর্গ > অশোক বন
পঞ্চম সর্গ > উদ্যোগ
ষষ্ঠ সর্গ > বধ
সপ্তম সর্গ > শক্তিনির্ভেদ
অষ্টম সর্গ > প্রেতপুরী
নবম সর্গ > সংস্ক্রিয়া।
প্র : মেঘনাদবধ কাব্যের কাহিনি বিস্তার কোন্ ঘটনা থেকে কোন ঘটনা পর্যন্ত?
উ : মেঘনাদবধ কাব্যে নয়টি সর্গে সম্পূর্ণ, কাহিনিবিস্তার- বীরাবাহুর নিধন সংবাদ থেকে মেঘনাদের হত্যা এবং প্রমীলার মৃত্যু ও চিতারোহণ পর্যন্ত। এই মহাকাব্যে মোট তিনদিন ও দুরাত্রির ঘটনা বর্ণিত হয়েছে।
প্র : মেঘনাদবধ কাব্যে মধুসূদন কোন কোন পাশ্চাত্য কবি ও কাব্য থেকে ঋণ গ্রহণ করেন?
উ : মেঘনাদবধ কাব্য রচনায় মধুসূদন কবি ভার্জিলের ইনিড। দান্তের ডিভাইন কমেডি, হোমারের ইলিয়াড ও মিল্টনের প্যারাডাইস লস্ট থেকে বহু কাহিনিসূত্র ও চরিত্রাদর্শ অনুসরণ করেছিলেন।
প্র : মেঘনাদবধে চরিত্র সৃষ্টিতে মধুসূদন পান্ডাত্যের কোন কবির চরিত্রের খানিকটা প্রভাব স্বীকার করেছিলেন?
উ : চরিত্র সৃষ্টিতে মধুসূদন ইংরেজ কবি মিল্টনের প্যারাইডাস লসট-এর চরিত্রের আংশিক প্রভাব স্বীকার করেছিলেন।
প্র : ব্রজাঙ্গনা কাব্যে কোন শ্রেণির কবিতা সংকলিত হয়েছে? কবি কাব্যটিকে কয় খন্ডে বিভক্ত করার পরিকল্পনা করেছিলেন? এই কাব্যে রাধা সম্পর্কে কবি কী বলেছেন?
উ : ব্রজাঙ্গনা কাব্যের কবিতাগুলি ওড্ (Ode)-জাতীয় গীতিকবিতা। মধুসূদন কাব্যটিকে দুই খন্ডে বিভক্ত করে রচনার পরিকল্পনা করেছিলেন, বিরহ ও মিলন। তবে ‘মিলন’ খন্ডটি তিনি লিখে যেতে পারেন নি। এই কাজে রাধা সম্পর্কে মধুসূদন বলেছেন রাধা হরেন ‘Poor Old Mrs. Radha of Braja. (ব্রজের হতভাগিনী নায়িকা রাধা)
প্র : মেঘনাদবধ কাব্রেল নরক বর্ণনায় মধুসূদন দত্তের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলির নাম ও প্রকাশকাল লেখ।
উ : মাইকের মধুসূদন দত্তের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুরি হল : শর্মিষ্ঠা- প্রকাশকাল ১৮৫৯, বুড় ষালিকের ঘাড়ে রোঁ-প্রকাশকাল ১৮৬০, একেই কী বলে সভ্যতা?-প্রকাশকাল ১৮৬০, পদ্মাবতী-প্রকাশকাল ১৮৬০, তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য-প্রকাশকাল ১৮৬০, মেঘনাদবধ কাব্য-প্রকাশকাল ১৮৬১, কৃষ্ণুকুমারী-প্রকাশকাল ১৮৬১, বীরাঙ্গনা কাব্য-প্রকাশকাল ১৮৬২, ইংরেজি গ্রন্থ : The Captive Ladie-১৮৪৯ খ্রিষ্টাব্দ।
প্র : মধুসূদন কেন বাংলা নাটক রচনায় ব্রতী হয়েছিলেন?
উ : মধুসূদন দেখেছিলেন বাংলায় মৌলিক নাটক রচনার অবাব রয়েছে। ইংরেজি ও সংস্কৃত নাটকের অক্ষম অনুবাদ ধনী জমিদারদের শৌখিন রঙ্গমঞ্চে অভিনীত হতো। তাই মধুসুদন বলেছিলেন- “অলীক কুনাট্যরঙ্গে মজে লোক রাঢ়েবঙ্গে/নিরখিয়া প্রাণে নাহি সয়।” তাই তিনি নিজে বাংলা নাটক লেখায় হাত দেন এবং তাঁর নাটক মঞ্চস্থ হলে অসধারণ দর্শকপ্রিয়তা লাভ করে।
প্র : তিনি বাংলা কাব্র সাহিত্যে কীসের স্রষ্টা?
