July 17, 2019, 4:34 am

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

প্র : রবীন্দ্রনাথ কোন গ্রন্থের জন্য নোবেল পুরস্তার লাভ করেন?
উ : বাংলা ভাষায় প্রকাশিত গ্রন্থের জন্য নোবেল পুরস্কার দেয়া হয় না। রবীন্দ্রনাথ এই পুরস্কার অর্জন করেন ইংরেজি ‘গীতাঞ্জলি’ বা Song Offerings গ্রন্থের জন্য।
প্র : কবি কত সালে নোবেল পুরস্কার পান?
উ : ১৯১৩ সালের নভেম্বর মাসে।
প্র : কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কত সালে তাঁকে ডি-লিট উপাধি প্রদান করে?
উ : ১৯১৩ সালের ২৬শে ডিসেম্বর।
প্র : শান্তিনিকেতন থেকে রবীন্দ্রনাথের নোবেল পদক চুরি হয়ে যায় কবে?
উ : ২৪শে মার্চ, ২০০৪ দিবাগত রাতে।
প্র : ব্রিটিশ সরকার কত সালে তাঁকে নাইটহুড বা ‘স্যার’ উপাধি প্রদান করেন?
উ : ১৯১৫, ৩রা জুন।
প্র : তিনি কবে, কেন তা বর্জন করেন?
উ : পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকান্ডের (১৯/৪/১৯১৯) প্রতিবাদে ১৯১৯ সালের এপ্রিলে।
প্র : অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে কত সালে ডি-লিট উপাধি প্রদান করে।
উ : ১৯৪০-এর ৭ই আগষ্ট।
প্র : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাঁকে কত সালে ডি-লিট উপাধি দেয়া হয়?
উ : ১৯৩৬ সালে।
প্র : রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টিভান্ডারের সংখ্যা কত?
উ : কাব্যগ্রন্থ ৫৬টি, গীতিপুস্তক ৪টি, ছোটগল্প ১১৯টি, উপন্যাস ১২টি, ভ্রমণ কাহিনি ৯টি, নাটক ২৯টি, কাব্যনাট্য ১৯টি, চিঠিপত্রের বই ১৩টি, গানের সংখ্যা ২২৩২টি এবং অঙ্কিত চিত্রাবলি প্রায় দুহাজার।
প্র : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম রচনা সংকলনের নাম কী?
উ : ‘চয়নিকা’ (১৯০৯)। এলাহাবাদের ইন্ডিয়ান প্রেস থেকে পাঁচকড়ি মিত্র কর্তৃক মুদ্রিত এবং শ্রীচারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় কর্তৃক প্রকাশিত। প্রথম সংস্করণে ১৩০টি কবিতা ছিল। ১৯২৪ সালে রবীন্দ্রনাথের ২০০টি কবিতা বেছে দেবার জন্য বিশ্বভারতী গ্রন্থালয় থেকে একটি প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা করা হয়। এই প্রতিযোগিতায় ৩২০ জন পাঠক যোগ দেন। তাঁদের ভোট সংখ্যা কবিতাগুলি জনপ্রিয়তার সূচক। ১৯২৫ সালের সংস্করণ এই লোকপ্রিয়তা অনুসারে সংকলিত হয়।
প্র : রবীন্দ্রনাথের প্রধান কাব্যগ্রন্থগুলোর নাম কী?
উ : সোনার তরী (১৮৯৪), চিত্রা (১৮৯৬), চৈতালী (১৮৯৭), কল্পনা (১৯০০), ক্ষণিকা (১৯০০), গীতাঞ্জলি (১৯১০), বলাকা (১৯১৬), পূরবী (১৯২৫), পুনশ্চ (১৯৩২), পত্রপুট (১৯৩৬), সেঁজুতি (১৯৩৮)।
প্র : ‘প্রভাতসঙ্গীত’ গ্রন্থের পরিচয় দাও।
উ : ‘প্রভাতসঙ্গীত’ (১৮৮৩) একটি কাব্যগ্রন্থ। এখানে মোট একুশটি কবিতা আছে। রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন, ‘প্রভাতসঙ্গীত আমার অন্তর প্রকৃতির প্রথম বহির্মুখী উচ্ছ্বাস।’ এই গ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতা : নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ।
প্র : ‘কড়ি ও কোমল’ কাব্যগ্রন্থ সম্পর্কে লেখ।
উ : ‘কড়ি ও কোমল’ (১৮৮৬) সম্পর্কে বলা হয়, এইগ্রন্থের বিষয়বিচিত্র, ভাবসুস্পষ্ট, ভাষা সুদৃঢ়, ছন্দ মধুর। তারুণ্যের উচ্ছলতা, নারীদেহের প্রতি মুগ্ধতা ও মৃত্যুর রহস্যময়তার প্রতি আকর্ষণ- এই তিনটি লক্ষণে কাব্যটি বিশিষ্ট। রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন, ‘মৃত্যুর নিবিড় উপলব্ধি আমার কাব্যের একটি বিশেষ ধারা, বাণীতে যার প্রকাশ। কড়ি ও কোমলেই তার প্রথম উদ্ভব’। ১৮৮৪ সালে বৌদি কাদম্বরী দেবীর আত্মহত্যাজনিত মৃত্যু রবীন্দ্রমনে যে বিরাগের সৃষ্টি করেছিল সেই প্রভাব ‘কড়ি ও কোমল’ কাব্যগ্রন্থে আছে। উল্লেখযোগ্য কবিতা : চুম্বন, বাহু, চরণ, কেন, মোহ।
প্র : ‘মানসী’ গ্রন্থের পরিচয় দাও।
উ : ‘মানসী’ (১৮৯০) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্যকলার পূর্ণপ্রতিষ্ঠামূলক কাব্যগ্রন্থ। এখানে বৃহৎ প্রকৃতির প্রভাব কবির আবেগ ও অনুভূতির উপর ক্রিয়াশীল। রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন, “নতুন আবেষ্টনে এই কবিতাগুলি সহসা যেন নবদেহ ধারণ করল। […] আমার রচনার এই পর্বেই যুক্ত অক্ষরকে পূর্ণমূল্য দিয়ে ছন্দকে নূতন শক্তি দিতে পেরেছি। ‘মানসী’তেই ছন্দের নানা খেয়াল দেখা দিতে আরম্ভ করেছে। কবির সঙ্গে যেন একজন শিল্পী এসে যোগ দিল।” মানসীর কবিতাগুলো দুই ভাগে বিভক্ত। একদিকে অতীত জীবনের পিছুটানমূলক কবিতা, অন্যদিকে নবযৌবনের নিরুদ্ধ কর্ম-উদ্দীপনার খরদীপ্তি। নিষ্ফল কামনা এই গ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতা। এছাড়াও আছে দুরন্ত আশা, ভুলভাঙ্গা, কুহুধ্বনি, সুরদাসের প্রাথনা, মেঘদূত, অহল্যার প্রতি, আত্মসমর্পণ ইত্যাদি কবিতা।
প্র : ‘চিত্রা’ কাব্যগ্রন্থ সম্পর্কে লেখ।
উ : ‘চিত্রা’ (১৮৯৬) যেন কবির রূপকথার রূপক থেকে সাধারণ জীবনের প্রাত্যহিকতায় অবতরণ। উর্বশী, বিজয়িনী, জীবনদেবতা, স্বর্গ হইতে বিদায়, ১৪০০ সাল ‘দুঃসময়’ দুই বিঘা জমি, এবার ফিরাও মোরে প্রভৃতি বরীন্দ্রনাথের বহুবিখ্যাত কবিতা এই কাব্যের অন্তর্গত। একগুচ্ছ কবিতায় বাস্তবমুখিতা, আরেকগুচ্ছ কবিতায় নিরুদ্দেশ সৌন্দর্যের অভিসার-এই দুই ভিন্নমুখী সুর ‘চিত্রা’ কাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। ‘চিত্রা’র শেষ কবিতা সিন্ধুপারেতে প্রকাশ করা হয়েছৈ যে, ছদ্মবেশে কবিসত্তাকে জীবনদেবতা ঘর ছাড়া করে স্বপ্ন-অভিসারের মধ্যে নিয়ে গিয়ে নবজীবনলোকে জীবনস্বামিনী রূপে আত্মপ্রকাশ করলেন।
প্র : ‘আরোগ্য’ কাব্যগ্রন্থের পরিচয় দাও।
উ : রবীন্দ্রনাথের এই কাব্যটি প্রকাশিত হয় ১৩৪৭ বঙ্গাব্দে (১৯৪১)। এই কাব্যে কোন কবিতার নাম নেই, সংখ্যা দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে কবি এই কবিতাগুলো মুখে মুখে রচনা করেছেন এবং তা কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয় নি। এটি তেত্রিশটি কবিতার সংকলন। কবিতাগুলি ১৯৪০-এর ডিসেম্বর থেকে ১৯৪১-এর ফেব্রুয়ারির মধ্যে রচিত। কবিতার ভাষা অলঙ্কারহীন, ছন্দ ধীরগতি এবং চিত্রগুলি পরিচিত জীবনের। এই ক্ষুদ্রাকৃতি কবিতাগুলি কবিপ্রতিভার করুণ অুিমকালে আলোকে রশ্মিতে দীপ্তিময়।
প্র : ‘কণিকা’ কোন ধরনের গ্রন্থ?
