বৃহস্পতিবার, ০৯ Jul ২০২০, ১১:৩১ অপরাহ্ন

প্র : শওকত আলি কবে, কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
উ : ১৯৩৬ সালের ১২ই জানুয়ারি, দিনাজপুরে।
প্র : তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থগুলোর নাম কী?
উ : উপন্যাস : পিঙ্গল আকাশ (১৯৩৬), যাত্রা (১৯৭৬), প্রদোষে প্রাকৃতজন (১৯৮৪), দক্ষিণায়নের দিন (১৯৮৫), কুলায় কালস্রোত (১৯৮৬), পূর্বরাত্রি পূর্বদিন (১৯৮৬), যেতে চাই (১৯৮৮), ওয়ারিশ (১৯৮৯), বাসর মধুচন্দ্রিমা (১৯৯০), উত্তরের খেপ (১৯৯২), হিসাবনিকাশ (১৯৯৮), দলিল (২০০১), উপরে ছাপ (২০০২) ইত্যাদি। গল্প : উন্মুল বাসনা (১৯৬৮), লেলিহান স্বাদ (১৯৭৮), শুন হে লক্ষিন্দর (১৯৮৮), বাবা আপনে যান (১৯৯৪)।
প্র : প্রদোষে প্রাকৃতজনের বিষয় কী?
উ : এই উপন্যাসে রাজা লক্ষ্মণ সেনের সময়ের সমাজ ও মানুষের দ্বন্দ্ব তুলে ধরা হয়েছে।
প্র : ‘প্রদোষে প্রাকৃতজন’ উপন্যাসের পরিচয় দাও।
উ : ‘প্রদোষে প্রাকৃতজন’ (১৯৮৪) শওকত আলি রচিত একটি উপন্যাস। সেন রাজাদের রাজত্বকাল এবং তুর্কি আক্রমণের অব্যবহিত পূর্ব সময়ের পটভূমিতে এই কাহিনি রচিত। অত্যাচারী সামন্তবর্গের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে অন্ত্যজ হিন্দু এবং বৌদ্ধের দল। এই উপন্যাসের সময় ধরা হয়েছে রাজা লক্ষ্মণ সেনের রাজত্বকাল। সামাজিক বৈষম্য, অর্থনৈতিক টানাপোড়েন বিশেষ করে আর্য ও অনার্য মানুষের মধ্যে পারস্পরিক অসাম্য এ উপন্যাসের বিষয়। মানুষের মধ্যে বিভেদ ও অনৈক্য ছিল চরমে। উপন্যাসে কোনো একক ব্যক্তিকে নায়ক করা হয় নি। প্রাকৃতজন অর্থাৎ বাংলার গণমানুষ সমষ্টিগতভাবে এই উপন্যাসে নাযক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। উপন্যাসটির ভাষা এর প্রধান সম্পদ। সঙ্গতি বিধানের লক্ষ্যে একাদশ শতাব্দীর অন্তিম কালের ভাষারূপ উপন্যাসে ব্যবহৃত হয়েছে। এর ফলে পাটক উপন্যাসটি পাঠকালে সত্যি যেন লক্ষ্মণ সেনের ওই সময়ে ফিরে যান।
প্র : ‘ওয়ারিশ’ উপন্যাস সম্পর্কে লেখ।
উ : শওকত আলী রচিত ‘ওয়ারিশ’ (১৯৮৯) উপন্যাসটি মহাকাব্যিক ব্যাপ্তি আছে। অতীত থেকে বর্তমান হয়ে ভবিষ্যতের দিকে যেতে হয়। এরই নাম মানব সভ্যতার ইতিহাস, যাকে বলা যায় ক্রমবিকাশ। আর কথাশিল্পী শওকত আলী রনজু চরিত্রর মাধ্যমে উপর্যুক্ত ব্যক্তি, সমাজ ও জাতির ধারাবাহিকতাই প্রকাশ করেছেন অনবদ্য গদ্যশৈলীতে।
প্র : ‘উত্তরের খেপ’ উপন্যাসের পরিচয় দাও।
উ : ট্রাক ড্রাইভার বাবা ও বিহারি মায়ের সন্তান হায়দারের সাথে বিয়ে হয় বড়লোকের নাতনী মরিয়মের। কিন্তু কিছু দনি পরে আবার মরিয়মের বিয়ে হয় এক অসৎচরিত্র, কুচক্রীর সঙ্গে। এরকম পরিস্থিতিতে তৃতীয় চরিত্র মিঠুকে দাঁড় করিয়ে এক প্রাণবন্তকর কাহিনি নির্মাণ করে শওকত আলী রচনা করেন ‘উত্তরের খেপ’ (১৯৯২) উপন্যাসটি। এ উপন্যাসটি আমাদের গ্রামীণ বাস্তবতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
প্র : তিনি কী কী পুরস্কার লাভ করেন?
উ : বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬৮), আলাওল সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৯), একুশে পদক (১৯৯০)।


দয়া করে পোস্টটি শেয়ার করুন...

© BengaliGrammar.Com
Maintenance by BengaliGrammar.Com