রবিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২০, ১১:১২ পূর্বাহ্ন

প্র : সমরেশ বসু কত সনে জন্মগ্রহণ করেন?
উ : ১১ই ডিসেম্বর, ১৯২৪।
প্র : তাঁর জন্মস্থান কোথায়?
উ : রাজানগর গ্রাম, বিক্রমপুর,-মুন্সিগঞ্জ।
প্র : তাঁর উপন্যাসের মূল বিষয় কী?
উ : ব্রাত্যজীবন, সমাজের বিকৃতরূফ উন্মোচন ইত্যাদি।
প্র : তাঁর গ্রন্থসমূহের নাম কী?
উ : গঙ্গা (১৯৫৫), প্রজাপতি (১৯৬৭), বিবর (১৯৬৫), শ্রীমতী ক্যাফে (১৯৫৪), বিটি রোডের ধারে (১৯৫৩), দেখি নাই ফিরে ইত্যাদি।
প্র : ‘উত্তরঙ্গ’ উপন্যাসের পরিচয় দাও।
উ : ‘উত্তরঙ্গ’ (১৯৫১) ঊনবিংশ শতাব্দীতে বাংলাদেশে পাটকল শুরু হওয়া এবং তার সঙ্গে জড়িত শ্রমিক শ্রেণির জীবন নির্ভর উপন্যাস। ফরাশডাঙার নিকটবর্তী গ্রামাঞ্চলের সুখদুঃখ, সমাজের পরিবর্তনের কাহিনির এক বিশ্বাস পরিচয় এখানে আছে।
প্র : ‘জগদ্দল’ উপন্যাসের পরিচয় দাও।
উ : ‘গজদ্দল’ (১৯৬৬) উপন্যাসের মূল উপজীব্য বাংলাদেশে শিল্পায়নের ইতিহাস ও তার সঙ্গে জড়িত অর্থনৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধে রসঙ্গে পরিবর্তিত সমাজের টানাপোড়ন। এটা পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগণা জেলার জগদ্দল অঞ্চলের চটকলের প্রতিষ্ঠা এবং কারখানা সংলগ্ন জনপদের আখ্যান। ‘উত্তরঙ্গ’ নামক উপন্যাসের এটি পরবর্তী খন্ড বলা চলে। উত্তরঙ্গের কাল ছিল আঠাশো ষাট থেকে আশি-বিরাশি, জগদ্দলের কাল শুরু হয়েছে তারপর থেকে। ইউরোপীয় ও ভারতীয় বহু চরিত্রের সমাবেশ এখানে। বাংলা উপন্যঅসের এই রকম চরিত্র বৈচিত্র্য এবং অভিজ্ঞতার প্রয়োগ বিরল। অনেকের মতে, ‘জগদ্দল’ই সমরেশ বসুর শ্রেষ্ঠ রচনা।
প্র : ‘গঙ্গা’ উপন্যাসের পরিচয় দাও।
উ : ‘গঙ্গা’ (১৯৫৭) দক্ষিণবঙ্গের নদীনালা এবং মৎসজীবী মানুষের সুখদুঃখ, জীবনযাপনের সংগ্রাম, প্রকৃতির কঠোরতা এবং সামাজিক জীবনের বৈষম্য নিয়ে স্থির, নিশ্চিত মধ্যবিত্ত জীবনের নিরাপত্তার এক বিপরীত আখ্যান। এর একদিকে আছে বাস্তব তথ্যের প্রতি নিষ্ঠা, অন্যদিকে আছে মৃত্যু ও
অস্তিত্বের সংগ্রামের এক মানবিক উপলব্ধি। ‘গঙ্গা’ সমরেশ বসুর শ্রেষ্ঠ রচনাগুলির অন্যতম।
প্র : ‘বিবর’ উপন্যাসের পরিচায় দাও।
উ : ‘বিবর’ (১৯৬৫) উপন্যাসে প্রবল ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য ও বিচ্ছিন্নতাবোধ প্রতিষ্ঠিত মূল্যবোধের প্রতি অনির্ভরতা ওপ পাপ পুণ্যবোধের অতিশায়ী এক নীতিশূন্যতা এই কাহিনীটকে বিশিষ্টতা দিয়েছে। সমকালে নিন্দিত এবং পরে প্রবলভাবে অভিনন্দিত এই উপন্যাস সমরেশ বসুর অন্যতম শ্রেষ্ঠ রচনা।
প্র : ‘অমৃত কুম্ভের সন্ধানে’ উপন্যাস সম্পর্কে লেখ।
উ : ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত ‘অমৃত কুম্ভের সন্ধানে’ উপন্যাসের মধ্য দিয়ে ‘কালকূট’ ছদ্মনামে সমরেশ বসুর উপন্যাস রচনার সূত্রপাত। একই সঙ্গে তিনি মার্কসবাদ থেকে ঝুঁকলের অধ্যাত্মবাদের. দিকে। প্রতি বচর প্রয়োগের ত্রিবেণী সঙ্গমে যে কুম্ভুমেলঅ হয় এবং সেখানে ভারববর্ষের সকল স্তরের মানুষের যে সমাবেশ ঘটে, সেই মিলনমেলাই উপন্যাসটির বিষয়বস্তু। আর তাতে অভিব্যক্ত হয়েছে মানুষের বিশ্বাসের সংকট থেকে উত্তরণের আকুতি।
প্র : তাঁর উপন্যঅসের কোন দিকটি দৃশ্যমান?
উ : মানুষের শাশ্বত বেদনা, গ্লানি, মানুষ হবার দায় এবং সংকল্প।
প্র : তিনি কোন ছদ্মনামে লিখতেন?
উ : কালকূট।
প্র : অশ্লীলতার অভিযোগে তাঁর কোন উপন্যাসের বিরুদ্ধে মামলা হয়।
উ : প্রজাপতি। অশ্লীলতা আছে বলে চিবারে প্রমাণিত হয় নি।
প্র : তিনি কী কী পুরস্কার লাভ করেন?
উ : আনন্দ পুরস্কার (১৯৫৫), সাহিত্য আকাডেমি পুরস্কার (১৯৮০)।
প্র : তিনি কত সনে মৃত্যুবরণ করেন?
উ : ১২ই মার্চ, ১৯৮৮।


পোস্টটি শেয়ার করুন...

© BengaliGrammar.Com
Maintenance by BengaliGrammar.Com