উ : ‘কণিকা’ (১৮৯৯) ১১০টি ছোটো ছোট পদ্যের সংকলন। অধিকাংশ কবিতাই নীতিমূলক, সংস্কৃত কাব্যের সুভাষিতাবলির আদর্শে রচিত। এই কবিতাকণাগুলোতে কবির তাত্ত্বিক দৃষ্টির প্রকাশ ঘটেছে।
প্র : ‘উৎসর্গ’ গ্রন্থের পরিচয় দাও।
উ : ৪৬টি কবিতার সংকলন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘উৎসর্গ’ (১৯১৪)। রবীন্দ্রনাথের বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য কবিতা এই কাব্যগ্রন্থটিতে সংযুক্ত হয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো : আমি চঞ্চল হে; তোমার পাছে সহজে বুঝি, সবটাই মোর ঘর আছে ইত্যাদি।
প্র : ‘ক্ষণিকা’ গ্রন্থ সম্পর্কে লেখ।
উ : ‘ক্ষণিকা’ (১৯০০) কাব্যগ্রন্থ। জীবনের আপাত-তুচ্ছ মুহূর্তগুলির প্রতি গভীর ভালোবাসা, যৌবনের উল্লাস ও চটুলতা, এই কাব্যের মূল সুর। ছন্দের সাবলীলতা ও ক্ষিপ্রতা এই কাব্যের কবিতাগুলির বিশেষ বৈশিষ্ট্য। উল্লেখযোগ্য কবিতা : ক্ষণিকা, যথাসময়, বোঝাপড়া, অচেনা, বিদায়, সেকাল, উদাসীন, শেষ ইত্যাদি। এই গ্রন্থের কবিতাগুলো রবীন্দ্রনাথের অন্যান্য কবিতার চেয়ে স্বতন্ত্র।
প্র : ‘কথা ও কাহিনী’ সম্পর্কে লেখ।
উ : ‘কথা ও কাহিনী’ (১৯০০) কাব্যগ্রন্থ। ‘কথা’ (১৮৯৯) ও ‘কাহিনী’ (১৮৯৯) নামে দুটি স্বতন্ত্রকাব্য থেকে এই নতুন কাব্য গঠিত হয়েছে। ‘কথা ও কাহিনী’র প্রথম অংশে বৌদ্ধ অবদান এবং ইউলিয়াম টডের গ্রন্থ ‘রাজস্থানে’র কয়েকটি আখ্যান অবলম্বনে রচিত কবিতা আছে। কাহিনি-কবিতা। দেবতার গ্রাস, গান্ধারীর আবেদন, কর্ণ-কুন্তী সংবাদ, বিসর্জন প্রভৃতি কাহিনি এই অংশের অন্তর্ভুক্ত।
প্র : ‘খেয়া’ কাব্যগ্রন্থের পরিচয় দাও।
উ : ‘খেয়া’ (১৯০৬) পঞ্চান্নটি কবিতার সংকলন। এ সংকলনের কবিতাগুলির মধ্যে ক্লান্তি ও বিষাদের সুর প্রাধ্যান্য পেয়েছে। গ্রন্থটি বিজ্ঞানী জগদীশচন্দ্র বসুকে উৎসর্গ করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য কবিতা হলো : পথের শেষ, শেষ খেয়া, ঘাটেরপথ, বিদায়, দীঘি, আগমন, বৈশাখে, জাগরণ ইত্যাদি। খেয়া কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলিতে জীবনের ব্যথাবেদনার ও বিচিত্র অনুভবের মধ্যে চরম শ্রেয়োলাভের আকাক্সক্ষা প্রকাশিত। এ গ্রন্থের বেশ কিছু কবিতায় আধ্যাত্মিকতা আছে।
প্র : ‘মহুয়া’ গ্রন্থের পরিচয় দাও।
উ : ‘মহুয়া’ (১৯২৯) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কাব্যগ্রন্থ। সবকটি কবিতাই প্রেমবিষয়ক। রবীন্দ্রনাথের শেষ জীবনের প্রেমের কবিতার মধ্যে একদিকে যেমন তত্ত্ব, অন্যদিকে তেমনি সংরাগ প্রকাশিত। ‘মহুয়া’ নামের কবিতায় সেই সংরাগের পরিচয় আছে এভাবে :
‘তরল যৌবনচিহ্ন মজ্জায় রাখিয়াছিলি ভরে। কানে কানে কহি তোরে।
বধূরে যেদিন পাবো ডাকিব মহুয়া নাম ধরে।’ মহুয়ার কবিতাগুলিকে বলা যায় রবীন্দ্রনাথের নারীবন্দনা। নারীর মাধুর্য ও লাবণ্য এই কাব্যগ্রন্থে বহুভাবে বর্ণিত হয়েছে।
প্র : ‘শ্যামলী’ কোন ধরনের গ্রন্থ?
উ : ‘শ্যামলী’ (১৯৩৬) কাব্যগ্রন্থ। এ গ্রন্থের রবীন্দ্রনাথের মাটির ঘরের নামে। এটি মোট বাইশটি কবিতার সংকলন। এগুলো গদ্যকবিতার বিশেষ উদাহরণ। ‘পুনশ্চ’ কাব্যগ্রন্থের সঙ্গে এর মিল আছে। ‘আমারই চেতনার রঙে পান্না হল সবুজ’, ‘বাঁশিওয়ালা’, ‘হঠাৎ দেখা’ প্রভৃতি পরিচিতি পঙক্তি বা কবিতাগুলি এ কাব্যের অন্তর্ভুক্ত। রবীন্দ্র-কাব্যজীবনের শেষ পর্বের নিরলঙ্কারী ভাষা, উদাসীনতা ও জীবনের প্রতি আসক্তির বিরোধী অনুভূতি ‘শ্যামলী’ কাব্যের বৈশিষ্ট্য।
প্র : ‘নবজাতক’ কাব্যগ্রন্থ সম্পর্কে লেখ।
উ : ‘নবজাতক’ (১৯৪০) কাব্যগ্রন্থ, যেখানে জীবন সায়াহ্নে কবি ধ্বংসের অপচয় দেখে ব্যথিত হৃদয়ে প্রশ্ন করেছেন, ‘কেন’? এই কাব্যের কবিতাগুলি সম্বন্ধে রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, ‘এরা বসন্তের ফুল নয়, এরা হয়তো প্রৌঢ় ঋতুর ফসল, বাইরে তেকে মন ভোলাবার দিকে এদের ঔদাসীন।’ রাষ্ট্র ও সভ্যতার আবর্জনার উপর এবং দেশের মূঢ়তা ও বিদেশের ক্রূরতার প্রতি কবির ভর্ৎসনা ও ধিক্কার আছে এ গ্রন্থের কবিতায়। আছে ধর্মকে পদদলিত করে মিথ্যের শক্তিতে সব শাসন করার বিরুদ্ধে শ্লেষ। এ গ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতা : বুদ্ধভক্তি, হিন্দুস্থান, রাজপুতলা, কেন ইত্যাদি।
প্র : ‘সেজুতি’ কাব্যগ্রন্থ সম্পর্কে লেখ?
উ : ‘সেঁজুতি’ (১৯৩৮) কাব্যগ্রন্থে মোট বাইশটি কবিতা রয়েছে। অধিকাংশ কবিতাই কবির মৃত্যু সম্পর্কিত ভাবনা ও পৃথিবীর প্রতি ভালোবাসা নিয়ে রচিত। এর আগে কবি রোগে ভুগেছেন। রোগমুক্তির পর কবিদৃষ্টিতে রূপের জগতে আপনার রূপ যেন নতুন করে দেখা দিলো।
প্র : ‘আকাশ-প্রদীপ’ গ্রন্থ সম্পর্কে লেখ?
উ : ‘আকাশ-প্রদীপ’ (১৯৩৯) একটি কাব্যগ্রন্থ। অধিকাংশ কবিতায় শৈশবস্মৃতি এবং জীবন সায়াহ্নের অনুভূতির প্রকাশ, ‘গোধূলিতে নামল আঁধার’ কবিতাটিকে কাব্যগ্রন্থের মূলসুর বলা হয়। এই কাব্য সুধীন্দ্রনাথ দত্তকে উৎসর্গ করেছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। যেসব আধুনিক কবি রবীন্দ্রনাথের কাব্যসৃষ্টিকে কালবারিত বলে মনে করতেন তাদের উদ্দেশ্যে কিঞ্চিৎ কটাক্ষ আছে এ গ্রন্থে।
প্র : ‘শেষ সপ্তক’ সম্পর্কে লেখ।
উ : ‘শেষ সপ্তক’ (১৯৩৬) কাব্যগ্রন্থ। গ্রন্থের কবিতাগুলি গদ্যছন্দে লিখিত। এই ছন্দ সম্বন্ধে রবীন্দ্রনাথের বক্তব্য : ‘এর মধ্যে ছন্দোরাজকতার নিয়ন্ত্রিত শাসন না থাকলেও আত্মরাজকতার অনিয়ন্ত্রিত সংযম নেই কি?’ কবিতাগুলির মধ্যে রবীন্দ্রজীবনের শেষ পর্বের বিষাদ ও কারুণ্য, অতীত যৌবনের স্মৃতি, মৃত্যুর প্রতীক্ষা বর্তমানের তুচ্ছ ও ক্ষুদ্রের প্রতি মমতা ও জীবন সম্বন্ধে সার্থকতার বোধ ব্যাপ্ত।
প্র : ‘সঞ্চয়িতা’ কি?
উ : ‘সঞ্চয়িতা’ (১৯৩১) রবীন্দ্রনাথকৃত নিজ কবিতার সংকলন। কবিতাগুলি কালানুক্রমিকভাবে সজ্জিত। ‘সন্ধ্যাসঙ্গীত’ কাব্যগ্রন্থ থেকে কবিতাগুলি এতে সংকলিত হয়েছে। রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুর পরবর্তী সংস্করণে অবশ্য বিশ্বভারতীয় পরিচালকেরা এতে কিছু নতুন কবিতা যোগ করেছেন এবং এই সংগ্রহ ‘শেষলেখা’ পর্যন্ত বিস্তৃত করেছেন। ‘সঞ্চয়িতা’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় গ্রন্থ।
প্র : ‘পুনশ্চ’ কাব্যগ্রন্থ গুরুত্বপূর্ণ কেন?
উ : ‘পুনশ্চ’ (১৯৩২) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পদ্যছন্দে রচিত প্রথম ও সার্থক কাব্যগ্রন্থ। এই কাব্যের ভূমিকায় রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন, ‘অসংকুচিত গদ্যরীতিতে কাব্যের অধিকারকে অনেকদূর বাড়িয়ে দেওয়া সম্ভব এই আমার বিশ্বাস এবং সেই দিকে লক্ষ্য রেখে এই গ্রন্থে প্রকাশিত কবিতাগুলি লিখেছি।’ এই কাব্যের অর্ধপৃষ্ঠা বিশিষ্ট একটি ভূমিকা লেখেন কবি। রবীন্দ্রনাথের কাব্যের ইতিহাসে তথা আধুনিক বাংলা কবিতার ইতিহাসে এই কাব্যের ভূমিকা বৈপ্লবিক। গদ্যকবিতার অসংকোচ প্রতিষ্ঠা হলো এই কাব্যে। উল্লেখযোগ্য কবিতা : ছেলেটা, শেষ চিঠি, ক্যামেলিয়া, সাধারণ মেয়ে, বাঁশি, খ্যাতি ইত্যাদি।
প্র : ‘পরিশেষ’ গ্রন্থ সম্পর্কে লেখ।
উ : ‘পরিশেষ’ (১৯৩২) কাব্যগ্রন্থ। রবীন্দ্রনাথের শেষ জীবনের কাব্যের সর্বত্র যে বিষাদ গভীর অতীতচারিতা, পারিপার্শ্বিক খুঁটিনাটির প্রতি অনুরাগ, কাব্যদেহে প্রসাধনের প্রতি নির্মোহ ও জীবনের প্রতি নির্মোহ ও জীবনের প্রতি আসক্তি নিরাসক্তির দ্বন্দ্ব, ‘পরিশেষ’ কাব্যেও তা ফুটে উঠেছে।
প্র : ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যগ্রন্থ সম্পর্কে লেখ।
উ : ‘গীতাঞ্চলি’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৭টি গানের সংকলন। গানগুলি ১৯০৮ ১৯০৯ সালে রচিত এবং ১৯১০ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত। এগুলো সহজ ভাষায়, সাবলীল ছন্দে লিখিত। ‘গীতাঞ্জলি’র গানগুলো মূলত কবিতা। ভাবধারার দিক থেকে কবিতাগুলোকে ৫ ভাগে ভাগ করকা যায়। যেমন : ঈশ্বরকে না-পাবার বেদনা; নিজের অহংকার ত্যাগ ও হৃদয় নির্মল করে সহনশীলতা প্রদর্শন; ঈশ্বরের ক্ষণদর্শনানুভূতি; দরিদ্র-দীন-হীন-পতিতের মধ্যে ঈশ্বরকল।পনা; অসীম-সমীমের লীলাতত্তব। ‘গীতাঞ্জলি’র মূলসুর ঈশ্বরমুখিতা হলেও তা কোনো সম্প্রাাদায়-বিশেষের নয়। বিশ্বের বিশালতা ও প্রকৃতি সৌন্দর্য থেকে উৎসারিত এক অধ্যাত্মবোধের সঙ্গে এই বিশ্বাসযুক্ত। ‘গীতাঞ্জলি’র সম্পর্কে অনুবাদ যদিও Song Offerings (১৯১২) নয়, তবু এই গ্রন্থের অধ্যাত্মবাদ, প্রকৃতি, প্রেম যৌবধারায় ইংরেজি গ্রন্থে প্রবহমাণ। Song Offerings গ্রন্থের জন্য রবীন্দ্রনাথ নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন (১৯১৩)
প্র : ‘উৎসর্গ’ কোন ধরনের গ্রন্থ?