উ : অমিত্রাক্ষর ছন্দের।
প্র : বাংলা ভাষায় কী রচনায় তাঁর কৃতিত্ব প্রথম?
উ : চতুর্দশপদী কবিতাবলি (১৮৬৬); সনেট।
প্র : তিনি কার অনুকরণে চতুর্দশপদী কবিতাবলি বা সনেট রচনা করেন?
উ : ইতালীয় কবি পেত্রার্ক এবং শেকস্পিয়র।
প্র : তিনি হোমারের ‘ইলিয়াড’-এর উপাখ্যান অবলম্বন করে বাংলা গদ্যে কী রচনা করেন?
উ : হেক্টরবধ (১৮৭১)।
প্র : ‘হেক্টরবধ’ গ্রন্থের পরিচয় দাও।
উ : ‘হেক্টরবধ’ (১৮৭১) হোমারের ‘ইলিয়াড’ মহাকব্রের প্রথম কয়েকটি সর্গের গদ্যে রচিত বঙ্গানুবাদ। মধুসূদন রচনাটি ১৮৬৭ তে শুরু করেন কিন্তু অসমাপ্ত অবস্থাতেই ১৮৭১ সালের ১লা সেপ্টেম্বর তা প্রকাশিত হয়। হোমারের রচনা মূল গ্রিক থেকে বাংলায় অনুবাদের এটিই প্রথম প্রচেষ্টা। গ্রন্থটি ভূদেব মুখোপাধ্যায়কে উ ৎসর্গ করা হয়েছিল।
প্র : মধুসূদনের প্রপিতামহের নাম কী?
উ : রামকিশোর দত্ত।
প্র : মধুসূদন কবে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেন?
উ : ১৮৪৩ সালের ৯ই ফেব্রুয়ারি। তাঁর বয়স তখন ১৯ বৎসর।
প্র : তিনি মাদ্রাজের উদ্দেশ্যে কলকাতা ত্যাগ করেন কত বছর বয়সে?
উ : ২৪ বৎসর বয়সে।
প্র : মধুসূদন রেবেকা মেকটাভিসকে কত তারিখে বিয়ে করেন?
উ : ১৮৪৮ সালের ৩১শে জুলাই।
প্র : মধুসূদন কীভাবে অধ্যায়ন করে ভাষা শিখেছেন?
উ : ‘সকালে দুঘণ্টা পড়েন হিব্রু, দুপুরের পর দুঘণ্টা গ্রিক, বিকেলে তিন ঘণ্টা তেলেগু ও সংস্কৃত, সন্ধ্যে বেলায় দুঘণ্টা ল্যাটিন আর রাতের বেলায় তিন ঘণ্টা ইংরেজি- মোট বারো ঘণ্টা। (সূত্র : গোলাম মুরশিদ রচিত ‘আশার ছলনে ভুলি’, পৃ. ১২১)
প্র : মধুসূদন সম্পাদিত (মাদ্রাস থেকে প্রকাশিত) পত্রিকাগুলোর নাম :
উ : Eurasian Ges Madras Hindu Chronicle. সহকারী সম্পাদক হিসেবে : Madras Spectator.
প্র : মধুসূদনের প্রথম পূর্ণাঙ্গ জীবনীগ্রন্থের নাক মী?
উ : যোগীন্দ্রনাথ বসু রচিত ‘মাইকেল মধুসূদন দত্তের জীবনচরিত’ (১৮৯৩)।
প্র : মধুসূদনের সৃষ্টির মাহেন্দ্রক্ষণ বলা হয় কোন সময়কে?
উ : মাদ্রাজ থেকে ১৮৫৬ সালের প্রথম দিকে কলকাতায় ফিরে ১৮৬২ সালের মাঝামাঝি সময়ে মধুসূদনের বিলেত গমনের পূর্ব পর্যন্ত।
প্র : এমেলিয়া হেনরিয়েটা সঙ্গে কবির সম্পর্কে কী?
উ : বিবাহিত মধুসূদনের সঙ্গে হেনরিয়াটার প্রণয ছিল। কবি ১৮৫৬ সালে মাদ্রাজ থেকে কলকাতায় এলে রেবেকা ও তাঁদের চার সন্তানের সঙ্গে মধুসূদনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়। কবি রেবেকাকে আনুষ্ঠানিক ডিভোর্স দেন নি। এ সময় মা দ্রাজ থেকে কবির আহ্বানে হেনরিয়েটা কলকাতায় আসেন এবং স্বামী-স্ত্রীর মতো তারা বসবাস করেন। হেনরিয়েটা রসঙ্গে কবির ধর্মমতে বা অন্য কোনোভাবে বিয়ে হয় নি। (সূত্র : ‘আশার ছলনে ভুলি’)
প্র : ১৮৬২ সালে কেন মধুসূদন ইংল্যান্ড যান?