উ : ‘উৎসর্গ’ (১৯১৪) একটি কাব্যগ্রন্থ। ১৯০৩-০৪-এ মোহিতচন্দ্র সেন যখন বিষয় অনুসারে ভাগ করে রবীন্দ্রনাথের কাব্য সম্পদনা করেছিরেন তখন রবীনাথ প্রত্যেকটি বিষয়ের জন্য একটি প্রবেশক কবিতা রচনা করেন। সেই কবিতাগুলির সঙ্গে পরে আরও ২৪টি কবিতা যোগ করে ‘উৎসর্গ’ কাব্য রচিত হয়। বলা হয়, রচনাকাল হিসেবে ‘উৎসর্গ’ ‘স্মরণ’ ও ‘শিশু’ কাব্যগ্রন্থের সমসাময়িক, ভাবের দিক থেকে ‘নৈবেদ্য’ ও ‘খেয়া’ কাব্যেল মাধ্যমিক। ‘উৎসর্গে’র কবিতাগুলির অধিকাংশে কবি স্বরূপে পুনরাত্মপ্রকাশ লক্ষ করা যায়।
প্র : ‘স্ফুলিঙ্গ’ কী ধরনের গ্রন্থ?
উ : ‘স্ফুলিঙ্গ’ (১৯৪৫) ছোট ছোট কবিতার সংকলন। এর অনেক কবিতাই রবীন্দ্রনাথের কাছে থেকে বিভিন্ন ব্যক্তির স্বাক্ষর সংগ্রহের খাতা রা ডায়েরি থেকে সংগৃহীত। সংক্ষিপ্ত ও ভাবঘন এই কবিতা-কণিকাগুলি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিশাল কাব্যজগতে এক বিশিষ্ট স্থান অধিকার করে আছে।
প্র : ‘শেষলেখা’ কী ?
উ : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মৃত্যুর পর প্রকাশিত তাঁর শেষ কাব্যগ্রন্থ (১৯৪১)।
প্র : ‘শেষলেখা’ গ্রন্থের পরিচয় দাও?
উ : ‘শেষলেখা’ (১৯১৪) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সর্বশেষ কাব্যগ্রন্থ। এই গ্রন্থের নামকরণ রবীন্দ্রনাথ করে যেতে পারেন নি। অধিকাংশ কবিতা জীবনের শেষ কয়েকদিনের রচনা। কয়েকটি কবিতা মুখে মুখে রচিত। অনুভূতির গভীরতা ও জীবন সম্বন্দে দার্শনিক জিজ্ঞাসার শ্রেষ্ঠ নিদর্শন আছে ‘দুখের আঁধার রাত্রি বারেবারে’ কিংবা ‘তোমার সৃষ্টির পথ রেখেছ আকীর্ণ করি’ প্রভৃতি কবিতায়। এই কাব্যগ্রন্থে রবীন্দ্রনাথের ভাববাদী দর্শনের মধ্যেও চরমভাবে ইহজগৎপ্রীতি প্রকাশিত। তিনি লিখেছেন:
‘রূপ-নারানের কুলে
জেগে উঠিলাম;
জানিলাম এজগৎ
স্বপ্ন নয়।’
প্র : তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস কোনগুলো ?
উ : চোখের বালি (১৯০৩), গোরা (১৯১০), চতুরঙ্গ (১৯১৬), ঘরে-বাইরে (১৯১৬), চার অধ্যায় (১৯৩৪)।
প্র : ‘গোরা’ উপন্যাস সম্পর্কে লেখ।
উ : ‘গোরা’ (১৯১০) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বৃহত্তম এবং অনেকের মতে সর্বশ্রেষ্ঠ উপন্যাস। ‘প্রবাসী’ পত্রিকায় ১৯০৮ থেকে ১৯১০ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। ঊনিবংশ শতাব্দীর শেষভাগের ধর্মান্দোলন, স্বদেশপ্রেম এবং নারীমুক্তি চিন্তার পটভূমিকায় এই আখ্যান গড়ে উঠেছে। এই উপন্যাসের নায়ক গোরা সিপাহি বিপ্লবের সময় নিহত এক আইরিশ দম্পত্তির সন্তান। কিন্তু সে বড় হয় হিন্দু ব্রাহ্মণ কৃষ্ণদয়াল ও আনন্দময়ীর ঘরে। গোরা নিজের জন্মবিবরণ ও প্রকৃত পরিচয় সম্বন্ধে সম্পূর্ণ অজ্ঞ। দম্পতি কৃষ্ণদয়াল ও আনন্দময়ী না চাইলেও গোরা হিন্দুধর্মের অন্ধ সমর্থক হয়ে ওঠে। ধীরে ধীরে ঘটনার ঘাত-প্রতিঘাত বিশেষত এক নারীর ভালোবাসা কিভাবে তাকে অন্ধতা ও সংকীর্ণতা থেকে পৌঁছে দিল এক মহাভারতবর্ষের আদর্শের দিকে, নির্দিষ্ট ধর্ম থেকে মানবতার মধ্যে, তারই কাহিনি ‘গোরা’। এই উপন্যঅসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র : গোরা, পরেশবাবু, সুচরিতা, পানুবাবু, ললিতা, বিনয়, বরদাসুন্দরী, কৃষ্ণদয়াল, আনন্দময়ী প্রমুখ। ‘গোরা’য় ব্যক্তির সঙ্গে সমাজের, সমাজের সঙ্গে ধর্মের, ধর্মের সঙ্গে সত্যের বিরোধ ও সমন্বয় চিত্রিত হয়েছে।
প্র : ‘গোরা’ উপন্যাসের নায়ক কিসে পরিণত হয়?
উ : গোরমোহল গোরা দেশ-জাতি-ধর্ম অতিক্রম করে বিশ্বমানবে পরিণত হয়।
প্র : ‘ঘরে-বাইরে’ উপন্যাসের পরিচয় দাও।
উ : ‘ঘরে-বাইরে’ (১৯১৬) চলিতভাষায় লেখা রবীন্দ্রনাথের প্রথম উপন্যাস। উপন্যাসটি ‘সবুজপত্রে’ প্রকাশিত হয় ১৯১৫ সালে। স্বদেশী আন্দোলনের পটভূমিকায় রচিত এই উপন্যাসে একদিকে আছে জাতিপ্রেম ও সংকীর্ণ স্বাদেশিকতার সমালোচনা অন্যদিকে আছে সমাজ ও প্রথা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত নারী-পুরুষের সম্পর্ক, বিশেষত পরস্পরের আকর্ষণ-বিকর্ষণের বিশ্লেষণ। স্বামী নিখিলেশেন প্রতি অনুরাগ সত্তেবও এই কাহিনির নায়িকা বিমলা অন্যপুরুষ বিপ্লবী সন্দীপের দ্বারা তীব্রভাবে আকর্ষিত। একদিকে বাইরে জাতীয় আন্দোলনের উত্তেজনা অন্যদিকে তিনটি মানুষের জীবনে টানাপোড়েন-রাজনীতি ও ব্যক্তিগত জীবনের দ্বন্দ্ব এই দুই মিলে উপন্যাস। ‘ঘরে-বাইরে’র সঙ্গে পাশ্চাত্য ঔপন্যাসিক স্টিভেনসনের ‘প্রিন্স অটো’ উপন্যাসের ভাবসাদৃশ্য আছে। স্টিভেনসনের সেরাফিনা, অটো ও গোনড্রেমার্ক যথাক্রমে রবীন্দ্রনাথের বিমলা, নিখিলেশ ও সন্দীপ। তবে স্টিভেনসনের উপস্থাপনা ব্যঙ্গাত্মক, সমাপ্তি মিলনাত্মক; আর রবীন্দ্রনাথের কাহিনি সকরুণ, সিরিয়াস। এর উপসংহার ট্র্যাজিক ও অধিকতর শিল্পসম্মত।
প্র : ‘যোগাযোগ’ উপন্যাসের পরিচয় দাও।
উ : ‘যোগাযোগ’ (১৯২৬) ‘বিচিত্রা’ মাসিক পত্রিকায় ‘তিনপুরুষ’ নামে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে। তখন কাহিনিটি আরো দীর্ঘ হবে এই রকম পরিকল্পনা ছিল। পরে কাহিনির নাম হয় ‘যোগাযোগ’। নায়িকা কুমুদিনী ও নায়ক মধূসূদনের ব্যক্তিত্বের তীব্র বিরোধ উপন্যঅসের কেন্দ্র। শেষ পর্যন্ত স্বামীর কাছে কুমুদিনীর দ্বিধাস্বিত সমর্পণে কাহিনির সমাপ্তি হলেও কুমুদিনীর মধ্যে এক বিদ্রোহিনী নারীর রূপ স্পষ্ট।
প্র : ‘দুইবোন’ গ্রন্থ সম্পর্কে লেখ।
উ : ‘দুইবোন’ (১৯৩৩) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি ছোট উপন্যাস। ১৯৩২-৩৩ সালে ‘বিচিত্রা’ পত্রিকায় বের হয়। আখ্যানস্তুর আভাস আছে এর প্রারম্ভেই: ‘মেয়েরা দুই জাতের কোনো কোনো পন্ডিতের কাছে এমন একথা শুনেছি। একজাত প্রধানত মা, আর একজাত প্রিয়া।’ শর্মিলা প্রথম জাতের, ঊর্মিলা দ্বিতীয় জাতের। শর্মিলার স্বামী শশাঙ্কের সঙ্গে ঊর্মিলার ঘনিষ্ঠতা তাদের সকলের জীবনে যে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল তারই নাটকীয়তাময় রূপায়ণ এই উপন্যাসে। উপন্যাসটিতে পুরুষের পক্ষে দুই নারীকে দুইভাবে ভালোবাসার ফলে জটিলতার সৃষ্টি হয় আর নারীর পক্ষে সেই জটিলতার সমাধান দেখানো হয়েছে। ‘শেষের কবিতা’র অমিতর দুই নারীকে ভালোবাসার তত্ত্বের মতোই এখানে ঘটনা সংঘটিত হয়। ‘দুইবোনে’র শশাঙ্ক আর ‘শেষের কবিতা’র অমিত যেন জমজ চরিত্র।
প্র : ‘শেষের কবিতা’ গ্রন্থের পরিচয় দাও।
উ : ‘শেষের কবিতা’ (১৯২৯) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস। ‘প্রবাসী’ পত্রিকায় ছাপা হয় ১৯২৮ সালে। ভাষার অসামান্য ঔজ্জ্বল্য, দৃপ্তশক্তি ও কবিত্বের দীপ্তি এই গ্রন্থটিকে এমন স্বাতন্ত্র্য দিয়েছে, যার জন্য এই গ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথের বিস্ময়কর সৃষ্টির অন্যতম। রবীন্দ্রনাথের বিরুদ্ধে আধুনিক সাহিত্যিকেরা যখন বিদ্রোহী হয়ে উঠেছিলেন, রবীন্দ্রনাথ সেই মনোভাব লক্ষ করেছিলেন কৌতুকের সঙ্গে। নিজেকে নিয়ে এই উপন্যাসে রসিকতাও আধুনিকদের আকাক্সিক্ষত কিন্তু তখনও পর্যন্ত অনর্জিত এক বাকরীতির সৃষ্টিতে ‘শেষের কবিতা’ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এক স্মরণীয় গ্রন্থ। অমিত, লাবণ্য, কেতকী, শোভনলাল প্রমুখ এই উপন্যাসের চরিত্র। উপন্যাসের কতিপয় বাক্য আজ প্রবাদের মর্যাদা পেয়েছে। যেমন : ফ্যাশনটা হলো মুখোশ, স্টাইলটা হলো মুখশ্রী। সুকুমার সেন বলেছেন: ‘বৈষ্ণব সাধনার পরকীয়াতত্ত্ব রবীন্দ্রনাথের কবিমানসে যেভাবে রূপান্তর লাভ করিয়াছিল শেষের কবিতায় তাহার পরিচয় পাই।’ ‘কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও’- এই কবিতা দিয়ে উপন্যাসটি শেষ হয়েছে।
প্র : ‘মালঞ্চ’ উপন্যাস সম্পর্কে লেখ।
উ : ‘মালঞ্চ’ (১৯৩৪) উপন্যাসে এক মৃত্যু পথযাত্রী নারী ও তার স্বামীর কাহিনি আছে। কবিত্বময় ভাষায় গড়ে উঠেছে স্ত্রীর প্রতি স্বামীর বিরূপতা ও স্ত্রীর বোনের প্রতি তীব্র অনুরাগের জটিল ও নিষ্ঠুর কাহিনি। সংরাগ ও হৃদয়হীনতা দুই মিশে রজসা তরে এই সংক্ষিপ্ত উপন্যাসের অবয়ব। নীরজা, শশাঙ্ক, সরলা, শর্মিলা, ঊর্মিমালা, আদিত্য ইত্যাদি এই উপন্যাসের চরিত্র। মালঞ্চে নীরজারই প্রধান ভূমিকা। তার তুলনায় আদিত্য বা সরলার ভূমিকা গৌণ।
প্র : ‘চার-অধ্যায়’ কোন ধরনের উপন্যাস?