উ : ব্যারিস্টারি পড়ার জন্য।
প্র : তিনি কি ব্যারিস্টার হতে পেরেছিলেন?
উ : তিনি ব্যারিস্টার হয়ে কলকাতায় প্রত্যাবর্তন করেছিলেন। তবে আইন পেশায় ভালো করতে পারেন নি।
প্র : ‘শর্মিষ্ঠা’ মধুসূদনের উল্লেখযোগ্য নাটক কেন?
উ : ‘শর্মিষ্ঠা’ মধুসূদন দত্তের প্রথম প্রকাশিত বাংলা নাটক। কলকাতার পাইকপাড়ার রাজাদের অনুপ্রেরণায বেলগাছিয়া থিয়েটারের জন্য মধুসূদন দত্ত ১৮৫৮ সালে নাটকটি রচনা করেন। ১৮৫৯ সালের জানুয়ারি মাসে রাজাদের অর্থানুকূল্যে ‘শর্মিষ্ঠা’ প্রকাশিত ও ১৮৫৯ সালের ৩রা সেপ্টেম্বর সেটা বেলগাছিয়া থিয়েটারে মঞ্চস্থ হয়। পান্ডাত্যরীতিতে বাংলা নাটক রচনার চেষ্টা এই নাটকের মধ্যে বিশেষভাবে সফলতা পায়। মধুসূদন পরে ‘শর্মিষ্ঠা’র ইংরেজি অনুবাদও করেন। এই নাটক রচনায় পুরাণের কাহিনি অবলম্বন করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য চরিত্র : যযাতি, দেবযানী, শর্মিষ্ঠা, মাধব্য, পূর্ণিমা, রাজমন্ত্রী প্রমুখ।
প্র : ‘তিলোত্তমাসম্ভব’ কাব্র সম্পর্কে লেখ।
উ : মাইকেল মধুসূদন দত্তের চার সর্গে রচিত কাব্য। ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে রচিত ও সে বছরই মে মাসে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত। সৌন্দর্য প্রতিমা তিলোত্তমাকে নিয়ে সুন্দ-উপসুন্দের দ্বন্দ্ব এই কাব্যের উপজীব্য। বাংলা ভাষায় অমিত্রাক্ষর চন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ হলো ‘তিলোত্তমাসম্ভব’ কাব্য। অবশ্য কবি তাঁর ‘পদ্মাবতী’ (১৯৬০) নাটকের দ্বিতীয় অঙ্ক, দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রথম প্রয়োগ করেছিলেন। কিন্তু সম্পূর্ণ গ্রন্থ হিসেবে তিলোত্তমাসম্ভব কাব্যই প্রথম।
প্র : ‘ড়–ড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ’ গ্রন্থের প্ররিচয় দাও।
উ : ‘বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ’ (১৮৬০) প্রহসন। প্রথমে এ প্রহসনের নাম ছিল ‘ভগ্ন শিবমন্দির’। এক লম্পট জমিদারের আচার-ব্যবহার ও দরিদ্র প্রজাদের দ্বারা উচিত শিক্ষা এই উপভোগ্য প্রহসনের মূলকাহিনি। এর গঠন ও বিষয়বস্তুর প্রভাব পরবর্তী বাংলা নাটকে খুবই স্পষ্ট। বেলগাছিয়া থিয়েটারে মঞ্চায়নের জন্য মধুসূদন যে দুটো প্রহসন রচনা করেন তা একটি ‘বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ’। পরে প্রভাবশালীদের প্ররোচনায় এর কোনোটি মঞ্চস্থ হতে পারে নি। ক্ষুব্ধ মধুসূদন জানিয়েছিলেন যে, প্রহসন লেখার ব্যঅপারে তাঁর ‘ডানা ভেঙ্গে গেছে’। পরে সত্যি মধুসূদন আর কোনো প্রহসন লেখেন নি। উল্লেখযোগ্য চরিত্র : ভক্তপ্রসাদ, পঞ্চানন বাচস্পতি, গদাধর, পুঁটি, ফাতেমা, ভগী, হানিফ গাজি প্রমুখ।
প্র : ‘একেই কি বলে সভ্যতা’ সম্পর্কে লেখ।