উ : ‘চার-অধ্যায়’ (১৯৩৪) একটি রাজনৈতিক উপন্যাস। অসহযোগ আন্দোলনের পর বাংলায় নতুন করে যে হিংসাত্মক বিপ্লব-প্রচেষ্টা দেখা দিয়েছিল, ‘চার-অধ্যায়’ উপন্যাসে তার তত্ত্ববিশ্লেষণ এবং নিরপেক্ষ মূল্য নির্ধারণের চেষ্টা আছে। আসলে সন্ত্রাসবাদের সমালোচনা করে এই কাহিনি রচিত। সন্ত্রাসবাদীদের নেতা উন্দ্রনাথ একদিকে যেমন অতিমানবিক গুণ সম্পন্ন, অন্যদিক সে নিষ্ঠুর ও মানবতাশূন্য। তার নির্দেশে অতীন ও এলার প্রেমের সমাপ্তি এই উপন্যাসের মুখ্য কাহিনি। সমকালীন বিপ্লবপন্থী আন্দোলনের প্রতি রবীন্দ্রনাথের বিরূপ মনোভাব এই উপন্যাসের মূল সুর। উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র। : অতীন, এলা, ইন্দ্রনাথ। চার-অধ্যায়ের কাহিনির সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের ‘রবিবার’ গল্পের সম্পর্ক আছে।
প্র : রবীন্দ্রনাথের কোন গল।পটি উপন্যাসধর্মী, কোন উপন্যাসটি ছোটগল্পধর্মী?
উ : নষ্টনীড় উপন্যাসধর্মী ছোটগল্প, চতুরঙ্গ ছোট গল।পধর্মী উপন্যাস।
প্র : রবীন্দ্রনাথের উল্লেখযোগ্য নাটকের নাম লেখ।
উ : বিসর্জন (১৮৯১), রাজা (১৯১০), ডাকঘর (১৯১২), অচলায়তন (১৯১২), চিরকুমার সভা (১৯২৬), তাসের দেশ (১৯৩৩) ইত্যাদি।
প্র : ‘বিসর্জন’ নাটক সম্পর্কে লেখ।
উ : ‘বিসর্জন’ (১৮৯০) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মঞ্চসফল এবং জনপ্রিয় নাটকগুলির অন্যতম। রবীন্দ্রনাথ স্বয়ং এই নাটকের প্রধান দুটি চরিত্র রঘুপতি ও জয়সিংহের ভূমিকায় বিভিন্ন সময়ে অভিনয় করেন। উদার ধর্মবোধ এবং সংকীর্ণ ধর্মীয় বিশ্বাসের মধ্যে দ্বন্দ্ব যেমন এই নাটকের প্রধান উপকরণ, তেমনই বিশ্বাসের উগ্রতা এবং মানব সম্পর্কের নিবিড়তা এই নাটকের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এই নাটকটি অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত। নাটকের শুধু আত্মবিসর্জনে সমস্যার সমাধান খোঁজা হয় নি, তার চেয়েও কঠোর ত্যাগের মধ্য দিয়ে বিরোধের অবসান প্রদর্শিত হয়েছে। বিসর্জন নাটকের সমস্যা হলো : ‘কেন প্রেম আপনার নাহি পায় পথ।’ ‘রাজর্ষি’ উপন্যাসের প্রথমাংশ নিয়ে বিসর্জনের আখ্যানবস্তু পরিকল্পিত হয়। উল্লেখযোগ্য চরিত্র : রঘুপতি, জয়সিংহ, অপর্ণা, গুণবতী, গোবিন্দমাণিক্য।
প্র : বিসর্জন নাটকে রবীন্দ্রনাথ কোন চরিত্রে অভিনয় করেন?
উ : ১৮৯০-এ রঘুপতি, ১৯২৩-এ জয়সিংহের ভূমিকায়।
প্র : ‘চিত্রাঙ্গদা’র পরিচয় দাও।
উ : ‘চিত্রাঙ্গদা’ (১৮৯২) মণিপুর রাজকন্যা চিত্রাঙ্গদা ও অর্জুনের পৌরাণিক প্রণয়-কাহিনি অবলম্বনে রচিত রবীন্দ্রনাথের একটি নাটক। এটি অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত। কাহিনির পরিকল।পনা সম্পূর্ণ অভিনব এবং মহাভারতের কাহিনি থেকে সম্পূর্ণ পৃথক। মদনের বরে চিত্রাঙ্গদা এক বছরের জন্য অসামান্য রূপলাবণ্যের অধিকারী হন। অর্জুন সেই রূপসী চিত্রাঙ্গদার প্রতি আকৃষ্ট হন। শেষ পর্যন্ত অর্জুন চিত্রাঙ্গদার যথার্থ পরিচয় লাভ করেন। এই নাটকে নারীর মর্যাদা ও আত্মসম্মান প্রধান হয়ে উঠেছে। পরবর্তীকালে রবীন্দ্রনাথ একই কাহিনি অবলম্বনে ‘চিত্রাঙ্গদা’ নৃত্যনাট্য (১৯৩৬) রচনা করেন। চিত্রাঙ্গদায় নাম-চরিত্রের মাধ্যমে নারীর আত্মজাগরণের যে প্রকাশ ঘটেছে তা আধুনিক নারীবাদীদের কথিত তাত্ত্বিকতার চেয়েও ব্যঅপক। উভয় ক্ষেত্রে নারীর আত্মসম্মান ও বীরত্ব উভয়ই গুরুত্ব পেয়েছে।
প্র : ‘বৈকুণ্ঠের খাতা’ সম্পর্কে লেখ।
উ : ‘বৈকুণ্ঠের খাতা’ (১৮৮৭) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জনপ্রিয় কৌতুক নাটক। এক আত্মভোলা সরল প্রকৃতির বৃদ্ধ এই কাহিনির কেন্দ্র। তাকে ঘিরে গড়ে উঠেছে নানা ধরনের কৌতুকময় ঘটনা। সংলাপের দ্যুতি এবং আচরণের নাটকীয়তা নাটকটির জনপ্রিয়তার মূলে। নাটকটির কোনো কোনো চরিত্রে লেখকের আত্মীয়বন্ধুর চরিত্রের ছায়াপাত ঘটেছে।
প্র : ‘শারদোৎসব’ নাটকের পরিচয় দাও।
উ : ‘শারদোৎসব’ (১৯০৮) একটি নাটক। শরৎকালের পটভূমিকায় এই নাটকের ঘটনা সন্নিবিষ্ট হয়েছে। ইউরোপীয় মঞ্চমুখী নাটকের যে ধারা বাংলায় গড়ে উঠেছিল, এই নাটকে তার থেকে পার্থক্য স্পষ্ট। মুক্তমঞ্চের এই নাটক ঐতিহাসিক দিকে স্মরণীয়। এখানে প্রস্তাবনায় কবি সংস্কৃত নাটকের পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন। এই নাটক থেকে দেকা যায় যে, কবির দৃষ্টি পড়েছে মানুষের হৃদয়বৃত্তি ছাড়িয়ে তার অনুভবের উপর।
প্র : ‘প্রায়শ্চিত্ত’ নাটক সম্পর্কে লেখ।
উ : ‘প্রাংশ্চিত্ত’ (১৯০৯) ‘বৌঠাকুরাণীর হাট’ উপন্যাসের কাহিনি অবলম্বনে রচিত। এই নাটকেই ধনঞ্জয় বৈরাগী চরিত্রের আবির্ভাব। ‘প্রায়শ্চিত্ত’কে বলা হয় রবীন্দ্রনাথের শেষ মানবভূমিক নাটক। নাটকটি পঞ্চাঙ্কের। টলস্টয়ের নিষ্ক্রিয় প্রতিরোধ নীতির প্রভাব এবং গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলনের পূর্বাভাস পাওয়া যায় ধনঞ্জয় বৈরাঘীর কথা ও কাজে। রবীন্দ্রনাথ এ সময় বহু বাউলও বৈষ্ণবের সংস্পর্শে এসেছিলেন। সেই প্রভাব ধনঞ্জয় বাউলের মধ্যে আছে। অন্য চরিত্রগুলো : সুরমা, উদয়াদিত্য, বিভা ইত্যাদি। ‘প্রায়শ্চিত্ত’ নাটকের নতুন ও পরিবর্তিত সংস্করণ ‘পরিত্রাণ’ (১৯২৯) নাটক।
প্র : ‘মুক্তধারা’ নাটকের মূলকথা কী?
উ : ‘মুক্তধারা’ (১৯২২) প্রথমে নাম ছিল ‘পথ’। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনের জন্য দেশ ও জাতিপ্রেমের নামে মন্ত্রশক্তির সাহায্যে মানবগোষ্ঠীকে পীড়ন এবং এই অত্যাচারী শক্তির বিরুদ্ধে অপরাজিত মানুষের বিদ্রোহ এই নাটকের কেন্দ্রীয় কথাবস্তু। নাটকের প্রধান চরিত্র ধনঞ্চয় বৈরাগীর নেতৃত্বে সাধারণ মানুষের বিদ্রোহ, গান্ধীচালিত অসহযোগ আন্দোলনের কথা মনে করিয়ে দেয়। নাটকের পটভূমিতে আছে একটি পথ। তার ওপর দিয়ে জনতার অবিরাম স্রোত। তার মধ্যে ভৈরবদের গম্ভীর শিবমন্ত্র, রাজশক্তির যন্ত্রবন্দনার গান, সন্তানহীন নারী-পুরুষের আর্তনাদ, ধনঞ্জয়ের গান নাটকে এক গভীরতা ও প্রত্যাশাকে ধনীভূত করেছে। অবশেষে প্রবল গর্জনে মুক্তধারার কলোচ্ছ্বাসে নাটক উপনীত হয়েছৈ চরম মুহূর্তে। পাশচাত্য সভ্যতা, তার সঙ্গে সঙ্কীর্ণ জাতীয় স্বার্থ চেতনা ও বণিকবুদ্ধি মিলে যে পীড়ন যন্ত্র চালিয়েছে, এর বিরুদ্ধে মানুষের শুভবুদ্ধি ও কল্যাণপ্রেরণা একদিন জাগ্রত ও জয়ী হবে। মানুষ যন্ত্রের দাস না হয়ে যন্ত্র মানুষের দাস হবে। এটাই ‘মুক্তধারা’র মূলকথা।
প্র : ‘ডাকঘর’ নাটক সম্পর্কে লেখ।
উ : ‘ডাকঘর’ (১৯১২) রূপক সাংকেতিক নাটক। ঘরের মধ্যে বন্দি এক রুগ্ন বালক অমল এই নাটকের নায়ক। সুদূর পিপাসিত চিত্ত অমলের ধারণা, সে একদিন বাইরের জগতে যাবে, একদিন তার নামে রাজার চিঠি আসবে। বিষয়ী লোকেরা তার কথায় পরিহাস করত। কিন্তু একদিন সত্যি সত্যি রাজা এলেন। অপরূপ সংলাপ, প্রকৃতি ও জীবনের প্রতি তীব্র আকাক্সক্ষা, এক সূক্ষ্ম আধ্যাত্মিকতা এবং সংকেতময়তা এই নাটকটির সার্থকতার মূলে। একটি শিশুকে কেন্দ্র করে এমন গীতিময় নাটক রচনা সাহিত্যে বিরল। রবীন্দ্রনাথ নিজে বলেছেন : ‘এর মধ্যে গল্প নেই। এ গদ্য লিরিক।’ নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র : অমল, ঠাকুর্দা, সুধা, দৈওয়ালা ইত্যাদি।
প্র : ‘বসন্ত’ গ্রন্থ সম্পর্কে লেখ।
উ : ‘বসন্ত’ (১৯২৩) গীতিনাট্য। এই নাটকের বিষয় যৌবনের প্রতীক ঋতুরাজ বসন্তের জয়গান। রবীন্দ্রনাথ এই গ্রন্থ কাজী নজরুল ইসলামকে উৎসর্গ করেন। কারণ নজরুলও বাংলার জীবনে বসন্ত তথা যৌবন এনেছিলেন। বসন্ত ঋতুনাট্যে গানের প্রাধান্য, গল্প বলতে আছে অতি সামান্য কিছু। সমৃদ্ধি সার্থকতা শুধু প্রাচুর্যে নয়, সেই সঙ্গে চাই ত্যাগের নিরাসক্তি- বসন্তের মর্মকথা এটাই।
প্র : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তর্রুণ কবি নজরুলকে ‘বসন্ত’ গীতিনাট্য উৎসর্গ করলে অনেকেই তা মেনে নিতে পারেন নি। এর প্রত্যুত্তরে রবীন্দ্রনাথ কোন কথা জানিয়েছিলেন?
উ : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এ-প্রসঙ্গে লিখেছেন : নজরুল ইসলাম সম্পর্কে তোমাদের মনে যেন কিছু সন্দেহ রয়েছে। নজরুলকে আমি ‘বসন্ত’ গীতিনাট্য উৎসর্গ করেছি এবং উৎসর্গপত্রে তাকে ‘কবি’ বলে অভিহিত করেছি। জানি তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ এটা অনুমোদন করতে পারো নি। আমার বিশ্বাস, তোমরা নজরুলের কবিতা না পড়েই এই মনোভাব পোষণ করেছো। আর পড়ে থাকলেও রূপ ও রসের সন্ধান করো নি, অবজ্ঞাভরে চোখ বুলিয়েছো মাত্র। কাব্যে অসির ঋনঝনা থাকতে পারে না এসব তোমাদের আবদার বটে। সমগ্র জাতির অন্তর যখন সে সুরে বাধা, অসির ঋনঋনায় যখন সেখানে ঝংকার তোলে, ঐকতান সৃষ্টি হয়, তখন কাব্যে তাকে প্রকাশ করবে বৈকি! আমি যদি আজ তরুণ তাম, তাহলে আমার কলমেও ঐ সুর বাজতো।
প্র : ‘রক্তকরবী’ সম্পর্কে লেখ।
উ : ‘রক্তকরবী’ (১৯২৬) রবীন্দ্রনাথের একটি সাংকেতিক নাটক। ১৩৩০ বঙ্গাব্দের আশ্বিন সংখ্যা ‘প্রবাসী’তে প্রকাশিত। মানুষের প্রবল লোভ কিভাবে জীবনের সমস্ত সৌন্দর্য ও স্বাভাবিকতাকে অস্বীকার করে মানুষকে নিছক যন্ত্রে ও উৎপাদনের প্রয়োজনীয় উপকরণে পরিণত করে এবং তার বিরুদ্ধে মানুষের প্রতিবাদ কিরূপ ধারণ করে তারই রূপায়ণ এই নাটক। রবীন্দ্রনাথ ভূমিকায় লিখেছেন, ‘যক্ষপুরে পুরুষের প্রবল শক্তি মাটির তলা থেকে সোনার সম্পদ ছিন্ন করে আনছে। নিষ্ঠুর সংগ্রহের লুব্ধ চেষ্টার তাড়নায় প্রাণের মাধুর্য সেখান থেকে নির্বাসিত’। নন্দিনী নিপীড়িতত মানুষের মাঝখানে দেকা দিয়েছে। আনন্দের দূত রূপে। রঞ্জন বিদ্রোহের বাণী বহন করে এনেছে। শেষ পর্যন্ত জয়ী হয়েছে মানুষের প্রাণশক্তি। বাইরে বেরিয়ে এসেছে জালের আড়াল থেকে যক্ষপুরীর রাজা। ‘রক্তকরবী’তে ধনের উপর ধান্যের, শক্তির উপর প্রেমের এবং মৃত্যুর উপর জীবনের জয়গান গাওয়া হয়েছে।
প্র : ‘তাসের দেশ’ গুরুত্বপূর্ণ কেন?
উ : ‘তাসের দেশ’ (১৯৩৩) রূফক নাট্য। রবীন্দ্রনাথের নিজেরই ‘এক আঘাঢ়ে গল্প’ নামক গল্পের কাহিনি এই নাটকের ভিত্তিভূমি। রাজপুত্র এবং সদাগর পুত্র এক অপরিচিত দ্বীপে এসে পৌঁছেছেন, যে দ্বীপের জীবন শাসিত হয় যান্ত্রিক নিয়মানুবর্তিতায়, যুক্তি ও হৃদয়হীন শাসনতন্ত্রের আনুগত্যে। রাজপুত্র এবং সদাগর এই নিয়মবন্দি জীবনের মধ্যে আনলেন বিদ্রোহ। এই নাটকটি উৎসর্গ করা হয় নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে। এই রূপক নাটক লিখে উপনিবেশ শাসিত ভারতীয়দের জড়ত্ব ঘোচানোর জন্য একজন সে-রকম মুক্তিদূত রূপী রাজপুত্রের আগমনকে কামনা করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
প্র : ‘চন্ডালিকা’ সম্পর্কে লেখ।
উ : ‘চন্ডালিকা’ (১৯৩৩) নাটক। এর কথাবস্তু পালি শার্দুল-কর্ণাবদান থেকে গৃহীত। প্রকৃতি একটি চন্ডালী কন্যা, সে কিভাবে তার মায়ের সাহায্যে বৌদ্ধ সন্ন্যাসী আনন্দকে প্রলোভিত করেছিল সেই কাহিনিকে রবীন্দ্রনাথ এক নতুনমাত্রা দিয়েছৈন। অস্পৃশ্যতার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ যেমন এই কাহিনির প্রধান সুর তেমনি এর মধ্যে আছে সংরাগের প্রকাশ ও তার সংযমের সুষমা। ১৯৩৮ সালে রবীন্দ্রনাথ এই নাটকটিকে নৃত্যনাট্যে রূপ দেন। কথা ও সুরের সমস্বয়ে ‘চন্ডালিকা’ রবীন্দ্রনাথের অন্যতম সৃষ্টি।
প্র : ‘চিরকুমার সভা’ সম্পর্কে লেখ।
উ : ‘চিরকুমার সভা’ (১৯২৬) কৌতুক নাটক। রবীন্দ্রনাথ ১৯০০-০১ সালে ‘প্রজাপতির নির্বন্ধ’ নামে ‘বঙ্গদর্শন’ পত্রিকায় একটি আখ্যান রচনা করেন। ‘প্রজাপতির নির্বন্ধ’ ১৯০৮ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়েছিল। ‘চিরকুমার সভা’ পরিহাস-উ্ছল গীতবহুল মঞ্চসফল নরাটক। ১৯২৬ সালে ‘প্রজাপতির নির্বন্ধ’কে ‘চিরকুমার সভা’ নামে নাট্যরূপ দেয়া হয়। একদল যুবকের বিয়ে না-করার প্রতিজ্ঞা এবং পরে প্রতিজ্ঞাভসের কৌতুককর কাহিনি নিয়ে এ নাটক রচিত।
প্র : ‘নটীর পূজা’ গ্রন্থ সম্পর্কে লেখ।
উ : ‘নটীর পূজা’ (১৯২৬) একটি নাটক। ‘কথা ও কাহিনিী’র অন্তর্গত পূজারিণী কবিতাটির আখ্যান অবলম্বনে রবীন্দ্রনাথ এই নাটক রচনা করেন। মূল কাহিনিটি বৌদ্ধগ্রন্থ তেকে গৃহীত। গান ও নৃত্য সমস্বিত নাটক ‘নটীর পূজা’।
প্র : ‘জীবনসমৃতি’ সম্পর্কে লেখ।
উ : ‘জীবনস্মৃতি’ (১৯১২) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত আত্মজীবনী। এখানে রবীন্দ্রনাথের বাল্যকাল থেকে পঁচিশ বছর বয়স পর্যন্ত কালের কাহিনি ও ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে। প্রচলিত কালানুক্রমিক বিবরণের পরিবর্তে ছোটো ছোটো ঘটনা, চিত্র, চরিত্রের সাহায্যে কবির স্বভাবের বিকাশ, অভিজ্ঞতার সঞ্চয় কিভাবে ঘটেছে তার সহজ সুন্দর আখ্যান বর্ণিত। কৌতুক ও কবিত্বে গাঁথা বর্ণনা ভঙ্গিতে এটি বাংলা সাহিত্যের অদ্বিতীয় জীবনী। আত্মজীবনী রচনার প্রচলিত রীতি ভেঙ্গে রবীন্দ্রনাথ এ গ্রন্থে নতুন ধারা সৃষ্টি করেন।
প্র : ‘কালান্তর’ কোন ধরনের গ্রন্থ?