উ : ‘একেই কি বলে সভ্যতা’ প্রহসনে তৎকালীন নব্যবঙ্গীয় সম্প্রদায়ের সুরাপান এবং ইংরেজ অনুকরণের প্রতি ব্যঙ্গ করা হয়েছে। বেলগাছিয়া নাট্যশালায় অভিনয়ের জন্য মধুসূদন যে দুটো প্রহসন রচনা করেন ‘একেই কি বলে সভ্যতা’ তার একটি। অন্যটি ‘বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ’। সত্রের যথাযথ উল্লেখ থাকায় প্রভাবশালীদের প্ররোচনায় দুটো প্রহসনের একটিও শেষ পর্যন্ত ওই মঞ্চে মঞ্চস্থ হয় নি। মাইকেল মধুসূদন দত্ত নবলব্ধ ইংরেজি শিক্ষাভিমানী যুবকদের উচ্ছৃঙ্খলতা ও অনাচারের কথা বর্ণনা করতে রচনা করেন দুই অঙ্ক বিশিষ্ট নাটক ‘েেকই কি বলে সভ্যতা’। প্রকাশিত হয়েছে ১৮৬০ সালে। নাটকটিতে উল্লেখযোগ্য চরিত্র নবকুমার, কালীনাথ, বাবাজী, নিতম্বিনী, কর্তামশাই, প্রসন্নময়ী, পয়োধরী ইত্যাদি। এটি মূলত ইয়ংবেঙ্গল দলের মন্দ দিকটি পরিস্ফুট হয়েছে। নাট্যশাস্ত্রের বিবেচনায় এ ধরনের নাটককে প্রহসন বলা হয়।
প্র : ‘চতুর্দশপদী কবিতাবলী’ সম্পর্কে লেখ।
উ : ‘চতুর্দশপদী কবিতাবলী’ মাইকের মধুসূদন দত্ত রচিত ১০২টি সনেটের সঙকলন। মধুসূদনের আগে বাংলা সনেট বা সনেটগ্রন্থ রচিত হয় নি। সে বিচারে বাংলা সনেটের আদি গ্রন্থ এটি। গ্রন্থটি ১৮৬৬ সালের ১লা াগস্ট গ্রন্থকারে প্রকাশিত হয়। কবিতাগুলি প্রবাসে রচিত। সনেটগুলির কয়েকটি পেত্রার্কের আদর্শে এবং বেশির ভাগ শেক্সপিয়রীয় আদর্শে রচিত। সনেটগুলির বিষয়বস্তু বিচিত্র-ভারতীয় ও পান্ডাত্য কবিদের উদ্দেশ্যে বন্দনা, বাংলাদেশের নদী, বৃক্ষ, পশুপাখি, পালাপার্বণ এবং আত্মজীবনের সুখ-দুঃখ। বঙ্গভাষা, কপোতাক্ষ নদ, আশা ইত্যাদি বিখ্যাত সনেট এই গ্রন্থভুক্ত। মিত্রাক্ষর ও অমিত্রাক্ষর উভয়বিদ ছন্দের চতুর্দশ পঙ্ক্তিতে রচিত কবিতাসংকলন এটি।
প্র : মধুসূদন দত্তকে কী বলা হয়?
উ :বাংলা সাহিত্যেল প্রথম বিদ্রোহী কবি। কারণ সাহিত্যিক ও সামাজিক বিদ্রোহ তিনিই প্রথম করেন।
প্র : তিনি কোথায় প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন।
উ : পদ্মাবতী নাটকে (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)
প্র : মধুসুদন পোশাকে বিদ্রোহী কীভাবে?
উ : মধুসূদন বাঙালি হিন্দু বা মুসলিমের পোশাকের পরিবর্তে বাঙালিদের মধ্যে প্রথম পান্ডাত্য পোশাক হিসেবে প্যান্ট-কোট-টাই পরেন।
প্র : মধুসূদনের াসম্পূর্ণ নাটকের নাম কী?
উ : সুলতানা রিজিয়ার বীরত্বপূর্ণ কাহিনি নিয়ে ইংরেজি অসম্পূর্ণ নাটক রিজিয়া।
প্র : মধুসুদন আর একটি মহাকাব্র লিখতে চেয়েছিলেন কোন কাহিনি নিয়ে?
উ : কারবালার কাহিনি।
প্র : মধুসূদন দত্তের অবদান সম্পর্কে এক বাক্যে কী বলা যায়?
উ : বাংলা সাহিত্যেল প্রথম বিদ্রোহী লেখক; প্রথম আধুনিক কবি; প্রথম আধুনিক নাট্যকার; অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক; বাংলা সনেট বা চতুর্দশপদী কবিতার প্রথম রচয়িতা; সার্থক ট্রাজেডির প্রথম রচয়িতা; প্রথম প্রহসন রচয়িতা; পুরাণকাহিনির ব্যত্যয় ঘটিয়ে আধুনিক সাহিত্যরস সৃষ্টির প্রথম শিল্পী; পান্ডাত্য ও প্রাচ্যধারার সংমিশ্রণে নতুন ধরনের মহাকাব্য রচিয়তা।
প্র : তিনি কত তারিখে মৃত্যুবরণ করেন?
উ : ১৯শে জুন, ১৮৭৩; কলকাতা।


পোস্টটি শেয়ার করুন...

© BengaliGrammar.Com
Maintenance by BengaliGrammar.Com