উ : ‘কালান্তর’ (১৯৩৭) রবীন্দ্রনাথের ভারতবর্ষীয় রাজনৈতিক সমস্যা বিষয়ক বিভিন্ন প্রবন্ধের সংকলন। পরবর্তী সংস্করণে আরও নতুন প্রবন্ধ (যেমন : সভ্যতার সংকট, ১৯৪১) অন্তর্ভূক্ত হয়। রবীন্দ্রনাথের রাজনৈতিক মতের বিকাশের সামগ্রিক পরিচয় এই গ্রন্থে পাওয়া যায়। এই গ্রন্থের ‘সভ্যতার সংকট’ প্রবন্ধে রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন : ‘মানুষের উপর বিশ্বাস হারানো পাপ।’
প্র : ‘সভ্যতার সংকট’ পাঠ করা প্রয়োজন কেন?
উ : ‘সভ্যতার সংকট’ (১৯৪১) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সর্বশৈষ গদ্যরচনা। এই ক্ষুদ্র কিন্তু অসামান্য প্রবন্ধে ইউরোপীয় সভ্যতা ও ভারতবর্ষে ইংরেজ শাসনের তীব্র সমালোচনা ও মানবতার ্রতি গভীর আস্থা প্রকাশিত। ‘ঐ মহামানব আসে’ গানটি এই পুস্তিকার অন্তর্ভুক্ত। তাছাড়া এখানেই তিনি বলেছেন : ‘মানুষের উপর বিশ্বাস হারানো পাপ।’ রবীন্দ্রনাথকে বুঝবার জন্য এ প্রবন্ধটি অবশ্য-পাঠ্য।
প্র : ‘বিশ্বপরিচয়’ গ্রন্থ সম্পর্কে লেখ।
উ : ‘বিশ্বপরিচয়’ (১৯৩৭) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত বিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থ। মূলত কিশোর-কিশোরীদের জন্য রচিত হলেও বয়স্কদের উপভোগ্য। এখানে রবীন্দ্রনাথ বহু পরিভাষা প্রস্তুত করেন এবং বৈজ্ঞানিক প্রসঙ্গের উপযোগী ভাষারীতির প্রয়োগ করেছেন। ভাষারীতি এবং রবীন্দ্রনাথের বিজ্ঞানচিন্তার নিদর্শন হিসাবে গ্রন্থটি মূল্যবান। রবীন্দ্রনাথের কবিসত্তায় শুধুই কবিশিল্পীর ভাবদৃষ্টি ছিল না, সেই সঙ্গে বৈজ্ঞানিক-দার্শনিকের সজাগ তথ্য ও তত্ত্বদৃষ্টি ছিল, বিশ্বপরিচয় তার প্রমাণ।
প্র : ‘মানুষের ধর্ম’ কী?
উ : ‘মানুষের ধর্ম’ (১৯৩৩) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ধর্মচিন্তা বিষয়ক প্রবন্ধগ্রন্থ। ১৯৩২ সালে রবীন্দ্রনাথ প্রদত্ত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে কমলা স্মৃতি বক্তৃতাগুলোই এর মূল লেখা। তাঁর ধর্মচিন্তা, বিশেষ করে প্রাতিষ্ঠানিক ধর্ম বিষয়ে তাঁর বীতরাগ এবং উদার মানবিক-আধ্যাত্মিকতাবোধের কবিত্বময় প্রকাশ এই বক্তৃতা তথা লেখাগুলোর মূল বৈশিষ্ট্য।
প্র : ‘পঞ্চভূত’ গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ কেন?
উ : ‘পঞ্চভূত’ (১৮৯৭) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ। এই প্রবন্ধগুলি সাধনা পত্রিকায় ‘পঞ্চভূতের ডায়ারি’ নামে ছাপা হয়। ক্ষিতি, স্রোতস্বিনী, দীপ্তি,সমীর ও গগন এই পাঁচটি চরিত্রের মধ্যে আলোচনার রীতিতে মূলত তত্ত্ব বিষয়ক সমস্যার সরস ও গভীর বিশ্লেষণ। রবীন্দ্র গদ্যরচনায় এই গ্রন্থটি বিশিষ্ট স্থান দাবি করে। পত্রিকায় প্রকাশের সময় লেখকের নাম ছাপা হতো: ‘লেখক ভূতনাথ বাবু’। গ্রন্থাকারে প্রকাশের সময় পত্রিকার কিছু অংশ বর্জিত হওয়ায় এর অন্তরঙ্গতা কমেছে। এই গ্রন্থের ‘গদ্য ও পদ্য’ প্রবন্ধে রবীন্দ্রনাথ পদ্যচ্ছন্দের উৎপত্তি বিষয়ে যে মন্তব্য করেছেন, আধুনিক ভাষাবিজ্ঞান এখন সে কথাই বলছে। আসলে পঞ্চভূতের ‘ডায়েরি’র মধ্যে সহজ সরল ভাষায় মনোহর ভঙ্গিতে অনেক গভীর কথা আছে।
প্র : ‘জাভাযাত্রীর পত্র’ সম্পর্কে লেখ।
উ : ‘ভাজাযাত্রীর পত্র’ (১৯২৬) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখিত পত্র সংকলন। দক্ষিণপূর্ব এশিয়ায় ভ্রমণকালে রবীন্দ্রনাথ এই পত্রগুলি লিখেছিলেন। তবে ব্যক্তিগত চিঠি বলতে যা বোঝায় এগুলি তা নয়। নতুন দেশের মানুষ ও সমাজ সম্পর্কে, পথচলাকালীন কবির নানা চিন্তার প্রকাশ ঘটেছে এখানে। এই গ্রন্থটিকে পত্রাকারে প্রবন্ধ বলা চলে।
প্র : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগ্রন্থের নাম লেখ।
উ : পঞ্চভূত (১৮৯৭), বিচিত্রপ্রবন্ধ (১৯০৭), সাহিত্য (১৯০৭), মানুষের ধর্ম (১৯৩৩), কালান্তর (১৯৩৭), সভ্যতার সংকট (১৯৪১) ইত্যাদি।
প্র : ‘মানুষের উপর বিশ্বাস হারানো পাপ’।- কোন প্রবন্ধে রবীন্দ্রনাথ এ কথা বলেছেন?
উ : ‘সভ্যতার সংকট’ প্রবন্ধে।
প্র : ধ্বনিবিজ্ঞানের উপর লেখা রবীন্দ্রগ্রন্থের নাম কি?
উ : শব্দতত্ত্ব (১৯০৯)।
প্র : রবীন্দ্রনাথের গল্পগ্রন্থসমূহ সম্পর্কে লেখ।
উ : রবীন্দ্রনাথের প্রথম গল্পসংগ্রহের নাম ‘ছোটগল্প’ (১৮৯৩)। পরে প্রকামিত হয় পরপর চারটি গল্পগ্রন্থ : ‘কথা-চতুষ্ঠয়’ (১৮৯৪), ‘বিচিত্র গল্প’ দুই খন্ড (১৮৯৪), ‘গল্প দশক’ (১৮৯৫)। ১৯০০ সালে এই পাঁচটি গ্রন্থের গল্প ও নতুন লিখিত কিছু গল্প নিয়ে প্রকাশিত হয় ‘রবীন্দ্রনাথের গল্পগুচ্ছ’ নামে একটি গ্রন্থ। এরপর নানা মাসিক পত্রে লিখিত চারটি গল্প নিয়ে প্রকাশিত হয় ‘গল্প চারিটি’ (১৯১১) নামে গ্রন্থ। ১৯১৬ সালে ‘গল্প সপ্তক’ নামে একটি বই প্রকাশিত হয়। এই গল।পগুলো ‘সবুজপত্র’ পত্রিকায় ছাপা হয়েছিল। পরে প্রকাশিত দুটি গল্প ও দুটি কথিকা ‘পয়লা নম্বর’ নামে ১৯২০ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায়। ১৯৩৭ সালে ‘সে’ প্রকাশিত হয় শেষজীবনে লেখা তিনটি গল।প প্রকাশ পায় ‘তিনসঙ্গী’ (১৯৪০) নামের গ্রন্থে। আর ১৯৪১ সালে অন্য কিছু গল্প নিয়ে বের হয় ‘গল্পসল্প’ নামের প্রন্থ। বিষয়বস্তুর বৈচিত্র্য, চরিত্রচিত্রণের কুশলতা, গঠনের সূক্ষ্মতা, রচনার ব্যঞ্জনাধর্মিতা সমস্ত দিক তেকে রবীন্দ্রগল্প বাংলা সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ। তাঁর গল্পে বাঙালির সুখদুঃখবিরহমিলনপূর্ণ জীবনের ছবি প্রকাশিত হয়েছে। রবীন্দ্রনাথকে বাংলা ছোটগল্পের জনক বলা হয়।
প্র : রবীন্দ্রনাথের ছোটগল্পগুলি কোন গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে?
উ : রবীন্দ্রনাথের ছোটগল্পগুলি গল্পগুচ্ছ-এর তিন খন্ডে সংকলিত হয়েছে।
প্র : রবীন্দ্রনাথের চারটি সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্পে নাম লেখ।
উ : রবীন্দ্রনাথের সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্পগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য চারটি ছোটগল্প।- ‘দেনাপাওনা’, ‘রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা’, ‘যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ’ ও ‘অনধিকার প্রবেশ’।
প্র : জীবনের শেষপর্বে রবীন্দ্রনাথ যে আশ্চর্য বুদ্ধিদীপ্ত গল্পগুলি লিখেছিলেন সেগুলির নাম লেখ।
উ : রবীন্দ্রনাথ জীবনের শেষপর্বে আধুনিক নরনারীর মনস্তত্ত্ব নিয়ে যে কয়টি বুদ্ধিদীপ্ত ছোটগল্প রচনা করেছেন সেগলি হলো : রবিবার, শেষকথা ও ল্যাবরেটরি।
প্র : রবীন্দ্রনাথ রচিত চারটি অতিপ্রাকৃত রসের ছোটগল্পের নাম লেখ।
উ : রবীন্দ্রনাথ রচিত চারটি অতিপ্রাকৃত রসের ছোটগল্প : ক্ষুধিত পাষাণ, নিশীথে, মণিহারা ও কস্কাল।
প্র : পণপ্রথা নিয়ে রচিত রবীন্দ্রনাথের একটি প্রসিদ্ধ ছোটগল্পে নাম লেখ। এই গল্পের উপসংহার কী ঘটেছে?
উ : পণপ্রথা নিয়ে রচিত রবীন্দনাথের প্রসিদ্ধ গল।প ‘দেনাপাওনা’। গল।পটির উপসংহারে রামসুন্দর মিত্রের আদরের কন্যা হতভাগ্যা নিরুপমার মৃত্যু বর্ণিত হয়েছে এবং তার স্বামীর বিবাহের সংবাদ জানানো হয়েছ।
প্র : রবীন্দ্রনাথের শেষপর্বেল ছোটগল্পগুলির একটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ কর এবং এই পর্যায়ের দুটি গল্পে নাম লিখন।
উ : রবীন্দ্রনাথের শেষপর্বেল ছোটগল্পগুলির প্রধান বৈশিষ্ট্য সময়ের প্রাসঙ্গিকতা মেনে মনস্তাত্ত্বিক দৃষ্টিতে নরনারীর সম্পর্কের বুদ্ধিদীপ্ত বিশ্লেষণ। এই পর্যায়ের দুটি গল্প রবিবার ও ল্যাবরেটরি।
প্র : ‘তিনসঙ্গী’ গল্প সংকলনে কটি গল।প আছে? গল্পগুলির নাম লেখ।
উ : রবীন্দ্রনাথের তিনসঙ্গী গল্প-সংকলনে তিনটি গল্প আছে-রবিবার, শেষকথা ও ল্যাবরেটরি।
প্র : ‘সে’ কোন ধরনের গ্রন্থ?
উ : ‘সে’ (১৯৩৭) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত গল্পগ্রন্থ। উদ্ভট ও অদ্ভুত, সম্ভব ও অসম্ভবের মিনে গল।পগুলি গঠিত। রবীন্দ্রনাথের লেখা ‘খাপছাড়া’ ও ‘ছড়ার ছবি’র কবিতার সঙ্গে এ গল।পগুলির যোগ সহজে লক্ষণীয়। গল।পগুলো শিশুদের ভালো লাগে।
প্র : ‘ছিন্নপত্র’ কাকে লেখা চিঠির সমাহার?
উ : ভ্রাতুষ্পুত্রী ইন্দিরা দেবীকে লেখা। ছিন্নপত্র প্রকাশ : ১৯১২।
প্র : ইন্দিরা দেবী সঙ্গে কার বিবাহ হয়?
উ : প্রথম চৌধুরীর। পথে তিনি ইন্দিরা দেবী চৌধুরাণী হন।
প্র : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আত্মজীবনী গ্রন্থের নাম লেখ।
উ : জীবনস্মৃতি (১৯১২)।
প্র : রবীন্দ্রনাথ কাজী নজরুলকে কোন গ্রন্থ উৎসর্গ করেন?
উ : বসন্ত (প্রকাশ : ফাল্গুন ১৩২৯, ১৯২৩) গীতিনাট্য।
প্র : কাজী নজরুল রবীন্দ্রনাথকে কী উৎসর্গ করেন?
উ : নজরুলের কাব্যরচনার শ্রেষ্ঠ সমাহার ‘সঞ্চিতা’।
প্র : রবীন্দ্রনাথের শ্রেষ্ঠ কাব্যসংকলনের নাম কি?
উ : সঞ্চয়িতা।
প্র : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কোন কোন পত্রিকা সম্পাদনা করেন?
উ : সাধনা (১৮৯৪), ভারতী (১৮৯৮), বঙ্গদর্শন (১৯০১), তত্ত্ববোধিনী (১৯১১)।
প্র : বাংলা সাহিত্যে প্রথম মনস্তাত্ত্বিক উপন্যঅসের নাম কী?
উ : চোখের বালি (১৯০৩)।
প্র : চোখের বালির প্রধান চরিত্রের নাম ?
উ : মহেন্দ্র, আশা, বিহারী, বিনোদিনী প্রমুখ।
প্র : রবীন্দ্রনাতের গদ্যকবিতা রচনা কোন গ্রন্থ দিয়ে মুরু?
উ : পুনশ্চ।
প্র : রবীন্দ্রনাতের কোন গান বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত?
উ : আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি গানের প্রথম ১০ পঙ্ক্তি।
প্র : এই গানটি রবীন্দ্রনাথের কোন গ্রন্থভুক্ত?
উ : গীতবিতানের স্বরবিতান অংশভুক্ত।
প্র : এই গানটি রবীন্দ্রনাথের কোন পর্যায়ের গান?
উ : স্বদেশ পর্যায়ের।
প্র : এই গানের সুরকার কে?
উ : রবীন্দ্রনাথ স্বয়ং। (এই গানে বাউল গগন হরকরার সুরের প্রভাব পড়েছিল।)
প্র : বাংলাদেশের কোন রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে এই সঙ্গীতের কত পঙ্ক্তি বাদ্যযন্ত্রে বাজান হয়?
উ : ৪ পঙ্ক্তি।
প্র : এই সঙ্গীত প্রথম কোথায়, কত সালে প্রকাশিত হয়।
উ : বঙ্গদর্শন পত্রিকায় ১৩১২ (১৯০৫) সালে।
প্র : ‘আমার সোনার বাংলা’ গান রচনার প্রেক্ষাপট বর্ণনা কর।
উ : বঙ্গভঙ্গ ছিল ব্রিটিশদের কাছে ভারতভাগের টেস্ট-কেস। রবীন্দ্রনাথ ভারতের কোনো রকম বিভক্তি চান নি। তাই তিনি ব্রিটিশদের ‘বঙ্গভঙ্গ’ প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করেন এবং এর প্রতিক্রিয়ায় বেশ কিছু দেশাত্মবোধক গান লেখেন। ‘আমার সোনার বাংলা’ এর একটি। বঙ্গভঙ্গ বিরোধীরা যখন তাদের আন্দোলনের সঙ্গে ধর্মের সম্পৃক্ততা করে, তখনই রবীন্দ্রনাথ এ কর্মকা- থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেন।
প্র : রবীন্দ্রনাথের কোন গানটি ভারতের জাতীয় সঙ্গীত হিসাবে গ্রহণ করা হয়েছে?
উ : জনগণমন অধিনায়ক জয় হে, ভারতভাগ্যবিধাতা।
প্র : রবীন্দ্রগল্পে কোন বিষয় প্রধানভাবে এসেছে?
উ : পদ্মাপারের মানুষের জীবনচিত্র এবং সাধারণ মানুষের সুখদুঃখ, বিরহমিলন।
প্র : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে কে প্রথম ‘বিশ্বকবি’ অভিধায় অভিষিক্ত করেন?
উ : পন্ডিত রোমান ক্যাথলিক ব্রহ্মবাদ্ধব উপাধ্যায়।
প্র : বিবিসির বাংলা বিভাগ পরিচালিত জরিপে (২০০৪) সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালির তালিকায় রবীন্দ্রনাথের স্থান কোথায় ?
উ :দ্বিতীয়।
প্র : কোন বাঙালি প্রথম গ্রামীণ ক্ষুদ্রঋণ ও গ্রাম উন্নয়ন প্রকল্প প্রতিষ্ঠা করেন?
উ : রবন্দ্রিনাথ ঠাকুর।
প্র : এর জন্য নিজ পুত্রকে তিনি কী করেন?
উ : এ জন্য তিনি পুত্র রথীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে আমেরিকার আরবানায় ইলিয়ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠান কৃষি ও পশুপারন বিদ্যায় প্রশিক্ষন ও উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে।
প্র : মৃত্যুর পরে রবীন্দ্রনাথের কোন গ্রন্থ প্রকাশিত হয়?
উ : মৃত্যুর পর রবীন্দ্রনাথের ছড়া (১৯৪১) ও শেষলেখা (১৯৪১) প্রকাশিত হয়।
প্র : প্রায়শ্চিত্ত নাটক ভেঙে রবীন্দ্রনাথ কোন্ নাটক রচনা করেছিলেন?
উ : ‘প্রায়শ্চিত্ত’ নাটক ভেঙে রবীন্দ্রনাথ ‘পরিত্রাণ’ নাটক রচনা করেছিলেন।
প্র : রবীন্দ্রনাথের কয়েকটি প্রেমের গল্পের নাম লেখ।
উ : রবীন্দ্রনাথের কয়েকটি প্রেমের গল্প হল-একরাত্রি, মহামায়া, মধ্যবর্তিনী, দুরাশা, শেষের রাত্রি, নিশীতে প্রবৃতি।
প্র : রবীন্দ্রনাথের একটি করে কাব্যনাট্য, রঙ্গনাট্য, রূপকনাট্য ও নৃত্যনাট্যের নাম লেখ।
উ : কাব্যনাট্য- গান্ধারীর আবেদন; রঙ্গনাট্য- গোড়ায় গলদ; রূপকনাট্য- অচলায়তন; নৃত্যনাট্য- চ-ালিকা।
প্র : রবীন্দ্রনাথ চিত্রচর্চা আরম্ভ করেন কবে ও কীভাবে?
উ : ষাটোত্তর বয়সে; লেখার কাটাকুটি থেকে।
প্র : তিনি তাঁর নিজের আঁকা ছবিগুলোকে কী বলেছেন?
উ : বেষ বয়সের প্রিয়া।
প্র : রবীন্দ্রনাথের চৈনিক নাম কী?
উ : চু চেন তান। অবশ্য বলে রাখা ভালো, কোনো মানুষেরই দেশ বা ভাষাভেদে নাম বদলাতে পারে না। কিন্তু রবীন্দ্রনাথের ক্ষেত্রে চায়নাতে ব্যাপারটি অন্যভাবে ঘটে। চু চেন তান অর্থ মেঘমন্দ্রিত প্রভাত। রবীন্দ্রনাথ (রবি+ইন্দ্র+নাথ)-এর অর্থগত ধারণা থেকে চিনদেশে কবির এ নামকরণ করেন বেইজিং বুদ্ধিজীবীদের সংস্থা ক্রিসেন্ট মুন সোসাইটি রবন্দ্রিনাথের ৬৩তম জন্মোৎসব উপলক্ষে এই নামকরণ হয়।
প্র : ইউরোপীয় সভ্যতার তথাকথিত বিস্তৃতি সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথের অভিমত কী?
উ : রবন্দ্রিনাথ বিভিন্ন দেশের স্ব-সংস্কৃতি ও নিজস্ব সভ্যতার বিলোপ ঘটিয়ে ইউরোফীয় সভ্যতার বিস্তৃতিকে নিরুৎসাহিত ও সমালোচনা করে লিখেছেন ‘য়ুরোপের বাইরে আত্মীয়মগুলে য়ুরোপীয় সভ্যতার মশালটি আলো দেখাবার জন্যে নয়, আগুন লাগাবার জন্যে।’ (-কালান্তর)
প্র : রবীন্দ্রনাথ কোন সময় থেকে নিজের নামের আগে ‘শ্রী’ লেখা ত্যাগ করেন?
উ : ১৩৩৯ বঙ্গাব্দের ভাদ্র মাস থেকে (অগস্ট ১৯৩২)। (সূত্র : প্রভাতকুমার মুকোপাধ্যায়, রবীন্দ্রজীবনী, ৩য় খন্ড)।
প্র : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কয়টি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন?
উ : নয়টি। এগুলো হলো : ভানুসিংহ ঠাকুর; অকপটচন্দ্র ভাস্কর; আন্নাকালী পাকড়াশী; দিকশূন্য ভট্টাচার্য; নবীনকিশোর শর্মণঃ; ষষ্ঠীচরণ দেবশর্মাঃ; বাণীবিনোদ বিদ্যাবিনোদ; শ্রীমতী কনিষ্ঠা; শ্রীমতী মধ্যমা।
প্র : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কোনো চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন কি?
উ : ‘চলচ্চিত্রে রবীন্দ্রনাথের অভিনয় : তপসী নাটকে অংশগ্রহণ’ শিরোনামে ১৯২৯ খ্রিষ্টাব্দের ৫ই ডিসেম্বর অমৃতবাজার পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হলেও বিদেশে চলে যাওয়ায় রবীন্দ্রনাথের পক্ষে ছবির শুটিঙে অংশ নেওয়া সম্ভব হয় নি। তবে ম্যুভি ক্যামেরার সেই প্রাথমিক যুগেও রবীন্দ্রনাথের নেতৃত্বে পরিচালিত ১৯০৫ খ্রিষ্টাব্দের ‘বঙ্গভঙ্গ বিক্ষোভ’ ধারণ করা এবং একই বছর ২১ ও ২২শে অক্টোবর কলকাতার ক্লাসিক থিয়েটারে সেই প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়। উল্লেখ্য, রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুর (৭ই অগস্ট ১৯৪১) পর তাঁর অন্তিমযাত্রার দৃশ্যও ম্যুভি ক্যামেরাতে ধারণ করে প্রামাণ্য চিত্র তৈরি হয়। তাছাড়া শান্তিনিকেতনে থাকাকালে বিভিন্ন মনীষীদের সঙ্গেও কবির কিছু দৃশ্য ধারণ করা আছে। ১৯৩০ খ্রিষ্টাব্দে জার্মানিতে তিনি ‘দি চাইল্ড’ (শিশুতীর্থ) আবৃত্তি করেন। সবাক ম্যুভিতে সেটি পরে পরিবেশিত হয়।
প্র : রবীন্দ্রসাহিত্যের প্রথম চলচ্চিত্রায়ন কোনটি?
উ : রবীন্দ্র-ছোটগল্প ‘মানভঞ্জন’ অবলম্বনে তাজমহল ফিল্ম কোম্পানির ব্যানারে নরেশ মিত্রের পরিচালনায় একই নামে একটি চলচ্চিত্র ১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দে মুক্তি পায়। এ চলচ্চিত্রের সূচনাতে গল্পকার রবীন্দ্রনাথকে পর্দায় দেখানো হয়েছে। ১৯৩০ খ্রিষ্টাব্দে ‘মানভঞ্জন’ গল্প ‘গিরিবালা’ নামে মধু বসুর পরিচালনায় দ্বিতীয় বার চলচ্চিত্রায়ন হয়। এর উদ্বোধনী শো-তে রবীন্দ্রনাথ উপস্থিত ছিলেন।
প্র : অশ্লীলতার অভিযোগে রবীন্দ্র-গল্পের কোন চলচ্চিত্র নিষিদ্ধ হয়?
উ : শিশির ভাদুড়ীর পরিচালনায় রবীন্দ্র-ছোটগল্প ‘বিচারক’ চলচ্চিত্রায়িত হয়ে ১৯২৮ খ্রিষ্টাব্দে মুক্তি পায়। মুক্তির পর পরই অশ্লীলতার কারণে ছবিটি নিষিদ্ধ হয়। উল্লেখ্য, এটি ছির গল্পের নির্বাক চিত্ররূপ।
প্র : রবীন্দ্রনাথ পরিচারিত নাট্যচিত্র কোনটি?
উ : নীতিন বসুর ক্যামেরায় রবীন্দ্রনাথ নিজের লেখা ‘নটীর পূজা’র সবাক নাট্যচিত্র পরিচালনা করেন ১৯৩২ খ্রিষ্টাব্দে। এতে অংশ নেয় শান্তিনিকেতনের ছাত্রছাত্রীরা। নিউ থিয়েটার্স স্টুডিওতে এ নাট্যচিত্রের শুটিং হয়। উল্লেখ্য, ১৯৩১ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতায় মুক্তি পায়। প্রথম বাংলা সবাকচিত্র ‘জামাইষষ্ঠী’।
প্র : হিন্দি কোন চলচ্চিত্রের পৃষ্ঠপোষক ছিরেন রবীন্দ্রনাথ?
উ : ‘অচ্ছ্যুৎ কন্যা”। ছবিটি ১৯৩৭ খ্রিষ্টাব্দে মুক্তি পায়।
প্র : রবীন্দ্র-উপন্যাসের কোন চলচ্চিত্রে নজরুল সঙ্গীত পরিচালক ছিলেন?
উ : রবীন্দ্রনাথের ‘গোরা’ উপন্যাস অবলম্বনে ১৯৩৮ খ্রিষ্টাব্দে একই নামে মুক্তি পায় একটি চলচ্চিত্র। এ ছবির একটি গান রচনা, একটি গানের সুর দেওয়া ছাড়াও ছবিটির সার্বিক সঙ্গীত পরিচালনা করেন কাজনী নজরুল ইসলাম।
প্র : রবীন্দ্রনাথ কি বিজ্ঞাপনের মডেল হয়েছিলেন?
উ : আজকের ভাষায় তাঁকে ‘মডেল’ বলা যেতেই পারে। ১৯৩২ খ্রিষ্টাব্দের ১৯শে ডিসেম্বর কলকাতা কর্নওয়ালিশ স্ট্রিটে স্থাপিত একটি প্রেক্ষাগৃহের উদ্বোধন করেন রবীন্দ্রনাথ। প্রেক্ষাগৃহের নাম ‘রূপবাণী’ (‘টকি ফিল্ম’-এর অনুসরণে) রবীন্দ্রনাথের দেওয়া। প্রেক্ষাগৃহটি উদ্বোধনের আগে কলকাতার বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় রবীন্দ্রনাথের ছবি এবং হস্তুলেখা সরাসরি মুদ্রিত করে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়্ এতে ছাপা ছিল : ‘‘কর্নওয়ালিশ স্ট্রিটের প্রেক্ষাগৃহের নামকরণ করিলাম ‘রূপবাণী’।-রবন্দ্রিনাথ ঠাকুর (স্বাক্ষর)”। বিজ্ঞাপনটি তৎকালে সুধীমহলে আগ্রহ ও গুঞ্জনের সৃষ্টি করেছিল।
প্র : রবীন্দ্রনাথ সাজাদপুরে কখন আসেন?
উ : ১৮৯০ খ্রিষ্টাব্দে।
প্র : এ সময় তিনি কোন কাব্য রচনা করেন?
উ : সোনারতরী।
প্র : রবীন্দ্রনাথ কত তারিখে মৃত্যুবরণ করেন?
উ : ১৯৪১ খ্রিষ্টাব্দের ৭ই অগস্ট অনুসারে ১৩৪৮ বঙ্গাব্দের ২২শে শ্রাবণ, দুপুর ১২টা ১০মিনিটে।
প্র : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কত বার ঢাকায় আসেন?
উ : ২ বার।
প্র : কোন কোন সালে রবীন্দ্রনাথ ঢাকায় আসেন?
উ : ১৮৯৮ সালে প্রথমবার; ১৯২৬ সালে দ্বিতীযবার।
প্র : রবীন্দ্রনাথকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আনার ব্যাপারে কে উদ্যোগী ভূমিকা পালন করেন?
উ : জগন্নাথ হলের তৎকালনি প্রভোস্ট এবং পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বাঙালি উপাচার্য ড. রমেশচন্দ্র মজুমদার।
প্র : কত তারিখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রবীন্দ্রনাথ তাঁর প্রথম বক্তৃতা দেন; কোথায়?
উ : ১৯২৬ সালের ১০ই ফেব্রুয়ারি; কার্জল হলে।
প্র : এই বক্তৃতার শিরোনাম কী ছিল ?
উ : The Meaning of Art.
প্র : কত তারিখে তিনি দ্বিতীয় বক্তৃতা দান করেন?
উ : ১৯২৬ সালের ১৩ই ফেব্রুয়ারি।
প্র : রবীন্দ্রনাথের দ্বিতীয় বক্তৃতার শিরোনাম কি ছিল?
উ : The Rule of the Giant.
প্র : এই বক্তৃতা কোন স্থানে অনুষ্ঠিত হয়?
উ : প্রথম বক্তৃতার মত দ্বিতয়ি বক্তৃতাও হয় কার্জন হলে।
প্র : উক্ত বক্তৃতাদ্বয়ের অনুষ্ঠানে কে সভাপতিত্ব করেন?
উ : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য ড. জি এইচ ল্যাংলি।
প্র : কত তারিখে রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মুসরিম হলের (বর্তমানে সমিমুল্লাহ হল) ছাত্রদের সংবর্ধনায় যোগ দেন?
উ : ১৯২৬ সালের ১০ই ফেব্রুয়ারি।
প্র : উক্ত সংবর্ধনায় ছাত্রদের দেয়া শ্রদ্ধাপত্রের শেষে কি প্রার্থনা ছিল?
উ : ‘আশীর্বাদ কর, তোমার স্মৃতি যেন তরুণ এই মুসলিম হলের অন্তরে চিরদিন রস ও নবনব কর্মপ্রেরণা সঞ্চার করে।’
প্র : রবীন্দ্রনাথকে মুসলিম হলে দেয়া এই সংবর্ধনার সংবাদ সমকালনি কোন দুটি সংবাদপত্রে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশিত হয়?
উ : ‘দি মুসলমান’ এবং ‘অমৃতবাজার পত্রিকা’য়।
প্র : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের ছাত্রদের অনুরোধে রবীন্দ্রনাথ কোন গীতিকবিতা রচনা করেন?
উ : বাসন্তিকা নামের গীতিকবিতা।
প্র : গীতিকবিতাটির প্রথম পঙ্ক্তি চারটি কী?
উ : এই কথাটি মনে রেখো/তোমাদের এই হাসি খেলায়/আমি এ গান গেয়েছিলেম/জীর্ণ পাতা ঝরার বেলায়।
প্র : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রবীন্দ্রনাথকে কী ডিগ্রি প্রদান করে?
উ : ডক্টর অব লিটারেচার (ডি.লিট)।
প্র : কত তারিখে, কীভাবে এই ডিগ্রি প্রদান করা হয়?
উ : ১৯৩৬ সালের ২৯শে জুলাই, বিশেষ সমাবর্তনের মাধ্যমে।
প্র : রবীন্দ্রনাথ কি এই সমাবর্তনে উপস্থিত ছিরেন?
উ : না। অসুস্থতার কারণে রবীন্দ্রনাথ এই সমাবর্তনে উপস্থিত থাকতে পারেন নি।
প্র : রবীন্দ্রনাথকে যখন ডি.লিট ডিগ্রি দেয়া হয়, তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কে ছিলেন?
উ : এ. এফ. রহমান।


দয়া করে পোস্টটি শেয়ার করুন...

© BengaliGrammar.Com
Maintenance by BengaliGrammar.Com